ঢাকা, শুক্রবার, ২০ চৈত্র, ১৪৩২, ৩ এপ্রিল ২০২৬

টাঙ্গাইলের সখীপুরের ফাইলা পাগলার মেলা বন্ধ ঘোষণা

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:০৩ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

টাঙ্গাইলের সখীপুরের ফাইলা পাগলার মেলা বন্ধ ঘোষণা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি |

টাঙ্গাইলের সখীপুরের ঐতিহ্যবাহী ফাইলা পাগলার মেলা উপজেলা প্রশাসন হতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যে যেকোনো বড় ধরনের জনসমাগম ও দীর্ঘ মেয়াদি উৎসব বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামে ফাইলা পাগলার মাজার প্রাঙ্গনের মাঠে।অভিযানের নেতৃত্ব দেন সখীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন্নাহার শিলা। এসময় তিনি মেলায় বসা দোকান-পাট দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরিয়ে ফেলা ও জনসমাগম বন্ধের নির্দেশ দেন।এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হেলাল উদ্দীন ও সেনা কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগন।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন্নাহার শিলা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সর্ব সাধারণকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের নির্দেশে সকলকে জনসমাগম থেকে বিরত থেকে সহযোগিতার আহবান জানান।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর ও বাসাইল উপজেলার সীমান্তবর্তী সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামে আধ্যাত্তিক সাধক ফাইলা পাগলার (ফালুচাঁন শাহ) মাজার প্রাঙ্গনে প্রায় শত বছর যাবৎ পৌষ মাসে মাসব্যাপী মেলা বসে।দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা তাদের মানতকৃত মোরগ, খাঁসি, গরু ও শিরনিসহ বিভিন্নরকম পণ্য সামগ্রী নিয়ে নেচে নেচে ঢোল পিটিয়ে ‘হেল ফাইলা হেল ফাইলা, ফাইলা নাচে না আমি নাচি এই শব্দে মুখর করে তোলেন।২০০৩ সালে মেলায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটে।বোমা হামলায় বিপুল সংখ্যক মানুষ হতাহত হন।টাঙ্গাইলে ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত ॥ মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল পৌষের মাঝামাঝি সময়ে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে টাঙ্গাইলের দিগন্ত।বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোররাত থেকেই জেলা শহরসহ ১২টি উপজেলার পথঘাট ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। এদিকে, বেলা বাড়ার পরও সূর্যের কোন দেখা না মিলায় কুয়াশার দাপট পুরোপুরি কাটেনি।এদিন সকাল থেকে যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। কুয়াশার তীব্রতায় দৃষ্টিসীমা কমে আসায় চালকরা হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকগুলো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা দেরি করছে। মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

