ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ মাঘ, ১৪৩২, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

বেলকুচি মডেল ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষকের দুই পরীক্ষার্থী দুইজনে ফেল

সময় বাংলার ||

২০ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:২১ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

বেলকুচি মডেল ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষকের দুই পরীক্ষার্থী দুইজনে ফেল

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বেলকুচি মডেল ডিগ্রি কলেজে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এবারের ফলাফল দেখে স্তম্ভিত হয়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। প্রতিষ্ঠার ২৮ বছরে এটাই কলেজটির সবচেয়ে ভয়াবহ ফলাফল।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বেলকুচি মডেল ডিগ্রি কলেজ থেকে মোট ৩১৬ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে মাত্র ৫৭ জন পাস করেছে, ফলে কলেজটির মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৮.০৪ শতাংশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফলাফল প্রকাশের পর কলেজ ও আশপাশের এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের ঝড়।

অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ- শিক্ষক-শিক্ষিকার উদাসীনতা, নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া এবং কলেজে শৃঙ্খলার অভাবের কারণে এমন বিপর্যয়কর ফলাফল হয়েছে। তারা বলেন, “একসময় জেলার অন্যতম সেরা কলেজ ছিল বেলকুচি মডেল ডিগ্রি কলেজ, অথচ এখন এটি উপজেলার সবচেয়ে দুর্বল কলেজে পরিণত হয়েছে।”

অভিভাবকরা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্য, কমার্স বিভাগে তিনজন শিক্ষক থাকলেও দুইজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়, দুজনই ফেল করেছে! সাইন্স বিভাগের ১২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। এটা কলেজের জন্য লজ্জাজনক।”

তাদের দাবি, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অবহেলা, শিক্ষকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও ক্লাস না নেওয়ার প্রবণতার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কলেজে নিয়মিত ক্লাস হয় না। শিক্ষকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে। অনেক শিক্ষক ঠিকমতো ক্লাসে না গিয়ে অফিস রুমে বসে থাকেন। ক্লাসে ছাত্রছাত্রী কম থাকলে তারা ক্লাস নেওয়ার আগ্রহও দেখান না।” এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামীম হোসেন বলেন, “হ্যাঁ, কলেজের ফলাফল ভালো হয়নি। ৩১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫৭ জন পাস করেছে। অনেক শিক্ষার্থী বই কেনে না, ক্লাসেও নিয়মিত আসে না। এমন অবস্থায় ভালো রেজাল্ট আশা করা যায় না। আমার মনে হয়, যদি আরও কম সংখ্যক পাস করত, তাহলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার গুরুত্ব বুঝতে পারত।”

অন্যদিকে, কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান আলিম বর্তমানে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা-মদিনায় অবস্থান করছেন। ফলে তাঁর মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বেলকুচি উপজেলার শিক্ষাপ্রেমী মহল মনে করছেন, একসময় জেলার গর্ব ছিল বেলকুচি মডেল ডিগ্রি কলেজ। কিন্তু ধারাবাহিক অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উদাসীনতায় প্রতিষ্ঠানটি এখন ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে। তারা অবিলম্বে কলেজের শিক্ষা পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ /প্রতিনিধিঃ

<p style="text-align: left;"><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>বেলকুচি মডেল ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষকের দুই পরীক্ষার্থী দুইজনে ফেল</strong></span></p><p style="text-align: left;"><strong>সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বেলকুচি মডেল ডিগ্রি কলেজে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এবারের ফলাফল দেখে স্তম্ভিত হয়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। প্রতিষ্ঠার ২৮ বছরে এটাই কলেজটির সবচেয়ে ভয়াবহ ফলাফল।</strong></p><p style="text-align: left;">কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বেলকুচি মডেল ডিগ্রি কলেজ থেকে মোট ৩১৬ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে মাত্র ৫৭ জন পাস করেছে, ফলে কলেজটির মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৮.০৪ শতাংশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফলাফল প্রকাশের পর কলেজ ও আশপাশের এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের ঝড়।</p><p style="text-align: left;">অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ- শিক্ষক-শিক্ষিকার উদাসীনতা, নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া এবং কলেজে শৃঙ্খলার অভাবের কারণে এমন বিপর্যয়কর ফলাফল হয়েছে। তারা বলেন, “একসময় জেলার অন্যতম সেরা কলেজ ছিল বেলকুচি মডেল ডিগ্রি কলেজ, অথচ এখন এটি উপজেলার সবচেয়ে দুর্বল কলেজে পরিণত হয়েছে।”</p><p style="text-align: left;">অভিভাবকরা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্য, কমার্স বিভাগে তিনজন শিক্ষক থাকলেও দুইজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়, দুজনই ফেল করেছে! সাইন্স বিভাগের ১২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। এটা কলেজের জন্য লজ্জাজনক।”</p><p style="text-align: left;">তাদের দাবি, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অবহেলা, শিক্ষকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও ক্লাস না নেওয়ার প্রবণতার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কলেজে নিয়মিত ক্লাস হয় না। শিক্ষকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে। অনেক শিক্ষক ঠিকমতো ক্লাসে না গিয়ে অফিস রুমে বসে থাকেন। ক্লাসে ছাত্রছাত্রী কম থাকলে তারা ক্লাস নেওয়ার আগ্রহও দেখান না।” এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামীম হোসেন বলেন, “হ্যাঁ, কলেজের ফলাফল ভালো হয়নি। ৩১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫৭ জন পাস করেছে। অনেক শিক্ষার্থী বই কেনে না, ক্লাসেও নিয়মিত আসে না। এমন অবস্থায় ভালো রেজাল্ট আশা করা যায় না। আমার মনে হয়, যদি আরও কম সংখ্যক পাস করত, তাহলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার গুরুত্ব বুঝতে পারত।”</p><p style="text-align: left;">অন্যদিকে, কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান আলিম বর্তমানে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা-মদিনায় অবস্থান করছেন। ফলে তাঁর মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।</p><p style="text-align: left;">বেলকুচি উপজেলার শিক্ষাপ্রেমী মহল মনে করছেন, একসময় জেলার গর্ব ছিল বেলকুচি মডেল ডিগ্রি কলেজ। কিন্তু ধারাবাহিক অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উদাসীনতায় প্রতিষ্ঠানটি এখন ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে। তারা অবিলম্বে কলেজের শিক্ষা পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।</p><p><span style="color: rgb(251, 140, 0);"><strong>সিরাজগঞ্জ /প্রতিনিধিঃ</strong></span></p>

জেলার খবর

play storeapp store