লাউয়াছড়া কমলগঞ্জে জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের ভিড়ে বন্যপ্রাণী উধাও !
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ন
লাউয়াছড়া কমলগঞ্জে জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের ভিড়ে বন্যপ্রাণী উধাও !
মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |
পর্যটন অধ্যুষিত মৌলভীবাজারের লাউয়াড়ছড়া বনে ক্রমেই বাড়ছে পর্যটকের চাপ। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এর অবস্থানে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এই বনে অনেক বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণ-প্রজাতির বসবাস। প্রায় প্রতিদিনই কমবেশি পর্যটক ভিড় করেন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এতে অস্বস্তির মধ্যে পড়ে বন্য প্রাণী।জানা যায়. দেশের সাতটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে অন্যতম লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।এটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ১২শত ৫০ হেক্টর আয়তনের লাউয়াছড়া সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যান। সরকার ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে।উদ্যানের গা-ঘেঁষে বনজঙ্গল ও মাটি কেটে স্থাপিত হচ্ছে বিভিন্ন কটেজ। ফলে বনের ভেতরে দল বেঁধে মানুষের অবাধ বিচরণ বন্যপ্রাণীর জন্য খাবার সংগ্রহ ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে বন্যপ্রাণীর খাবার ও আবাসস্থল বিনষ্ট হচ্ছে। বন্যপ্রাণী দূরে চলে যাচ্ছে। অধিক পর্যটকের হৈ-হুল্লোড়, চিৎকার, মাইকের শব্দ, গাড়ির হর্ন সব মিলিয়ে জাতীয় উদ্যানের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠছে। ফলে অধিক পর্যটকের তৎপরতা বন্যপ্রাণীর বাস উপযোগী পরিবেশ হারাতে বসেছে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বানর ছাড়া অন্যান্য প্রাণী তেমন চোখে পড়ে না। তবে বনে প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি মানতে নারাজ বন বিভাগ।ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাশেদুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখি দেখার আগ্রহটা ছিল আলাদা অনুভূতির। কিন্তু লাউয়াছড়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরেও কোনও প্রাণির দেখা মেলেনি। আমরা যেমন আশা করে এসেছিলাম এখানে আমরা বানর ছাড়া আর কিছু দেখতে পাইনি।আমাদের কাছ থেকে টিকিট ১১৫ টাকা করে নিছে,অনেক বেশি আমাদের কাছে মনে হইছে।চট্টগ্রাম থেকে আসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন,লাউয়াছড়ার সবুজ বন আর নিরিবিলি পরিবেশ সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। শহরের কোলাহল থেকে দূরে এসে এখানে দারুণ সময় কাটছে।” “বনের ভেতরের হাঁটার পথগুলো খুবই সুন্দর। তবে আরও কিছু দিকনির্দেশনা বোর্ড থাকলে নতুন পর্যটকদের জন্য সুবিধা হতো।সিলেট থেকে আসা পর্যটক দেলোয়ার হোসেন জানান, বন্যপ্রাণী যেভাবে পরিচর্যা করলে তারা ভালো থাকতে পারবে এই পরিবেশটা এখানে নাই। এই গাছের এই নাম এটা বৈজ্ঞানিক গাছ এগুলো থাকলে আমাদের একটু ভালো হতো, আমরা বাচ্চাদেরকে শেখাতে পারতাম।লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের টিকেট মাষ্টার মো: আব্দুল হাসিম বলেন পর্যটকরা মোটামুটি ২/৩ দিন ধরে খুব ভালো চলছে।এর আগে একটু কম ছিলো। প্রতিদিন যার ৬০০-৮০০ টিকিট।লাউয়াছড়া ট্যুর গাইড মো: কামরুল হাসান বলেন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্দানে পর্যটকদের চাপ কমানোর জন্য টিকিটের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। বেশির ভাগ পর্যটকদের মধ্যে গাইড সঙ্গে নিতে অনীহা আছে। বনের ভেতর করণীয় আচরণ অনুসরণ করেন না অনেকে।লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রশাসক সরকারি,সহ বাবস্থাপনা কমিটি সদস্য হিসাব রক্ষক মো: আফজালুল হক বলেন পর্যটকরা বাড়ছে বন্যপ্রাণী কমে যায়নি বাড়ছে, কিন্তু পর্যটকদের এই চিৎকারে বন্য প্রাণী দূরে চলে যায়। সুতরাং তারা দেখতে পারছে না। আগে টিকেট এর মূল্য ছিলো ৩০ টাকা আর এখন ১১৫টাকা।মৌলভীবাজার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম বলেন লাউয়াছড়ার জাতীয় উদ্দানে, পর্যটক হইচই,বা শব্দ করে যদি তাহলে বন্য প্রাণী দেখা যাবে না। পর্যটকরা নিরবে চলাফেরা করতে হবে শব্দ ছাড়া। বন্য প্রাণী ভিতরে রয়েছে, লাউয়াছড়ার টিকিট এর মূল্য আরও বাড়ানো দরকার এত সুন্দর জায়গা রয়েছে ভিতরে। লাউয়াছড়ার ভিতরে পানির পর্যাপ্ত ব্যাবস্থা রয়েছে।
