ঢাকা, রবিবার, ১৪ চৈত্র, ১৪৩২, ১ মার্চ ২০২৬
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারে জমে উঠেছে ৪ টি আসনের প্রার্থীদের ভোটের তীব্র লড়াই
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারে জমে উঠেছে ৪ টি আসনের প্রার্থীদের ভোটের তীব্র লড়াই
মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার প্রতিনিধি |
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিটি আসনেই ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলসহ একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণে ভোটের মাঠে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জনগনের মুখোমুখি হয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৪ জন প্রার্থী চারটি আসনের প্রার্থীরা। নির্বাচনী প্রচারণা, গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশে সরগরম হয়ে উঠেছে জেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল। তাই সকল প্রার্থী চা-শ্রমিকদের গুরুত্ব দিয়ে ভোটের মাঠে জোরেসোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সকল প্রার্থী চা-বাগান এলাকার ভোটারদের অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন, অন্যদিকে ভোটারদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল। কে হচ্ছেন শেষ পর্যন্ত বিজয়ী—তা জানতে অপেক্ষা এখন ভোটের দিনের। ৩১ জানুয়ারি শনিবার তারেক রহমানের ধানের শীষকে বিজয়ী করতে লন্ডন থেকে ১৫ জন লন্ডন বিএনপির সদস্যরা নিয়ে এসেছেন মৌলভীবাজার। এদের মধ্যে অনেকে ১৭ বছর বা ১৬ পর দেশে আশে তাদের নিজ নিজ এলাকার ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে।প্রতিটি নির্বাচনের মতই আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের জনগনের মুখোমুখি করে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন।
জানা জায়, ৭ উপজেলা, ৬ পৌরসভা ও ৬৭ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ জেলায় মোট ২৪ জন প্রার্থী চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।জেলার মৌলভীবাজার-১, মৌলভীবাজার-২ ও মৌলভীবাজার-৪ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ বেশি, আর মৌলভীবাজার-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখানে চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।জানা যায়, মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী): বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার মোট ৩,৩৭,৮১৬ জন ভোটারের এই আসনে ছয় প্রার্থী অংশ নিয়েছেন।মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি (ধানের শীষ) ও জামায়াতে ইসলামীর (দাঁড়িপাল্লা) প্রার্থীদের মধ্যে। এছাড়া জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, গণফ্রন্ট ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও সক্রিয়।মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া): কুলাউড়া উপজেলায় ৩,০৩,০২০ ভোটার রয়েছেন। এখানে আট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী ৮ প্রার্থী।মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর): মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় ৪,৮৬,২১২ জন ভোটার রয়েছে। মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-৩ আসন। এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৪ জন প্রার্থী। তারা হলেন-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান (ধানের শীষ), খেলাফত মজলিসের মাওলানা আহমদ বিলাল (দেয়াল ঘড়ি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল মান্নান (দাঁড়িপাল্লা) ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জহর লাল দত্ত (কাস্তে)। মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে এনসিপির প্রীতম দাশ,‘জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন, বাসদের মো. আবুল হাসান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহসিন মিয়া, বিএনপির মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীও খেলাফত মজলিসের শেখ নুরে আলম হামিদী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ): চা-বাগান অধ্যুষিত এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৪,৮৭,৮৮৮ জন। ছয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী দীর্ঘ ২৫ বছর মানুষের পাশে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন।মৌলভীবাজারের প্রতিটি আসনে ভোটারদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। কোথাও ত্রিমুখী, কোথাও চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকায় নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে হাসি ফুটবে, তা জানার জন্য জেলা অপেক্ষায় রয়েছে।
জেলার খবর