মহাসড়কে চলাচলকারী নাদের পরিবহনের চালক সুমন মিয়া জানান, ঢাকা থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন। মহাসড়কে ভোর থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কুয়াশা পড়েছে। ফলে গাড়ি চালাতে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। অতিরিক্ত ঘনকুয়াশার কারণে সামনে কি আছে তা সহজে বোঝাও যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে হেডলাইট জ¦ালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। সিলেট থাকা আসা পাবনাগামী ট্রাক চালক আব্দুল মোমেন জানান, ঘন কুয়াশার কারণে সামনে কী আছে তা বোঝা মুশকিল হয়ে পড়েছে। ধীর গতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পূর্ব পর্যন্ত মহাসড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি। এ কারণে হেডলাইন জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।যমুনা নদীবেষ্টিত ভূঞাপুর ও কালিহাতী উপজেলার অংশে ঘন কুয়াশার কারণে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যমুনা বহমুখী সেতু এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোও ধীরগতিতে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও কৃষকরা। প্রচণ্ড ঠান্ডায় বোরো ধানের চারা রোপণ ও সবজি ক্ষেতের পরিচর্যা করতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষি শ্রমিকরা। কৃষি বিভাগ থেকে কুয়াশাজনিত রোগবালাই থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।যমুনা সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি জানান, অতিরিক্ত কুয়াশা থাকলেও স্বাভাবিক মতোই যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া মহাসড়কে দুর্ঘটনারোধে সার্বক্ষণিক পুলিশ কাজ করছে।টাঙ্গাইল আবহাওয়া অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যবেক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইল জেলাতেও গত কয়েকদিন ধরে অতিরিক্ত কুয়াশা পড়ছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) টাঙ্গাইলে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি জানান, আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>টাঙ্গাইলের সখীপুরের ফাইলা পাগলার মেলা বন্ধ ঘোষণা</strong></span></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>টাঙ্গাইল প্রতিনিধি |</strong></span></p><p><strong>টাঙ্গাইলের সখীপুরের ঐতিহ্যবাহী ফাইলা পাগলার মেলা উপজেলা প্রশাসন হতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যে যেকোনো বড় ধরনের জনসমাগম ও দীর্ঘ মেয়াদি উৎসব বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামে ফাইলা পাগলার মাজার প্রাঙ্গনের মাঠে।অভিযানের নেতৃত্ব দেন সখীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন্নাহার শিলা। এসময় তিনি মেলায় বসা দোকান-পাট দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরিয়ে ফেলা ও জনসমাগম বন্ধের নির্দেশ দেন।এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হেলাল উদ্দীন ও সেনা কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগন।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন্নাহার শিলা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সর্ব সাধারণকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের নির্দেশে সকলকে জনসমাগম থেকে বিরত থেকে সহযোগিতার আহবান জানান। </strong></p><p>উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর ও বাসাইল উপজেলার সীমান্তবর্তী সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামে আধ্যাত্তিক সাধক ফাইলা পাগলার (ফালুচাঁন শাহ) মাজার প্রাঙ্গনে প্রায় শত বছর যাবৎ পৌষ মাসে মাসব্যাপী মেলা বসে।দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা তাদের মানতকৃত মোরগ, খাঁসি, গরু ও শিরনিসহ বিভিন্নরকম পণ্য সামগ্রী নিয়ে নেচে নেচে ঢোল পিটিয়ে ‘হেল ফাইলা হেল ফাইলা, ফাইলা নাচে না আমি নাচি এই শব্দে মুখর করে তোলেন।২০০৩ সালে মেলায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটে।বোমা হামলায় বিপুল সংখ্যক মানুষ হতাহত হন।টাঙ্গাইলে ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত ॥ মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল পৌষের মাঝামাঝি সময়ে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে টাঙ্গাইলের দিগন্ত।বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোররাত থেকেই জেলা শহরসহ ১২টি উপজেলার পথঘাট ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। এদিকে, বেলা বাড়ার পরও সূর্যের কোন দেখা না মিলায় কুয়াশার দাপট পুরোপুরি কাটেনি।এদিন সকাল থেকে যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। কুয়াশার তীব্রতায় দৃষ্টিসীমা কমে আসায় চালকরা হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকগুলো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা দেরি করছে। মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।</p><p>মহাসড়কে চলাচলকারী নাদের পরিবহনের চালক সুমন মিয়া জানান, ঢাকা থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন। মহাসড়কে ভোর থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কুয়াশা পড়েছে। ফলে গাড়ি চালাতে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। অতিরিক্ত ঘনকুয়াশার কারণে সামনে কি আছে তা সহজে বোঝাও যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে হেডলাইট জ¦ালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। সিলেট থাকা আসা পাবনাগামী ট্রাক চালক আব্দুল মোমেন জানান, ঘন কুয়াশার কারণে সামনে কী আছে তা বোঝা মুশকিল হয়ে পড়েছে। ধীর গতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পূর্ব পর্যন্ত মহাসড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি। এ কারণে হেডলাইন জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।যমুনা নদীবেষ্টিত ভূঞাপুর ও কালিহাতী উপজেলার অংশে ঘন কুয়াশার কারণে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যমুনা বহমুখী সেতু এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোও ধীরগতিতে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও কৃষকরা। প্রচণ্ড ঠান্ডায় বোরো ধানের চারা রোপণ ও সবজি ক্ষেতের পরিচর্যা করতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষি শ্রমিকরা। কৃষি বিভাগ থেকে কুয়াশাজনিত রোগবালাই থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।যমুনা সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি জানান, অতিরিক্ত কুয়াশা থাকলেও স্বাভাবিক মতোই যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া মহাসড়কে দুর্ঘটনারোধে সার্বক্ষণিক পুলিশ কাজ করছে।টাঙ্গাইল আবহাওয়া অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যবেক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইল জেলাতেও গত কয়েকদিন ধরে অতিরিক্ত কুয়াশা পড়ছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) টাঙ্গাইলে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি জানান, আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।</p>

জেলার খবর

play storeapp store