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>লাউয়াছড়া </strong></span><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>কমলগঞ্জে জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের ভিড়ে </strong></span><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>বন্যপ্রাণী</strong></span><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong> উধাও !</strong></span></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |</strong></span></p><p><strong>পর্যটন অধ্যুষিত মৌলভীবাজারের লাউয়াড়ছড়া বনে ক্রমেই বাড়ছে পর্যটকের চাপ। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এর অবস্থানে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এই বনে অনেক বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণ-প্রজাতির বসবাস। প্রায় প্রতিদিনই কমবেশি পর্যটক ভিড় করেন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এতে অস্বস্তির মধ্যে পড়ে বন্য প্রাণী।জানা যায়. দেশের সাতটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে অন্যতম লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।এটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ১২শত ৫০ হেক্টর আয়তনের লাউয়াছড়া সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যান। সরকার ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে।উদ্যানের গা-ঘেঁষে বনজঙ্গল ও মাটি কেটে স্থাপিত হচ্ছে বিভিন্ন কটেজ। ফলে বনের ভেতরে দল বেঁধে মানুষের অবাধ বিচরণ বন্যপ্রাণীর জন্য খাবার সংগ্রহ ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে বন্যপ্রাণীর খাবার ও আবাসস্থল বিনষ্ট হচ্ছে। বন্যপ্রাণী দূরে চলে যাচ্ছে। অধিক পর্যটকের হৈ-হুল্লোড়, চিৎকার, মাইকের শব্দ, গাড়ির হর্ন সব মিলিয়ে জাতীয় উদ্যানের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠছে। ফলে অধিক পর্যটকের তৎপরতা বন্যপ্রাণীর বাস উপযোগী পরিবেশ হারাতে বসেছে।</strong></p><p>লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বানর ছাড়া অন্যান্য প্রাণী তেমন চোখে পড়ে না। তবে বনে প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি মানতে নারাজ বন বিভাগ।ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাশেদুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখি দেখার আগ্রহটা ছিল আলাদা অনুভূতির। কিন্তু লাউয়াছড়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরেও কোনও প্রাণির দেখা মেলেনি। আমরা যেমন আশা করে এসেছিলাম এখানে আমরা বানর ছাড়া আর কিছু দেখতে পাইনি।আমাদের কাছ থেকে টিকিট ১১৫ টাকা করে নিছে,অনেক বেশি আমাদের কাছে মনে হইছে।চট্টগ্রাম থেকে আসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন,লাউয়াছড়ার সবুজ বন আর নিরিবিলি পরিবেশ সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। শহরের কোলাহল থেকে দূরে এসে এখানে দারুণ সময় কাটছে।” “বনের ভেতরের হাঁটার পথগুলো খুবই সুন্দর। তবে আরও কিছু দিকনির্দেশনা বোর্ড থাকলে নতুন পর্যটকদের জন্য সুবিধা হতো।সিলেট থেকে আসা পর্যটক দেলোয়ার হোসেন জানান, বন্যপ্রাণী যেভাবে পরিচর্যা করলে তারা ভালো থাকতে পারবে এই পরিবেশটা এখানে নাই। এই গাছের এই নাম এটা বৈজ্ঞানিক গাছ এগুলো থাকলে আমাদের একটু ভালো হতো, আমরা বাচ্চাদেরকে শেখাতে পারতাম।লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের টিকেট মাষ্টার মো: আব্দুল হাসিম বলেন পর্যটকরা মোটামুটি ২/৩ দিন ধরে খুব ভালো চলছে।এর আগে একটু কম ছিলো। প্রতিদিন যার ৬০০-৮০০ টিকিট।লাউয়াছড়া ট্যুর গাইড মো: কামরুল হাসান বলেন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্দানে পর্যটকদের চাপ কমানোর জন্য টিকিটের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। বেশির ভাগ পর্যটকদের মধ্যে গাইড সঙ্গে নিতে অনীহা আছে। বনের ভেতর করণীয় আচরণ অনুসরণ করেন না অনেকে।লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রশাসক সরকারি,সহ বাবস্থাপনা কমিটি সদস্য হিসাব রক্ষক মো: আফজালুল হক বলেন পর্যটকরা বাড়ছে বন্যপ্রাণী কমে যায়নি বাড়ছে, কিন্তু পর্যটকদের এই চিৎকারে বন্য প্রাণী দূরে চলে যায়। সুতরাং তারা দেখতে পারছে না। আগে টিকেট এর মূল্য ছিলো ৩০ টাকা আর এখন ১১৫টাকা।মৌলভীবাজার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম বলেন লাউয়াছড়ার জাতীয় উদ্দানে, পর্যটক হইচই,বা শব্দ করে যদি তাহলে বন্য প্রাণী দেখা যাবে না। পর্যটকরা নিরবে চলাফেরা করতে হবে শব্দ ছাড়া। বন্য প্রাণী ভিতরে রয়েছে, লাউয়াছড়ার টিকিট এর মূল্য আরও বাড়ানো দরকার এত সুন্দর জায়গা রয়েছে ভিতরে। লাউয়াছড়ার ভিতরে পানির পর্যাপ্ত ব্যাবস্থা রয়েছে।</p>