ঢাকা, সোমবার, ২৫ মাঘ, ১৪৩২, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ মুর্হুত্তের প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পারছেন প্রার্থীরা

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ মুর্হুত্তের প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পারছেন প্রার্থীরা

জীতেন বড়–য়া | খাগড়াছড়ি |

দৃশ্যত খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসনের ত্রিমুখী নির্বাচন হবার সম্ভাবনাই বেশী রয়েছে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতেও ভোটের উত্তাপ এখন তুংগে। নির্বাচনের শেষ মুর্হুত্তের প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পারছেন প্রার্থীরা ।খাগড়াছড়ির ২৯৮ নং সংসদীয় আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে রয়েছেন। তবে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান কিংবা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এডভোকেট ইয়াকুব আলী চৌধুরী সঙ্গে তাঁর মূল প্রতিদ্বন্ধিতার আভাস মিলছে।এখানে উল্লেখ্য যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরন দেওয়ান কে পাহাড়ের ৩ টি আঞ্চলিক দল প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়ে নির্বাচণী মাঠে কাজ করছে । নানা সমীকরণে এই আসনের নির্বাচন আরও জমে উঠতে পারে।নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে জেলা-উপজেলা,গ্রাম ও পাড়া পাড়ায় প্রার্থীদেও প্রচারণা। ২৯৮ নং আসনে ১১ প্রার্থী তাদের নিজ কৌশলে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বিরামহীন ভাবে ছুটে চলছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ফলে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা।এবার খাগড়াছড়িতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের সমীকরণে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে পাহাড়ের অনিবন্ধিত আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর 'ভোট ব্যাংক'। মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রত্যন্ত এলাকার ভোটারদের সংগঠিত সমর্থন এবার জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।অতীত নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি আসনে আওয়ামী লীগ পাঁচবার, বিএনপি দুইবার এবং জাতীয় পার্টি একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আঞ্চলিক দল বা আঞ্চলিক সংগঠন-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জাতীয় সংসদে যেতে পারেননি। এবার সেই দীর্ঘদিনের অপূর্ণতা পূরণে একক অবস্থানে আসার চেষ্টা করছে পাহাড়ের প্রভাবশালী অনিবন্ধিত আঞ্চলিক সংগঠনগুলো।

খাগড়াছড়ি জেলার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রাম জেলা, পূর্বে রাঙ্গামাটি জেলা এবং ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্য, এবং পশ্চিমে চট্টগ্রাম। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন আসনের মধ্যে খাগড়াছড়ি আসনটি ভৌগোলিক, জাতিগত, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত কারণে বরাবরই আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে থাকে। ২লক্ষ ৬৯ হাজার ৯ শত ৫৬ বর্গ কি.মি আয়তনের খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসনে পাহাড়ি ও বাঙালি মিলে প্রায় ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬ শত ৮৮ জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার- ২ লাখ ৭৬ হাজার ১৩ জন নারী ভোটার- ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭১ জন।তৃতীয় লিঙ্গ- ৪ জন ।এই ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটারে সংখ্যা- ২৭ হাজার । এদিকে মোট জন সংখ্যার মধ্যে বাঙ্গালী- ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭২৯ জন [৫১.০৭%]। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯০ জন [৪৮.৯৩%]।এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ইতিমধ্যে সরব হয়ে উঠেছে। খাগড়াছড়ি আসনে নির্বাচনী লড়াই শুধু কাগজে-কলমে নয়, বরং জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতির সংঘর্ষ, উন্নয়ন ও বঞ্চনার বিতর্ক, অস্ত্র উদ্ধার, পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন ও প্রতিশ্রুতির হিসাব-নিকাশের। জাতীয় রাজনৈতিক এজেন্ডার বাহিরে প্রায়শই এখানের নির্বাচনে পাহাড়ি-বাঙ্গালী ইস্যু বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।এদিকে প্রচারণায় বেশ জমজমাট সময় পার করছেন, বিএনপির আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া-(ধানের শীষ),বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মো.এয়াকুব আলী- (দাঁড়ি পাল্লা),স্বতন্ত্র প্রার্থী সমিরণ দেওয়ান-(ফুটবল),স্বতন্ত্র ধর্ম জ্যোতি চাকমা-(ঘোড়া),ইসলামী আন্দোলনের মো. কাউসার আজিজী-(হাত পাখা) বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির উশ্যেপ্রু মারমাকে-(রকেট)। তা ছাড়া গণঅধিকার পরিষদ এর দীনময় রোয়াজাকে-(ট্রাক),জাতীয় পার্টির মিথিলা রোয়াজাকে-(লাঙল),ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. নুর ইসলাম-(আপেল), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোস্তফা-(হারিকেন) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা-(কলস), নিয়ে ছুটছেন ভোটারদের কাছে।

নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপিসহ সব দলের নেতাকর্মীদের মাঝেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের এখন টার্গেট দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করা।২০০১ সালে খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া প্রতিদ্বন্দি আওয়ামী লীগের প্রার্থী কল্প রঞ্জন চাকমাকে প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ১/১১ সরকারের আমলে তিনি গ্রেফতার,সাজা ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের হামলা-মামলার মধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেলে সরকারের চাপে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। এবার খাগড়াছড়ি আসনে ওয়াদুদ ভূইয়াকে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা করেছে। এর আগ থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের ৩১ দফা ও ওয়াদুদ ভূইয়ার পক্ষে ধানের শীষে ভোট চেয়ে মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। প্রার্থী ঘোষনার পর ধানের শীষ প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়ার সমর্থনে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী শো-ডাউনসহ প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সাল থেকে টানা তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। সর্বশেষ তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবের পর তিনি আতœগোপনে আছেন। বর্তমানে খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগের কোন অস্তিত্ব নেই বললে চলে।

বিএনপি প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, অতীতে সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি পাহাড়ি ও বাঙালি সহ সব সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কাজ করেছেন। বিগত সরকারের সময়ে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও এবার তিনি মাঠে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করেন। তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচিত হলে পাহাড়ে পাহাড়ি-বাঙালীর সম্প্রীতির বন্ধন আরো সু-দৃঢ় করার পাশাপাশি সব সেক্টরে বৈষম্যহীন উন্নয়ন করবেন।অপরদিকে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এ আসনে চব্বিশের বিপ্লবের পর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় মরিয়া জামাতে ইসলামী। প্রায় এক বছর আগ থেকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে মাঠে ময়দানে চষে বেড়াচ্ছেন,দলটির প্রার্থী এড. এয়াকুব আলী চৌধুরী। খাগড়াছড়িতে ২০২৪ এর ৫ আগষ্টের পর জামায়াতের কোন নেতা কর্মী চাঁদাবাজি,হামলা মামলার সাথে জড়িত না থাকায় এবার জামায়াতে ইসলামী ভোট বেড়েছে এমন জনশ্রুতি রয়েছে।তা ছাড়া জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন কর্মসূচিতে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বিরোধী স্লোগানের মাধ্যমে ভোটারদের আগ্রহ টানার চেষ্টা করছে।জেলার মাটিরাঙার তাইন্দং-এর বাসিন্দা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলী চৌধুরী প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে-গঞ্জে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. এয়াকুব আলী জানান, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তিনি মাঠে কাজ করছেন। পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পাহাড়ে পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ড়ে তুলবো।সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. কাউছার বলেন, ধর্মভিত্তিক দল হলেও তাঁরা সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে চান। নির্বাচিত হলে পাহাড়ি ও বাঙালির মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না বলেও তিনিজানান ।এদিকে জাতীয় পার্টির তেমন কোনো মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। তবে পাহাড়ের ৪টি আঞ্চলিক দল তাদের কোন প্রার্থী ঘোষনা না করলেও সন্মিলিত ভাবে পাহাড়ী একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরন দেওয়ানের পেছনে কাজ করার গুঞ্জন রয়েছে । তিনি দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকার পরিষদ (পার্বত্য জেলা পরিষদ) এর চেয়ারম্যান হিসেবে দাযিত্ব পালন করেছেন ।এ ছাড়া পাহাড়ী বাঙ্গালীর কাছে অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। এক সময় জাতীয় রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলে বর্তমানে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্ধন্দিতা করছেন ।তাই অনেকেই এবার খাগড়াছড়ি আসনে অন্যতম শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সমীরন দেওয়ান কে মনে করছেন। তিনি জানান সাধারণ মানুষ চায় সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি মুক্ত ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ। বিশেষ করে নতুন ভোটাররা উদগ্রীব হয়ে আছে ভোট দিতে। পার্বত্য এ জেলায় মানুষের কর্মসংস্থানে নেই কোন বিনিয়োগ। তাই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বেকারত্ব । বিগত সময়ে কৃষি গবেষণাগার, টেক্সটাইল ও কারিগরি ইনস্টিটিউটের অবকাঠামো নির্মাণ হলেও স্থানীয়দের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত।তিনি নির্বাচিত হলে প্রথমেই পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক হানাহানি বন্ধ,পাহাড়ের ভুমি সমস্যার সমাধান সহ স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্টায় কাজ করবেন ।দৃশ্যত খাগড়াছড়ির ২৯৮ নং আসনের নির্বাচনী মাঠে ত্রিমুখী নির্বাচন হবার সম্ভাবনাই বেশী রয়েছে।খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. আনোয়ার সাদ জানান নির্বাচন সুষ্ঠ করতে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে।খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশসহ অন্যান্য প্রশাসনের সমন্বয়ে কাজ করছেন বলে জানান।জানা যায়,এই আসনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২০৩টি: তার মধ্যে দূর্গম ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৩টি। হেলিসার্টি ব্যবহার মধ্যে ৩ কেন্দ্রে। এতে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮টি কেন্দ্র,ঝুঁকিপূর্ণ ১২১টি এবং সাধারন হিসিবে চিহিৃত করা হয়েছে ১৪টি ভোট কেন্দ্রকে।যে তিনটি কেন্দ্রে হেলিসার্টি ব্যবহার হবে: দীঘিনালার বাবুছড়া ইউপির দেওয়ানপাড়ার নারাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং লক্ষীছড়ি উপজেলাধীন লক্ষীছড়ির ইউপির শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বর্মাছড়ি ইউপির ফুত্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্যদিকে-সীমান্তবর্তী ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২০টি: তার মধ্যে-দীঘিনালায় ১টি, পানছড়িতে ৩টি, রামগড়ে ৭টি এবং মাটিরাঙায় ৯টি কেন্দ্র রয়েছে।

