ঢাকা, রবিবার, ১ ফাল্গুন, ১৪৩২, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চার আসনে ১৪ প্রার্থী জামানত হারালেন মৌলভীবাজারে
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন
চার আসনে ১৪ প্রার্থী জামানত হারালেন মৌলভীবাজারে
মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি জোট ও জামায়াত নেতৃত্তাধিন ১১ দলীয় জোট,জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সহ ২৪ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এরমধ্যে ১০ জন ছাড়া বাকি সবাই তাদের জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনে কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। কিন্তু মৌলভীবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে ১৪ প্রার্থীর কেউই প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোটও পাননি। মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে ৪ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন লাঙল প্রতীকের আহমেদ রিয়াজ উদ্দিন, কাপ-পিরিচ প্রতীকের বেলাল আহমদ, ট্রাক প্রতীকের মো. আব্দুন নূর ও মাছ প্রতীকের মো. শরিফুল ইসলাম।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে ৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক তিন বারের এমপি (জাতীয় পার্টি-কাজী জাফর) স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের নওয়াব আলী আব্বাছ খান, হাতপাখা প্রতীকের আব্দুল কুদ্দুছ, ঘোড়া প্রতীকের এম জিমিউর রহমান চৌধুরী, লাঙ্গল প্রতীকের মো. আব্দুল মালিক ও কাঁচি প্রতীকের সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী।মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে ২ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তারা হলেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিস মনোনীত দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের মাওলানা আহমদ বিলাল ও কাস্তে প্রতীকের জহর লাল দত্ত।মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তারা হলেন শাপলা কলি প্রতীকের প্রীতম দাশ, লাঙ্গল প্রতীকের মোহাম্মদ জরিফ হোসেন ও মই প্রতীকের মো. আবুল হাসান। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। আর এই বিধি অনুযায়ী এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারের চারটি আসনে অংশ নেওয়া ১৪ জন নির্বাচনি বিধান অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের নির্ধারিত শতাংশ না পাওয়ায় এসব প্রার্থী জামানত ফেরত পাচ্ছেন না।এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জমান পাভেল বলেন, আমি বাহিরে আছি, না জেনে বলতে পরবোনা,এটা জেনে বলতে হবে।ওদিকে জেলার চারটি আসনে নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জোটে বিভক্তি, শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বি ও ভোটের সমীকরণে পিছিয়ে পড়ার কারণে অনেক প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোট সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হন। জোট প্রার্থীর পক্ষে অন্যদল গুলোর অসহযোগীতা। বিশেষ করে নতুন মুখ ও ছোট দলগুলোর কয়েকজন প্রার্থী ভোটের মাঠে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও ভোটারদের কৌশলগত ভোট জামানত হারানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জেলার খবর