ঢাকা, সোমবার, ৯ ফাল্গুন, ১৪৩২, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মৌলভীবাজারের সবকয়টি ইটভাটা অবৈধ ভাবে চালানো হচ্ছে ছারপত্র নেই একটিরও; ৪৫ টি ভাটা রয়েছে জেলায়

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

মৌলভীবাজারের সবকয়টি ইটভাটা অবৈধ ভাবে চালানো হচ্ছে ছারপত্র নেই একটিরও; ৪৫ টি ভাটা রয়েছে জেলায়

মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |

মৌলভীবাজার জেলায় অন্তত ৪৫টি ইটভাটা অবৈধভাবে সচল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র, লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এসব ভাটা পরিচালিত হওয়ায় পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল। এসব ইটভাটা কৃষি জমির টপ সয়েল দিয়ে ইট তৈরি করা হয়। জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করে মাটি পোড়ানো হয়। তবে বিভিন্ন ভাটার মালিকদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, তাঁরা বৈধভাবেই ভাটা পরিচালনা করছেন। বেশিরভাগ ইটভাটা মামলা জটিলতা রয়েছে। উচ্চ আদালতে রিট করে বৈধতা নিয়ে চালানো হচ্ছে।এসব ভাটা শুধু অবৈধভাবে চলছেনা। ভাটার জন অবৈধভাবে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে পাহাড় সমান মাটি মৌজুদ করে রাখা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ আইন বিরোধী। এছাড়া ইট প্রস্তুত নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাহাড়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং লোকালয় থেকে তিন কি.মি. দূরত্বের মধ্যে কোনো ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না উল্লেখ থাকলেও জেলার বেশিরভাগ ইটভাটা ঘনবসতি এলাকা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সড়কের পাশে রয়েছে।

মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় ৪৫ টি ইটভাটা রয়েছে। প্রত্যাকটি ইট ভাটা অবৈধভাবে চালানো হচ্ছে। ২৩ টি ভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে।মালিক পক্ষ উচ্চ আদালতের মাধ্যমে ৬ মাস অন্তর অন্তর রিট করে ভাটা চালাচ্ছেন।অনুসন্ধানে জানা যায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এ বলা হয়েছে, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। কৃষি জমি, পাহাড়, টিলা থেকে মাটি কেটে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতেও নিষেধ রয়েছে। তবে এসব আইনের ব্যাস্থবিক কোন রুপ নেই। জেলয়া প্রতিবছর প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি ঘন ফুট ফসিল জমির টপ সয়েল কেটে ইট ভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়। এতে একদিকে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে অন্যদিকে পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন ইটভটা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি এনে পাহাড় সমান উঁচু করে রাখা হচ্ছে ইট ভাটায়। বেশিরভাগ মাটি তিন ফসলি জমি থেকে কেটে আনা হচ্ছে। একেক ভাটায় বছরে ২০ থেকে ৩০ লাখ ইট পুড়ানো হয়। ইট পুড়ানোর জন্য জ্বালানি হিসেবে গাছের খন্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, জুড়ী, বড়লেখা, রাজনগর, শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘনবসতি এলকা, সড়কের পাশে ভাটা রয়েছে। এছাড়া এক কিলোমিটারর মধ্যে ৩-৪ টি ইট ভাটা রয়েছে।ভাটার আশপাশের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, “দিন-রাত কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে থাকে। শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। বাড়ির ছাদ, গাছপালা ও পুকুরে ছাই পড়ে নষ্ট হচ্ছে। কৃষিজমির ফলন কমে গেছে।”একজন কৃষক বলেন,“ভাটার জন্য জমির মাটি কেটে নেওয়ায় আমাদের ফসল ঠিকমতো হচ্ছে না। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমরা চাষাবাদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবো।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভাটা মালিক বলেন, “অনেক সময় কাগজপত্র নবায়নে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে ছাড়পত্র পেতে দেরি হয়। আমরা নিয়ম মেনে চলতে চাই। সরকার যদি দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করে, তাহলে আমরা বৈধতার আওতায় আসতে পারব।” তাদের দাবি, ইটভাটা শিল্প স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং নির্মাণখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কার্য পরিষদের সদস্য আ.স.ম সালেহ সোহেল বলেন,অবিশ্বাস্য হলেও সত্য জেলার সবকটি ইটভাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির আশপাশে ভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে এসব নিয়ম মানা হচ্ছে না। কালো ধোঁয়া, চিমনির ছাই ও মাটি কাটার কারণে পরিবেশ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, “ইটভাটার জন্য উর্বর টপসয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা কৃষির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। কৃষিজমি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।” তিনি জানান, কৃষিজমি সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: মাঈদুল ইসলাম বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় ৪৫ টি ইটভাটা রয়েছে সবকয়টি অবৈধভাবে চালানো হচ্ছে। ২৩ টি ভাটার পরিবেশের ছারপত্র বাতিল করা হয়েছে। বেশিরভাগ ভাটা আদলত থেকে রিট করে চালানো হচ্ছে। সময় শেষ হওয়ার আগেই আবার সময় বাড়িয়ে নেন তাঁরা।মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানভীর হোসেন বলেন, “অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে জেলা প্রশাসন অবগত রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ভাটার বিরুদ্ধে জরিমানা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব ভাটা পরিবেশগত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই চলছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বৈধতা ছাড়া কোনো ইটভাটা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত তালিকা প্রকাশ, নিয়মিত তদারকি ও অবৈধ ভাটা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিবেশ ও কৃষিদুই খাতই বড় ধরনের সংকটে পড়বে।

