ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফাল্গুন, ১৪৩২, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সীমান্ত পেরিয়ে প্রেম, রাজনগরে বিয়ে

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

সীমান্ত পেরিয়ে প্রেম, রাজনগরে বিয়ে

মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |

মৌলভীবাজারের রাজনগরে ভিন্নধর্মী এক আয়োজন ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। রাজনগরে কামারচাক ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বিষ্ণুপদ ধাম মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রবাসী যুবক সুকান্ত সেন ও চীনের সাংহাইয়ের বাসিন্দা ক্রিস হুই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।জানা যায়, রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে শতাধিক অতিথি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। এর আগে কনে চিনা তরুণী ক্রিস হোয়েকে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে নিজ বাড়ি রাজনগর কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামে। প্রয়াত স্বপন কুমার সেন ও শিল্পী রানী সেনের ছেলে সুকান্ত কুমার সেন বৃহস্পতিবার বিদেশি নববধূকে নিয়ে আসলে- এক নজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। আকাশপথে কনের আগমনকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয় ব্যাপক কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস।

বিয়ের পূর্বদিন অনুষ্ঠিত হয় গায়ে হলুদ। দেশীয় ঐতিহ্যে সাজানো আয়োজনে অংশ নেন দুই পরিবারের সদস্যরা। লাল বেনারসি শাড়িতে সজ্জিত কনে এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বরকে ঘিরে ছিল আনন্দঘন পরিবেশ। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সাত পাকে আবদ্ধ হন নবদম্পতি; পরে বর সিঁদুর পরিয়ে দেন কনের সিঁথিতে।সুকান্ত সেন রাজনগরের টিকরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০১৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য চীনে পাড়ি জমান এবং সেখানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়িক সূত্রে পরিচয় হয় ক্রিস হুইয়ের সঙ্গে। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, আর বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্কে রূপ নেয় তাদের পথচলা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে চীনে তাদের বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে পারিবারিক ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য বাংলাদেশে আয়োজন করা হয় এ অনুষ্ঠান। বিয়েতে কনের পরিবারের সদস্যরাও চীন থেকে উপস্থিত ছিলেন।সুকান্তের পরিবার জানান, বাংলাদেশ বিবাহ অনুষ্ঠানে ক্রীসের সাথে তারা মা বাবা ও চাচা সঙ্গে এসেছেন। ২১ফেব্রুয়ারি গায়ে হলুদ ও ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় বিষ্ণুপদ ধাম মন্দিরে সুকান্ত ও ক্রিস হুইয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি বৌভাতের আয়োজন হয়েছে। আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে।বর সুকান্ত সেন এবং কনে চীনা নাগরিক ক্রিস হুই জানান, তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং উভয় পরিবারের সদস্যরা আনন্দঘন পরিবেশে এ আয়োজন উদ্যাপন করছেন। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনে তাদের বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশে এসে সামাজিক ও পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বিয়ের আয়োজন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। অবশেষে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে।

কনে: চীনা নাগরিক ক্রিস হুই বলেন, বাংলাদেশি তরুণ সুকান্ত সেনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন । একজন বাংলাদেশিকে বিয়ে করে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। এটি আমার জীবনের এক অসাধারণ মুহূর্ত।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আন্তর্জাতিক এ সম্পর্ককে ঘিরে এলাকায় এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল এ আয়োজন। নবদম্পতির এ বন্ধন দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে।বরের সুকান্ত সেনের ছোট বোন ও সুকান্ত সেনের ছোট ভাই বলেন, ‘সে (ক্রিস হোয়ে) খুবই আন্তরিক। অল্প সময়ে আমাদের খুবই আপন করে নিয়েছে। ‘এই বিয়েতে আমরা খুশি। যে যার সঙ্গে ইচ্ছা সংসার করে ভালো থাকবে, সে রকমই হওয়া উচিত।সুকান্ত সেনের মা শিল্পী রানী সেন বলেন,“আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। আমাদের পরিবারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলের বিয়েতে নতুন একজন সদস্য আমাদের পরিবারে যোগ হয়েছে এটা আমাদের জন্য বড় আনন্দের বিষয়। আমার ছেলের স্ত্রী আমার সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক বজায় রাখছে।কামারচাক ইউনিয়নের বিষ্ণুপদ ধাম মন্দিরে পুরোহিত কিশোর কান্তি ভট্রাচার্য বলেন আমি বহু বাঙালি দম্পতির বিয়ে সম্পন্ন করেছি। তবে এই প্রথম কোনো চীনা নাগরিকের বিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার সৌভাগ্য হলো। চীনা নাগরিক ক্রিস হুইয়ের মা-বাবা, কাকা ও কাকিও এ বিয়েতে উপস্থিত রয়েছেন। কনের বাবা আমাকে কন্যাদানের দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই আমি পুরোহিত হিসেবে ক্রিস হুইয়ের কন্যাদান সম্পন্ন করব।

