ঢাকা, শনিবার, ৩০ মাঘ, ১৪৩২, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন
দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী
মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি ‘ভূমিধস’ ও ‘ঐতিহাসিক বিজয়’।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পোস্টাল ভোটসহ ধানের শীষ প্রতীকে হাজী মুজিব পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা নূরে আলম হামিদী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী, পেয়েছেন ৫০ হাজার ২০৪ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৩। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে এটিই বিএনপির প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়।দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট-মৌলভীবাজার-৪ আসনটি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ—দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত। স্বাধীনতার পর থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু ও চা শ্রমিক ভোটব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভূমিকা রেখেছিল।
তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ও তার নেতাকর্মীদের ব্যাপক প্রচারণা দৃশ্যমান ছিল। ২৬ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হাজী মুজিব চা বাগান শ্রমিক, ২৬টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু হিন্দু ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পান। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের মুসলিম ভোটারদের মধ্যেও তার জনপ্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়।সংগ্রাম থেকে সাফল্য,হাজী মুজিব প্রথম ২০০১ সালে এ আসনে নির্বাচন করেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের সাতবারের এমপি ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও নানা নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শতাধিক মামলায় প্রায় চার বছর কারাবরণ করেন তিনি। কারাবন্দী থাকাকালে তার ভাই শামীম আহমেদের মৃত্যু এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির ঘটনাও তার রাজনৈতিক জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। পরিবার ও সমর্থকদের দাবি, পুলিশি অভিযানের কারণে বহু সময় তিনি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেননি।২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়েও তার সমর্থকদের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে ওই নির্বাচনে স্বল্প সময়ের ভোটে প্রায় এক লাখ ভোট পাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে তার অবস্থানকে আরও শক্ত করে।ভোটের পরিসংখ্যান-শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ মিলিয়ে ১৮টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৮ জন (২,৫০০ পোস্টাল ভোটারসহ)। ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।দুই উপজেলায় মোট ভোট পড়েছে (বাতিলসহ) ২ লাখ ৭২ হাজার ২৯৪টি। গড়ে প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।বিজয় প্রতিক্রিয়া,বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন,আলহামদুলিল্লাহ। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর জনগণ আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, এটি আমার জন্য বড় সম্মান। মৌলভীবাজার-৪ আসনের মানুষের আস্থার মর্যাদা দিতে চাই। এলাকার উন্নয়ন, শান্তি ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রথম অঙ্গীকার।দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রত্যাশা, প্রার্থীর ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং সংগঠিত প্রচারণা সব মিলিয়ে মৌলভীবাজার-৪ আসনের এবারের ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন।
জেলার খবর