ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মাঘ, ১৪৩২, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মাদারীপুরের রাজৈরে ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিবের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ন
মাদারীপুরের রাজৈরে ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিবের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন
মো. হাফিজুল শরিফ | মাদারীপুর |
মাদারীপুরের রাজৈরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হাওলাদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও প্রহসনের ফাঁসির রায় বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিএনপি ও এনসিপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা নানান শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ। এসময় বক্তব্য রাখেন, দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত রাজিব হাওলাদারের ভাই সজিব হাওলাদার, কেন্দ্রীয় শ্রমিক শক্তির সদস্য জাবের হাওলাদার, উপজেলা বিএনপি নেতা বাবু হাওলাদার, মান্নান হাওলাদার, ওবায়দুর রহমান বাঘা, খালিয়া ইউপি সদস্য সাগর মিয়া, যুবদল নেতা খায়ের হাওলাদার সহ অনেকেই।
বক্তারা বলেন, রাজীব হাওলাদার বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকায় তাকে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি শিশু হত্যা মামলায় ফাঁসির রায় ঘোষণা করিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা। নির্দোষ হয়েও মৃত্যুদণ্ডাদেশ মাথায় নিয়ে বাড়ি ছাড়া হতে হয়েছে রাজিবকে। এসময় ওই প্রহসনের রায় দ্রুত বাতিল করে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তির দাবি জানান স্বজন ও এলাকাবাসী।উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের সেনদিয়া জামে মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয় সেনদিয়া গ্রামের টুকু সরদারের মেয়ে আদুরী আক্তার (০৫)। নিহতের বাবা টুকু সরদার বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর ওই মসজিদের ইমাম শফিকুল ইসলামকে রাজৈর থানা পুলিশ গ্রেফতার করলে তিনি পুলিশের কাছে খুনের ঘটনা স্বীকার করেন। তখন তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী মসজিদের পাশ থেকে আদুরী আক্তারের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। মামলার চার আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করলে তিন আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে অদ্যাবধি পলাতক রয়েছে। এই মামলায় গত ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর রাজৈর উপজেলার পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের রফিক হাওলাদারের ছেলে রাজিব হাওলাদার (৩৮), কোদালিয়া বাজিতপুর গ্রামের মুহিত গাছীর ছেলে রিমন হোসাইন ওরফে ইমন গাছী (৩২) ও পিরোজপুর জেলার ভৈরমপুরের রফিকুল ইসলাম মোল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম মোল্লার (৩১) বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ও পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা। এছাড়া আরেক আসামি বাগেরহাট জেলার সেলিম হাওলাদারের (৪১) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন তিনি। এই রায়ের দিন মামলার এক আসামি রিমন হোসাইন ওরফে ইমন গাছী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
জেলার খবর