ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ মাঘ, ১৪৩২, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রশাসনে এখনো বহাল তবিয়তে আওয়ামী লীগের দোসররা: সংস্কার ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা |
সময় বাংলার ||
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
প্রশাসনে এখনো বহাল তবিয়তে আওয়ামী লীগের দোসররা: সংস্কার ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা |
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | সময় বাংলার |
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনের অবসান ঘটলেও প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনো রয়ে গেছেন সেই শাসনামলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত ব্যাপক রদবদল করা হলেও, গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদে এখনো আওয়ামী লীগের 'দোসর' হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের দাপট কমেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্রমতে, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদের সিএ মোঃ আবু তাহের বিগত সরকারের সময় দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছিলেন, সে এখনো বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছেন। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদের মত গুরুত্বপূর্ণ শাখায় এখনো এমন সব কর্মকর্তা কাজ করছেন জিনি গত ১৫ বছর ধরে বিরোধী দল দমনে এবং বিতর্কিত নির্বাচনগুলোতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন।
এবিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম অনেকেই বারবার দাবি তুলেছেন যে, ফ্যাসিবাদের দোসরদের প্রশাসনে রেখে দেশ সংস্কার সম্ভব নয়। তারা বলছেন, এই কর্মকর্তারা ভেতরে থেকে সরকারকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। অতি দ্রুত এদের চিহ্নিত করে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরো জানা গেছে সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামিলীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ২০১০ সালে নিয়োগের পর সর্বোচ্চ প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দালাল সিন্ডিকেট তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মঈনুল হাসান নাহিদ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন সে সময় আরো প্রভাব খাটিয়েছে। উপজেলা আওয়ামিলীগের উপদেষ্টা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন কালে মুন্সীগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন মহিউদ্দিন আহমেদ এ সময় সবচাইতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে এই কর্মকর্তা। গত ৫ আগস্টের পর সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মঈনুল হাসান নাহিদ, উপজেলা আওয়ামিলীগ সাধারণ সম্পাদক আবুবকর সিদ্দিকসহ আওয়ামীলীগের হেবিউট নেতাদের সকল প্রকার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে থাকেন এই কর্মকর্তা। এবিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা ইমারত নির্মাণ কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন অভিযুক্ত আবু তাহের এ উপজেলায় দীর্ঘদিন চাকরি করে তাই তিনি অনেক বেপরোয়া বিল্ডিং এর অনুমতির নামে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। যে বিল্ডিংয়ে সরকারি ফ্রি ৯/১০ হাজার টাকা সেখানে তিনি নিয়েছেন ৪/৫ লাখ টাকা। তদন্ত করলে হাজারো প্রমাণ রয়েছে এই উপজেলায়। এবিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদের সিএ মোঃ আবু তাহেরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করার পরে-ও কল রিসিভ করে নাই। সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ বলেন, আমি নতুন এসেছি তবে এবিষয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পর্যায়ক্রমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনসাধারণের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুততম সময়ে প্রশাসনের প্রতিটি স্তর থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সরিয়ে একটি জনবান্ধব ও নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলবে, যা বিপ্লবের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে।
জেলার খবর