<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>সীমান্ত পেরিয়ে প্রেম, রাজনগরে বিয়ে</strong></span></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |</strong></span></p><p><strong>মৌলভীবাজারের রাজনগরে ভিন্নধর্মী এক আয়োজন ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। রাজনগরে কামারচাক ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বিষ্ণুপদ ধাম মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রবাসী যুবক সুকান্ত সেন ও চীনের সাংহাইয়ের বাসিন্দা ক্রিস হুই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।জানা যায়, রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে শতাধিক অতিথি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। এর আগে কনে চিনা তরুণী ক্রিস হোয়েকে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে নিজ বাড়ি রাজনগর কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামে। প্রয়াত স্বপন কুমার সেন ও শিল্পী রানী সেনের ছেলে সুকান্ত কুমার সেন বৃহস্পতিবার বিদেশি নববধূকে নিয়ে আসলে- এক নজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। আকাশপথে কনের আগমনকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয় ব্যাপক কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস।</strong></p><p>বিয়ের পূর্বদিন অনুষ্ঠিত হয় গায়ে হলুদ। দেশীয় ঐতিহ্যে সাজানো আয়োজনে অংশ নেন দুই পরিবারের সদস্যরা। লাল বেনারসি শাড়িতে সজ্জিত কনে এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বরকে ঘিরে ছিল আনন্দঘন পরিবেশ। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সাত পাকে আবদ্ধ হন নবদম্পতি; পরে বর সিঁদুর পরিয়ে দেন কনের সিঁথিতে।সুকান্ত সেন রাজনগরের টিকরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০১৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য চীনে পাড়ি জমান এবং সেখানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়িক সূত্রে পরিচয় হয় ক্রিস হুইয়ের সঙ্গে। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, আর বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্কে রূপ নেয় তাদের পথচলা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে চীনে তাদের বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে পারিবারিক ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য বাংলাদেশে আয়োজন করা হয় এ অনুষ্ঠান। বিয়েতে কনের পরিবারের সদস্যরাও চীন থেকে উপস্থিত ছিলেন।সুকান্তের পরিবার জানান, বাংলাদেশ বিবাহ অনুষ্ঠানে ক্রীসের সাথে তারা মা বাবা ও চাচা সঙ্গে এসেছেন। ২১ফেব্রুয়ারি গায়ে হলুদ ও ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় বিষ্ণুপদ ধাম মন্দিরে সুকান্ত ও ক্রিস হুইয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি বৌভাতের আয়োজন হয়েছে। আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে।বর সুকান্ত সেন এবং কনে চীনা নাগরিক ক্রিস হুই জানান, তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং উভয় পরিবারের সদস্যরা আনন্দঘন পরিবেশে এ আয়োজন উদ্যাপন করছেন। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনে তাদের বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশে এসে সামাজিক ও পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বিয়ের আয়োজন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। অবশেষে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে। </p><p>কনে: চীনা নাগরিক ক্রিস হুই বলেন, বাংলাদেশি তরুণ সুকান্ত সেনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন । একজন বাংলাদেশিকে বিয়ে করে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। এটি আমার জীবনের এক অসাধারণ মুহূর্ত।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আন্তর্জাতিক এ সম্পর্ককে ঘিরে এলাকায় এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল এ আয়োজন। নবদম্পতির এ বন্ধন দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে।বরের সুকান্ত সেনের ছোট বোন ও সুকান্ত সেনের ছোট ভাই বলেন, ‘সে (ক্রিস হোয়ে) খুবই আন্তরিক। অল্প সময়ে আমাদের খুবই আপন করে নিয়েছে। ‘এই বিয়েতে আমরা খুশি। যে যার সঙ্গে ইচ্ছা সংসার করে ভালো থাকবে, সে রকমই হওয়া উচিত।সুকান্ত সেনের মা শিল্পী রানী সেন বলেন,“আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। আমাদের পরিবারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলের বিয়েতে নতুন একজন সদস্য আমাদের পরিবারে যোগ হয়েছে এটা আমাদের জন্য বড় আনন্দের বিষয়। আমার ছেলের স্ত্রী আমার সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক বজায় রাখছে।কামারচাক ইউনিয়নের বিষ্ণুপদ ধাম মন্দিরে পুরোহিত কিশোর কান্তি ভট্রাচার্য বলেন আমি বহু বাঙালি দম্পতির বিয়ে সম্পন্ন করেছি। তবে এই প্রথম কোনো চীনা নাগরিকের বিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার সৌভাগ্য হলো। চীনা নাগরিক ক্রিস হুইয়ের মা-বাবা, কাকা ও কাকিও এ বিয়েতে উপস্থিত রয়েছেন। কনের বাবা আমাকে কন্যাদানের দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই আমি পুরোহিত হিসেবে ক্রিস হুইয়ের কন্যাদান সম্পন্ন করব।</p>

জেলার খবর

play storeapp store