ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ফাল্গুন, ১৪৩২, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দক্ষ নেতৃত্বে জনবান্ধব পুলিশিংয়ের নজির গড়ছেন ওসি রতন শেখ (পিপিএম)
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ন
দক্ষ নেতৃত্বে জনবান্ধব পুলিশিংয়ের নজির গড়ছেন ওসি রতন শেখ (পিপিএম)
শফিকুল ইসলাম শফিক |
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা-য় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নিয়মিত টহল জোরদার, বিট পুলিশিং কার্যক্রম সক্রিয়করণ এবং মাদকবিরোধী অভিযানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ফলে অপরাধপ্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।থানা সূত্রে জানা যায়,শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এতে ছিনতাই, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িতরা চাপে পড়েছে। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা বিভিন্ন মামলার তদন্তে গতি আনা এবং দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের সন্তুষ্টিও বেড়েছে।স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, আগে রাতের বেলা চলাচল বা ব্যবসা পরিচালনায় যে ভীতি ছিল, বর্তমানে তা অনেকটাই কমেছে। অভিভাবকদের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তরুণ সমাজ অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে থাকছে। জনপ্রতিনিধিরা বলেন, নিয়মিত বিট পুলিশিং সভা আয়োজন এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি শোনার উদ্যোগ পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করেছে। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জ সদর আরও নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
বাংলাদেশ পুলিশের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মো. রতন শেখ (পিপিএম) বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ-এর একজন দক্ষ ও সুনামধন্য সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭৩ সালের ৫ নভেম্বর বাগেরহাট সদর উপজেলার হরিণখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৯৪ সালে সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে পুলিশে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়।দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি মাগুরা, ঢাকা মেট্রোপলিটন, কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেয়ে সাতক্ষীরায় ওসি (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন থানায় নেতৃত্ব দেন।২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলং-এ টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তার নেতৃত্ব প্রশংসিত হয়। পরবর্তীতে মাদারীপুরের শিবচর থানা এবং সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ থানা-য় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাকে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় বদলি করা হয়। বর্তমানে সীমান্তবর্তী জেলা সুনামগঞ্জে চোরাচালান, মাদক বিস্তার ও সামাজিক বিরোধ দমনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন তিনি।উল্লেখযোগ্য সম্মাননা ও স্বীকৃতি তার পেশাগত জীবনে প্রাপ্ত সম্মাননার মধ্যে রয়েছে-রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা), আইজিপি এক্সেমপ্ল্যারি গুড সার্ভিসেস ব্যাজ, শুদ্ধাচার পুরস্কার (২০২২), জাতিসংঘ শান্তি মিশন (সুদান) পদক (২০১৪), সিলেট রেঞ্জ ও সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (১০ নভেম্বর ২০২৫) সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় যোগদানের পর তিনি দ্বিতীয়বারের মতো ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে সিলেট রেঞ্জে শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে নির্বাচিত হন।সম্মাননা প্রাপ্তির পর ওসি রতন শেখ (পিপিএম) বলেন, পুলিশ হচ্ছে জনগণের সেবক। আমরা দেশ ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। অপরাধ দমনে পুলিশের যা করণীয়, আমি আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে সব সময় জনগণকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। এই সম্মাননা জনগণের নামে উৎসর্গ করছি।দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, দক্ষ নেতৃত্ব ও মানবিক মানসিকতার কারণে তিনি সুনামগঞ্জে জনবান্ধব পুলিশিংয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন। তার প্রতিশ্রুতি ও নিষ্ঠা স্থানীয়দের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করেছে, যা জেলার নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
জেলার খবর