ঢাকা, শনিবার, ৭ ফাল্গুন, ১৪৩২, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দেওড়াছড়া চা বাগানে ৯ হাজার কেজি চা পাতা বিক্রির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

দেওড়াছড়া চা বাগানে ৯ হাজার কেজি চা পাতা বিক্রির অভিযোগ

মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |

শ্রীমঙ্গল দেওড়া ছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার সাড়ে ৯ হাজার কেজি চা পাতা কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে বাগানের পঞ্চায়েত প্রধান সহ আংশিক শ্রমিক প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন। প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে মৌলভীবাজার কাস্টম কর্তৃপক্ষ বাগানের খাতা পত্র নিয়ে যায়। একি সাথে বিটিআরআই এর পক্ষ থেকে একটি তদন্ত টিম তদন্ত করে। অপর দিকে ম্যানেজার জহিরুল হক বলছেন, কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতির সাপেক্ষে গান্ধা চা পাতার জৈব সার তৈরীর জন্য ৪ হাজার কেজি বিক্রি করা হয়েছে। আর বিক্রির ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা কর্তৃপক্ষের তহবিলে জমা করা হয়েছে। জানাযায়, চাপাতা উৎপাদন শেষ হওয়ার পর ফ্যাক্টরী পরিস্কারের পর যে গান্ধা চাপাতা বেড় হয় তা প্রতি বছর ফেলে দেওয়া হতো। চলিত বছর তা না ফেলে করে ২৬ জানুয়ারী বিক্রি করে দেন ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার জহিরুল হক। বাগানের পঞ্চায়েত প্রদান সহ কিছু শ্রমিক প্রতিবাদী হয়ে উঠেন।

বাগানের শ্রমিক জসিম উদ্দিন, সালু মিয়া, জোবায়ের, আব্দুল মালিক, রঞ্জিৎ মাদ্রাজি, মল্লিক মিয়া বলেন, আমাদের বাগানের শ্রমিকরা তলব পাচ্ছেনা। ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার জহিরুল হক অনিয়ম দুর্নীতি করে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছেন। তিনি বাবু নুর মোহাম্মদকে দিয়ে গান্ধা চাপাতা ওজন করে ৯ হাজার ৫ শত ৫০ কেজি বাহিরে বিক্রি কারনে। যে পাতা খাওয়ার অযোগ্য। মানুষ খেলে অসুস্থ হতে পারে। এটা জেনেও তিনি বিষাক্ত পাতা বিক্রি করেন। আমরা বাগানের শ্রমিকরা জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার জহিরুল হক বলেন,কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু বিক্রির কোন কাগজ পত্র দেখাতে পারেননি। এছাড়াও পুর্বের ফেলে দেওয়া গান্ধা পাতা তুলে বস্তায় ঢোকাচ্ছেন। এটাও বিক্রি করবেন মনে হচ্ছে। দেওড়া ছড়া চা বাগানের ফ্যাক্টরী স্টাফ মো: নুর মিয়া বলেন, ম্যানেজার আমাকে বলেছেন গান্ধা চা পাতা কেনার জন্য একটি পার্টি আসবে। পাতা ওজন করে দেওয়ার জন্য। আমি পাতা ওজন করে দিয়েছি। পিকআপ ভ্যান এসে নিয়ে গেছে।বড়চেগের হারুনুর রশিদ বলেন, আমার বাড়ি রহিমপুর ইউনিয়নে। কিন্তু আমি সব সময় অন্যায়ের বিরোদ্ধে প্রতিবাদ করি। বাগানের বিষয়টি জানার পর খোঁজ নিয়ে দেখলাম অনিয়ম দুর্নীতি করে গান্ধা চাপাতা বিক্রি করা হচ্ছে। যা মানুষের খাবারের জন্য বিষ। তাই আমরাও এর প্রতিবাদ করি।ম্যানেজার জহিরুল হক বলেন, কিছু দূর্বৃত্তদের কারনে দেওড়া ছড়া চা বাগান এক সময় মারাত্নক লসে ছিল। বাগানটি বন্ধ হওয়ার সিন্ধান্ত নেয় সরকার। পরে আমাকে এ্যাসিটেন্ট ম্যানেজার থেকে ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার পদায়ন করা হয়। আমি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাগানটিকে লস কাটিয়ে লাভের মুখ দেখানোর কারনে দূর্বৃত্তরা আমাকে নানা ভাবে নির্যাতন করে এখান থেকে সরানোর চেষ্টা করে। গান্ধা চাপাতা বিক্রির বিষয় তিনি বলেন, পুর্বে আমরা এই পাতা ফেলে দিয়েছি। এই বছর টি বোর্ডের অনুমতি ক্রমে ৪ হাজার কেজি বিক্রি করে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা টি বোর্ডের একাউন্টে জমা করেছি। আর ফেলে দেওয়া গান্ধা পাতা টি বোর্ডের নির্দেশে তুলে রাখছি কম্পোষ্ট সার তৈরীর জন্য। আমি কোন অনিয়ম দুর্নীতি করিনি।বিভাগীয় কাষ্টম বিভাগের কর্মকর্তা সৌরভ দত্ত বিজয় বলেন, দেওড়াছড়া বাগানের অভিযোগের ভিক্তিতে তাদের খাতা, ফাইল পত্র আমাদের অফিসে তদন্তের জন্য আনা হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে তা জানা যাবে। কয়েক দিনের মধ্যে তা প্রকাশ করা হবে।

