ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফাল্গুন, ১৪৩২, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিপন্ন বানিয়াবাজার খাল: অস্তিত্ব সংকটে জামালপুরের প্রাণভোমরা

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৩ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

বিপন্ন বানিয়াবাজার খাল: অস্তিত্ব সংকটে জামালপুরের প্রাণভোমরা

মোঃ সেলিম উদ্দিন | জামালপুর প্রতিনিধি |

এক সময়ের খরস্রোতা বানিয়াবাজার খাল এখন মৃতপ্রায়। দখল, দূষণ আর অপরিকল্পিত নগরায়নের থাবায় জামালপুর শহরের পানি নিষ্কাশনের এই প্রধান ধমনীটি আজ সংকীর্ণ নালায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক ধারণা পত্রে খালের এই করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রবাহপথ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার অংশ এই খালটি জামালপুর শহরের পূর্ব পাশ দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবহমান। ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা নদী ‘বানার’ নদীর উৎসমুখ থেকে উৎপন্ন হয়ে কুইরা বিল ও লুইচগেট হয়ে এটি ঝিনাই নদীতে পতিত হয়েছে।

এক সময় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি বর্তমানে সংকুচিত হয়ে মাত্র ২ কিলোমিটারে এসে ঠেকেছে।দখল ও দূষণের মহোৎসব সরেজমিনে এবং বেলা’র প্রতিবেদনে দেখা যায়, খালের পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বাড়িঘর, দোকানপাট এমনকি বহুতল ভবন। সংকুচিত প্রবাহ: খালের উৎসমুখে ২০ মিটার প্রশস্ততা থাকলেও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে তা মাত্র ১০ মিটারে এসে দাঁড়িয়েছে।অপরিকল্পিত সেতু: খালের মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে ২০টির অধিক ছোট-বড় সেতু ও সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে, যা পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে গলাটিপে ধরছে। বর্জ্যের ভাগাড়: বর্তমানে খালটি পৌর বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি।জলাবদ্ধতার অশনি সংকেত পরিবেশবিদদের মতে, বানিয়াবাজার খাল জামালপুর পৌরসভার ৫, ৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামনের দিনগুলোতে এই বিশাল এলাকা স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।​"প্রাকৃতিক এই জলাধারকে বাঁচাতে না পারলে ভবিষ্যতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে কৃত্রিম ড্রেনেজ ব্যবস্থা করেও শহরকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করা সম্ভব হবে না। বেলা (ধারণাপত্র) উদ্ধারে এখনই চাই মহাপরিকল্পনা ১৯৮৮ সালের বন্যার পর স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে এখানে সুইচগেট লাগানো হলেও বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা অকার্যকর প্রায়। খালের সীমানা নির্ধারণ (গাইড পিলার) না থাকায় দখলদাররা প্রতিদিন খালের জমি গ্রাস করছে। জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবিলম্বে খালের সংস্কার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।​বানিয়াবাজার খাল শুধু একটি জলধারা নয়, এটি জামালপুর শহরের ফুসফুস। এই ঐতিহ্যবাহী খালটি উদ্ধার করা না গেলে জামালপুরবাসী এক দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এই মৃতপ্রায় খালকে পুনর্জীবন দিতে।

<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>বিপন্ন বানিয়াবাজার খাল: অস্তিত্ব সংকটে জামালপুরের প্রাণভোমরা</strong></span></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>মোঃ সেলিম উদ্দিন | জামালপুর প্রতিনিধি |</strong></span></p><p><strong>এক সময়ের খরস্রোতা বানিয়াবাজার খাল এখন মৃতপ্রায়। দখল, দূষণ আর অপরিকল্পিত নগরায়নের থাবায় জামালপুর শহরের পানি নিষ্কাশনের এই প্রধান ধমনীটি আজ সংকীর্ণ নালায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক ধারণা পত্রে খালের এই করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রবাহপথ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার অংশ এই খালটি জামালপুর শহরের পূর্ব পাশ দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবহমান। ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা নদী ‘বানার’ নদীর উৎসমুখ থেকে উৎপন্ন হয়ে কুইরা বিল ও লুইচগেট হয়ে এটি ঝিনাই নদীতে পতিত হয়েছে।</strong></p><p>এক সময় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি বর্তমানে সংকুচিত হয়ে মাত্র ২ কিলোমিটারে এসে ঠেকেছে।দখল ও দূষণের মহোৎসব সরেজমিনে এবং বেলা’র প্রতিবেদনে দেখা যায়, খালের পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বাড়িঘর, দোকানপাট এমনকি বহুতল ভবন। সংকুচিত প্রবাহ: খালের উৎসমুখে ২০ মিটার প্রশস্ততা থাকলেও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে তা মাত্র ১০ মিটারে এসে দাঁড়িয়েছে।অপরিকল্পিত সেতু: খালের মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে ২০টির অধিক ছোট-বড় সেতু ও সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে, যা পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে গলাটিপে ধরছে। বর্জ্যের ভাগাড়: বর্তমানে খালটি পৌর বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি।জলাবদ্ধতার অশনি সংকেত পরিবেশবিদদের মতে, বানিয়াবাজার খাল জামালপুর পৌরসভার ৫, ৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামনের দিনগুলোতে এই বিশাল এলাকা স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।​"প্রাকৃতিক এই জলাধারকে বাঁচাতে না পারলে ভবিষ্যতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে কৃত্রিম ড্রেনেজ ব্যবস্থা করেও শহরকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করা সম্ভব হবে না। বেলা (ধারণাপত্র) উদ্ধারে এখনই চাই মহাপরিকল্পনা ১৯৮৮ সালের বন্যার পর স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে এখানে সুইচগেট লাগানো হলেও বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা অকার্যকর প্রায়। খালের সীমানা নির্ধারণ (গাইড পিলার) না থাকায় দখলদাররা প্রতিদিন খালের জমি গ্রাস করছে। জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবিলম্বে খালের সংস্কার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।​বানিয়াবাজার খাল শুধু একটি জলধারা নয়, এটি জামালপুর শহরের ফুসফুস। এই ঐতিহ্যবাহী খালটি উদ্ধার করা না গেলে জামালপুরবাসী এক দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এই মৃতপ্রায় খালকে পুনর্জীবন দিতে।</p>

জেলার খবর

play storeapp store