ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ ফাল্গুন, ১৪৩২, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ হোস্টেলকে ঘিরে উত্তেজনা, তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১০ পূর্বাহ্ন
জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ হোস্টেলকে ঘিরে উত্তেজনা, তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ
জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি |
জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে সাম্প্রতিক এক ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী সেনাবাহিনীর একটি দল হোস্টেল ভবনে অস্থায়ীভাবে অবস্থান নেয়। এ সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে গিয়ে তারা কিছু আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার করেন বলে দাবি করেছেন কলেজের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের ভাষ্য, ঘটনাটি সম্ভাব্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত বহন করে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা জামালগঞ্জ রিভার ভিউ পার্ক এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে মিলিত হয়। এ সময় তারা হোস্টেল তত্ত্বাবধানে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিষয়টি কলেজ প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানো হয়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রথমে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে দাবি করা হয়েছে।বিক্ষোভকারীরা আরও জানান, হোস্টেল ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে আগে থেকেও নানা অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পূর্বেও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন। পাশাপাশি কলেজে শিক্ষক সংকট, কিছু কক্ষ তালাবদ্ধ রাখা এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের পদত্যাগের দাবিও জানান তারা।অন্যদিকে, ভাইরাল হওয়া এক বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দাবি করেন, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিষয়টি কেবল মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। কোনো লিখিত অভিযোগ বা আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন না পাওয়ায় প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) তাপস শীল শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের হল সুপার মুজিবুর রহমান ও ইতিহাস বিভাগের প্রধান পংকজ কুমার বর্মণকে কলেজের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্তের কাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত দেন।এব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) তাপস শীল জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের হল সুপার মুজিবুর রহমান ও শামিমা আক্তার শিমু ও ইতিহাস বিভাগের প্রধান পংকজ কুমার বর্মণকে অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এবং শিক্ষার্থীদের অভিযোগ লিখিত আকারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দেওয়ার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।
জেলার খবর