<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>দেওড়াছড়া চা বাগানে ৯ হাজার কেজি চা পাতা বিক্রির অভিযোগ</strong></span></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |</strong></span></p><p><strong>শ্রীমঙ্গল দেওড়া ছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার সাড়ে ৯ হাজার কেজি চা পাতা কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে বাগানের পঞ্চায়েত প্রধান সহ আংশিক শ্রমিক প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন। প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে মৌলভীবাজার কাস্টম কর্তৃপক্ষ বাগানের খাতা পত্র নিয়ে যায়। একি সাথে বিটিআরআই এর পক্ষ থেকে একটি তদন্ত টিম তদন্ত করে। অপর দিকে ম্যানেজার জহিরুল হক বলছেন, কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতির সাপেক্ষে গান্ধা চা পাতার জৈব সার তৈরীর জন্য ৪ হাজার কেজি বিক্রি করা হয়েছে। আর বিক্রির ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা কর্তৃপক্ষের তহবিলে জমা করা হয়েছে। জানাযায়, চাপাতা উৎপাদন শেষ হওয়ার পর ফ্যাক্টরী পরিস্কারের পর যে গান্ধা চাপাতা বেড় হয় তা প্রতি বছর ফেলে দেওয়া হতো। চলিত বছর তা না ফেলে করে ২৬ জানুয়ারী বিক্রি করে দেন ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার জহিরুল হক। বাগানের পঞ্চায়েত প্রদান সহ কিছু শ্রমিক প্রতিবাদী হয়ে উঠেন।</strong></p><p>বাগানের শ্রমিক জসিম উদ্দিন, সালু মিয়া, জোবায়ের, আব্দুল মালিক, রঞ্জিৎ মাদ্রাজি, মল্লিক মিয়া বলেন, আমাদের বাগানের শ্রমিকরা তলব পাচ্ছেনা। ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার জহিরুল হক অনিয়ম দুর্নীতি করে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছেন। তিনি বাবু নুর মোহাম্মদকে দিয়ে গান্ধা চাপাতা ওজন করে ৯ হাজার ৫ শত ৫০ কেজি বাহিরে বিক্রি কারনে। যে পাতা খাওয়ার অযোগ্য। মানুষ খেলে অসুস্থ হতে পারে। এটা জেনেও তিনি বিষাক্ত পাতা বিক্রি করেন। আমরা বাগানের শ্রমিকরা জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার জহিরুল হক বলেন,কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু বিক্রির কোন কাগজ পত্র দেখাতে পারেননি। এছাড়াও পুর্বের ফেলে দেওয়া গান্ধা পাতা তুলে বস্তায় ঢোকাচ্ছেন। এটাও বিক্রি করবেন মনে হচ্ছে। দেওড়া ছড়া চা বাগানের ফ্যাক্টরী স্টাফ মো: নুর মিয়া বলেন, ম্যানেজার আমাকে বলেছেন গান্ধা চা পাতা কেনার জন্য একটি পার্টি আসবে। পাতা ওজন করে দেওয়ার জন্য। আমি পাতা ওজন করে দিয়েছি। পিকআপ ভ্যান এসে নিয়ে গেছে।বড়চেগের হারুনুর রশিদ বলেন, আমার বাড়ি রহিমপুর ইউনিয়নে। কিন্তু আমি সব সময় অন্যায়ের বিরোদ্ধে প্রতিবাদ করি। বাগানের বিষয়টি জানার পর খোঁজ নিয়ে দেখলাম অনিয়ম দুর্নীতি করে গান্ধা চাপাতা বিক্রি করা হচ্ছে। যা মানুষের খাবারের জন্য বিষ। তাই আমরাও এর প্রতিবাদ করি।ম্যানেজার জহিরুল হক বলেন, কিছু দূর্বৃত্তদের কারনে দেওড়া ছড়া চা বাগান এক সময় মারাত্নক লসে ছিল। বাগানটি বন্ধ হওয়ার সিন্ধান্ত নেয় সরকার। পরে আমাকে এ্যাসিটেন্ট ম্যানেজার থেকে ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার পদায়ন করা হয়। আমি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাগানটিকে লস কাটিয়ে লাভের মুখ দেখানোর কারনে দূর্বৃত্তরা আমাকে নানা ভাবে নির্যাতন করে এখান থেকে সরানোর চেষ্টা করে। গান্ধা চাপাতা বিক্রির বিষয় তিনি বলেন, পুর্বে আমরা এই পাতা ফেলে দিয়েছি। এই বছর টি বোর্ডের অনুমতি ক্রমে ৪ হাজার কেজি বিক্রি করে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা টি বোর্ডের একাউন্টে জমা করেছি। আর ফেলে দেওয়া গান্ধা পাতা টি বোর্ডের নির্দেশে তুলে রাখছি কম্পোষ্ট সার তৈরীর জন্য। আমি কোন অনিয়ম দুর্নীতি করিনি।বিভাগীয় কাষ্টম বিভাগের কর্মকর্তা সৌরভ দত্ত বিজয় বলেন, দেওড়াছড়া বাগানের অভিযোগের ভিক্তিতে তাদের খাতা, ফাইল পত্র আমাদের অফিসে তদন্তের জন্য আনা হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে তা জানা যাবে। কয়েক দিনের মধ্যে তা প্রকাশ করা হবে।</p>

জেলার খবর

play storeapp store