<p><strong>ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ মুর্হুত্তের প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পারছেন প্রার্থীরা</strong></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>জীতেন বড়–য়া | খাগড়াছড়ি |</strong></span></p><p><strong>দৃশ্যত খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসনের ত্রিমুখী নির্বাচন হবার সম্ভাবনাই বেশী রয়েছে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতেও ভোটের উত্তাপ এখন তুংগে। নির্বাচনের শেষ মুর্হুত্তের প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পারছেন প্রার্থীরা ।খাগড়াছড়ির ২৯৮ নং সংসদীয় আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে রয়েছেন। তবে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান কিংবা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এডভোকেট ইয়াকুব আলী চৌধুরী সঙ্গে তাঁর মূল প্রতিদ্বন্ধিতার আভাস মিলছে।এখানে উল্লেখ্য যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরন দেওয়ান কে পাহাড়ের ৩ টি আঞ্চলিক দল প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়ে নির্বাচণী মাঠে কাজ করছে । নানা সমীকরণে এই আসনের নির্বাচন আরও জমে উঠতে পারে।নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে জেলা-উপজেলা,গ্রাম ও পাড়া পাড়ায় প্রার্থীদেও প্রচারণা। ২৯৮ নং আসনে ১১ প্রার্থী তাদের নিজ কৌশলে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বিরামহীন ভাবে ছুটে চলছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ফলে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা।এবার খাগড়াছড়িতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের সমীকরণে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে পাহাড়ের অনিবন্ধিত আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর 'ভোট ব্যাংক'। মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রত্যন্ত এলাকার ভোটারদের সংগঠিত সমর্থন এবার জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।অতীত নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি আসনে আওয়ামী লীগ পাঁচবার, বিএনপি দুইবার এবং জাতীয় পার্টি একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আঞ্চলিক দল বা আঞ্চলিক সংগঠন-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জাতীয় সংসদে যেতে পারেননি। এবার সেই দীর্ঘদিনের অপূর্ণতা পূরণে একক অবস্থানে আসার চেষ্টা করছে পাহাড়ের প্রভাবশালী অনিবন্ধিত আঞ্চলিক সংগঠনগুলো।</strong></p><p>খাগড়াছড়ি জেলার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রাম জেলা, পূর্বে রাঙ্গামাটি জেলা এবং ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্য, এবং পশ্চিমে চট্টগ্রাম। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন আসনের মধ্যে খাগড়াছড়ি আসনটি ভৌগোলিক, জাতিগত, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত কারণে বরাবরই আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে থাকে। ২লক্ষ ৬৯ হাজার ৯ শত ৫৬ বর্গ কি.মি আয়তনের খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসনে পাহাড়ি ও বাঙালি মিলে প্রায় ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬ শত ৮৮ জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার- ২ লাখ ৭৬ হাজার ১৩ জন নারী ভোটার- ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭১ জন।তৃতীয় লিঙ্গ- ৪ জন ।এই ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটারে সংখ্যা- ২৭ হাজার । এদিকে মোট জন সংখ্যার মধ্যে বাঙ্গালী- ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭২৯ জন [৫১.০৭%]। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯০ জন [৪৮.৯৩%]।এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ইতিমধ্যে সরব হয়ে উঠেছে। খাগড়াছড়ি আসনে নির্বাচনী লড়াই শুধু কাগজে-কলমে নয়, বরং জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতির সংঘর্ষ, উন্নয়ন ও বঞ্চনার বিতর্ক, অস্ত্র উদ্ধার, পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন ও প্রতিশ্রুতির হিসাব-নিকাশের। জাতীয় রাজনৈতিক এজেন্ডার বাহিরে প্রায়শই এখানের নির্বাচনে পাহাড়ি-বাঙ্গালী ইস্যু বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।এদিকে প্রচারণায় বেশ জমজমাট সময় পার করছেন, বিএনপির আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া-(ধানের শীষ),বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মো.এয়াকুব আলী- (দাঁড়ি পাল্লা),স্বতন্ত্র প্রার্থী সমিরণ দেওয়ান-(ফুটবল),স্বতন্ত্র ধর্ম জ্যোতি চাকমা-(ঘোড়া),ইসলামী আন্দোলনের মো. কাউসার আজিজী-(হাত পাখা) বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির উশ্যেপ্রু মারমাকে-(রকেট)। তা ছাড়া গণঅধিকার পরিষদ এর দীনময় রোয়াজাকে-(ট্রাক),জাতীয় পার্টির মিথিলা রোয়াজাকে-(লাঙল),ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. নুর ইসলাম-(আপেল), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোস্তফা-(হারিকেন) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা-(কলস), নিয়ে ছুটছেন ভোটারদের কাছে। </p><p>নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপিসহ সব দলের নেতাকর্মীদের মাঝেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের এখন টার্গেট দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করা।২০০১ সালে খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া প্রতিদ্বন্দি আওয়ামী লীগের প্রার্থী কল্প রঞ্জন চাকমাকে প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ১/১১ সরকারের আমলে তিনি গ্রেফতার,সাজা ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের হামলা-মামলার মধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেলে সরকারের চাপে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। এবার খাগড়াছড়ি আসনে ওয়াদুদ ভূইয়াকে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা করেছে। এর আগ থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের ৩১ দফা ও ওয়াদুদ ভূইয়ার পক্ষে ধানের শীষে ভোট চেয়ে মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। প্রার্থী ঘোষনার পর ধানের শীষ প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়ার সমর্থনে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী শো-ডাউনসহ প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সাল থেকে টানা তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। সর্বশেষ তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবের পর তিনি আতœগোপনে আছেন। বর্তমানে খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগের কোন অস্তিত্ব নেই বললে চলে।</p><p>বিএনপি প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, অতীতে সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি পাহাড়ি ও বাঙালি সহ সব সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কাজ করেছেন। বিগত সরকারের সময়ে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও এবার তিনি মাঠে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করেন। তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচিত হলে পাহাড়ে পাহাড়ি-বাঙালীর সম্প্রীতির বন্ধন আরো সু-দৃঢ় করার পাশাপাশি সব সেক্টরে বৈষম্যহীন উন্নয়ন করবেন।অপরদিকে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এ আসনে চব্বিশের বিপ্লবের পর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় মরিয়া জামাতে ইসলামী। প্রায় এক বছর আগ থেকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে মাঠে ময়দানে চষে বেড়াচ্ছেন,দলটির প্রার্থী এড. এয়াকুব আলী চৌধুরী। খাগড়াছড়িতে ২০২৪ এর ৫ আগষ্টের পর জামায়াতের কোন নেতা কর্মী চাঁদাবাজি,হামলা মামলার সাথে জড়িত না থাকায় এবার জামায়াতে ইসলামী ভোট বেড়েছে এমন জনশ্রুতি রয়েছে।তা ছাড়া জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন কর্মসূচিতে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বিরোধী স্লোগানের মাধ্যমে ভোটারদের আগ্রহ টানার চেষ্টা করছে।