<p><strong>মৌলভীবাজারের সবকয়টি ইটভাটা অবৈধ ভাবে চালানো হচ্ছে ছারপত্র নেই একটিরও; ৪৫ টি ভাটা রয়েছে জেলায়</strong></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |</strong></span></p><p><strong>মৌলভীবাজার জেলায় অন্তত ৪৫টি ইটভাটা অবৈধভাবে সচল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র, লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এসব ভাটা পরিচালিত হওয়ায় পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল। এসব ইটভাটা কৃষি জমির টপ সয়েল দিয়ে ইট তৈরি করা হয়। জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করে মাটি পোড়ানো হয়। তবে বিভিন্ন ভাটার মালিকদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, তাঁরা বৈধভাবেই ভাটা পরিচালনা করছেন। বেশিরভাগ ইটভাটা মামলা জটিলতা রয়েছে। উচ্চ আদালতে রিট করে বৈধতা নিয়ে চালানো হচ্ছে।এসব ভাটা শুধু অবৈধভাবে চলছেনা। ভাটার জন অবৈধভাবে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে পাহাড় সমান মাটি মৌজুদ করে রাখা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ আইন বিরোধী। এছাড়া ইট প্রস্তুত নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাহাড়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং লোকালয় থেকে তিন কি.মি. দূরত্বের মধ্যে কোনো ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না উল্লেখ থাকলেও জেলার বেশিরভাগ ইটভাটা ঘনবসতি এলাকা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সড়কের পাশে রয়েছে।</strong></p><p>মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় ৪৫ টি ইটভাটা রয়েছে। প্রত্যাকটি ইট ভাটা অবৈধভাবে চালানো হচ্ছে। ২৩ টি ভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে।মালিক পক্ষ উচ্চ আদালতের মাধ্যমে ৬ মাস অন্তর অন্তর রিট করে ভাটা চালাচ্ছেন।অনুসন্ধানে জানা যায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এ বলা হয়েছে, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। কৃষি জমি, পাহাড়, টিলা থেকে মাটি কেটে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতেও নিষেধ রয়েছে। তবে এসব আইনের ব্যাস্থবিক কোন রুপ নেই। জেলয়া প্রতিবছর প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি ঘন ফুট ফসিল জমির টপ সয়েল কেটে ইট ভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়। এতে একদিকে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে অন্যদিকে পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন ইটভটা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি এনে পাহাড় সমান উঁচু করে রাখা হচ্ছে ইট ভাটায়। বেশিরভাগ মাটি তিন ফসলি জমি থেকে কেটে আনা হচ্ছে। একেক ভাটায় বছরে ২০ থেকে ৩০ লাখ ইট পুড়ানো হয়। ইট পুড়ানোর জন্য জ্বালানি হিসেবে গাছের খন্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, জুড়ী, বড়লেখা, রাজনগর, শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘনবসতি এলকা, সড়কের পাশে ভাটা রয়েছে। এছাড়া এক কিলোমিটারর মধ্যে ৩-৪ টি ইট ভাটা রয়েছে।ভাটার আশপাশের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, “দিন-রাত কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে থাকে। শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। বাড়ির ছাদ, গাছপালা ও পুকুরে ছাই পড়ে নষ্ট হচ্ছে। কৃষিজমির ফলন কমে গেছে।”একজন কৃষক বলেন,“ভাটার জন্য জমির মাটি কেটে নেওয়ায় আমাদের ফসল ঠিকমতো হচ্ছে না। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমরা চাষাবাদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবো।”</p><p>নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভাটা মালিক বলেন, “অনেক সময় কাগজপত্র নবায়নে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে ছাড়পত্র পেতে দেরি হয়। আমরা নিয়ম মেনে চলতে চাই। সরকার যদি দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করে, তাহলে আমরা বৈধতার আওতায় আসতে পারব।” তাদের দাবি, ইটভাটা শিল্প স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং নির্মাণখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কার্য পরিষদের সদস্য আ.স.ম সালেহ সোহেল বলেন,অবিশ্বাস্য হলেও সত্য জেলার সবকটি ইটভাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির আশপাশে ভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে এসব নিয়ম মানা হচ্ছে না। কালো ধোঁয়া, চিমনির ছাই ও মাটি কাটার কারণে পরিবেশ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, “ইটভাটার জন্য উর্বর টপসয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা কৃষির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। কৃষিজমি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।” তিনি জানান, কৃষিজমি সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: মাঈদুল ইসলাম বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় ৪৫ টি ইটভাটা রয়েছে সবকয়টি অবৈধভাবে চালানো হচ্ছে। ২৩ টি ভাটার পরিবেশের ছারপত্র বাতিল করা হয়েছে। বেশিরভাগ ভাটা আদলত থেকে রিট করে চালানো হচ্ছে। সময় শেষ হওয়ার আগেই আবার সময় বাড়িয়ে নেন তাঁরা।মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানভীর হোসেন বলেন, “অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে জেলা প্রশাসন অবগত রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ভাটার বিরুদ্ধে জরিমানা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব ভাটা পরিবেশগত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই চলছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বৈধতা ছাড়া কোনো ইটভাটা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত তালিকা প্রকাশ, নিয়মিত তদারকি ও অবৈধ ভাটা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিবেশ ও কৃষিদুই খাতই বড় ধরনের সংকটে পড়বে।</p>

জেলার খবর

play storeapp store