জেলার মাটিরাঙার তাইন্দং-এর বাসিন্দা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলী চৌধুরী প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে-গঞ্জে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. এয়াকুব আলী জানান, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তিনি মাঠে কাজ করছেন। পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পাহাড়ে পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ড়ে তুলবো।সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।</p><p>ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. কাউছার বলেন, ধর্মভিত্তিক দল হলেও তাঁরা সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে চান। নির্বাচিত হলে পাহাড়ি ও বাঙালির মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না বলেও তিনিজানান ।এদিকে জাতীয় পার্টির তেমন কোনো মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। তবে পাহাড়ের ৪টি আঞ্চলিক দল তাদের কোন প্রার্থী ঘোষনা না করলেও সন্মিলিত ভাবে পাহাড়ী একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরন দেওয়ানের পেছনে কাজ করার গুঞ্জন রয়েছে । তিনি দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকার পরিষদ (পার্বত্য জেলা পরিষদ) এর চেয়ারম্যান হিসেবে দাযিত্ব পালন করেছেন ।এ ছাড়া পাহাড়ী বাঙ্গালীর কাছে অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। এক সময় জাতীয় রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলে বর্তমানে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্ধন্দিতা করছেন ।তাই অনেকেই এবার খাগড়াছড়ি আসনে অন্যতম শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সমীরন দেওয়ান কে মনে করছেন। তিনি জানান সাধারণ মানুষ চায় সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি মুক্ত ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ। বিশেষ করে নতুন ভোটাররা উদগ্রীব হয়ে আছে ভোট দিতে। পার্বত্য এ জেলায় মানুষের কর্মসংস্থানে নেই কোন বিনিয়োগ। তাই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বেকারত্ব । বিগত সময়ে কৃষি গবেষণাগার, টেক্সটাইল ও কারিগরি ইনস্টিটিউটের অবকাঠামো নির্মাণ হলেও স্থানীয়দের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত।তিনি নির্বাচিত হলে প্রথমেই পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক হানাহানি বন্ধ,পাহাড়ের ভুমি সমস্যার সমাধান সহ স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্টায় কাজ করবেন ।দৃশ্যত খাগড়াছড়ির ২৯৮ নং আসনের নির্বাচনী মাঠে ত্রিমুখী নির্বাচন হবার সম্ভাবনাই বেশী রয়েছে।খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. আনোয়ার সাদ জানান নির্বাচন সুষ্ঠ করতে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে।খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশসহ অন্যান্য প্রশাসনের সমন্বয়ে কাজ করছেন বলে জানান।জানা যায়,এই আসনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২০৩টি: তার মধ্যে দূর্গম ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৩টি। হেলিসার্টি ব্যবহার মধ্যে ৩ কেন্দ্রে। এতে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮টি কেন্দ্র,ঝুঁকিপূর্ণ ১২১টি এবং সাধারন হিসিবে চিহিৃত করা হয়েছে ১৪টি ভোট কেন্দ্রকে।যে তিনটি কেন্দ্রে হেলিসার্টি ব্যবহার হবে: দীঘিনালার বাবুছড়া ইউপির দেওয়ানপাড়ার নারাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং লক্ষীছড়ি উপজেলাধীন লক্ষীছড়ির ইউপির শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বর্মাছড়ি ইউপির ফুত্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্যদিকে-সীমান্তবর্তী ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২০টি: তার মধ্যে-দীঘিনালায় ১টি, পানছড়িতে ৩টি, রামগড়ে ৭টি এবং মাটিরাঙায় ৯টি কেন্দ্র রয়েছে।</p>

জেলার খবর

play storeapp store