ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২, ৩ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ ৬ মাস পর বালিগাঁও বাজারের ৩০ ভরি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় নতুন মোড়,উদ্ধার মাত্র ৯ ভরি ৮ আনা ৫ রতি,বাকি ২১ ভরি কোথায়?

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

০২ মার্চ ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

দীর্ঘ ৬ মাস পর বালিগাঁও বাজারের ৩০ ভরি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় নতুন মোড়,উদ্ধার মাত্র ৯ ভরি ৮ আনা ৫ রতি,বাকি ২১ ভরি কোথায়?

লৌহজং প্রতিনিধি |

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও বাজারে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় ছয় মাস পর নতুন মোড় নিয়েছে আলোচিত এই ঘটনা। ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী রাজন মন্ডলের দাবি চুরি হওয়া স্বর্ণের মধ্যে মাত্র ৯ ভরি ৮ আনা ৫ রতি উদ্ধার করা হয়েছে।বাকি প্রায় ২১ ভরি স্বর্ণের এখনো কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে প্রতিদিনের মতো দোকান থেকে স্বর্ণালংকার এনে নিজ বসতঘরে রাখেন তিনি। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, স্বর্ণভর্তি ব্যাগ উধাও।পরে তিনি টঙ্গীবাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ রাজন মন্ডল ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মন্তব্য করে বাইরের কেউ নয়, পরিবারের কেউ জড়িত থাকতে পারে। এ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেন।পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) কে সরাসরি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীর।ছয় মাস পর নতুন তথ্য ২১ তারিখ রাজন মন্ডল জানতে পারেন, তার ভাগ্নি শ্রাবণতী পাশের বাড়ির এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করে সোনারং এলাকায় ভাড়া বাসায় উঠেছেন।

স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ওই বাসায় গেলে যুবকের ব্যাগ থেকে কিছু স্বর্ণালংকার উদ্ধার হয় বলে দাবি করা হয়।রাজেন মন্ডলের ভাগ্নি এবং ওই তরঙ্গ সিকদার নামের ছেলেটি তারা স্বর্ণ নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।তবে রাজন মন্ডলের দাবি, তরঙ্গ শিকদার প্রলোভন দেখিয়ে তার ভাগ্নিকে স্বর্ণ চুরিতে জড়ায় এবং তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়।তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বর্ণ উদ্ধারের সময় চুরি হওয়া সব স্বর্ণ ফেরত দেওয়া হয়নি।তার ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়েটি তার মাকে মেসেজে জানিয়েছিল ব্যাগে ৩০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ এক লক্ষ টাকা ছিল। অথচ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৯ ভরি ৮ আনা ৫ রতি।আরও যেসব প্রশ্ন উঠছে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।এ ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে তাহলো,কেন রাজন মন্ডলের অনুপস্থিতিতে ব্যাগ খোলা হলো?কেন মাত্র ৯ ভরি ৮ আনা ৫ রতি স্বর্ণ বুঝিয়ে দেওয়া হলো? বাকি প্রায় ২১ ভরি স্বর্ণ কোথায়?নগদ এক লক্ষ টাকার কী হলো?মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আংশিক স্বর্ণ উদ্ধারের বিষয়টি প্রশাসনকে কেন জানানো হয়নি?রাজন মন্ডলের অভিযোগ, তরঙ্গ শিকদারের চাচা কামরুল শিকদার ও সুজন শিকদার সম্পূর্ণ স্বর্ণ বুঝিয়ে দেননি এবং বাকি স্বর্ণ ফেরত দিতে বিলম্ব করছেন।এ বিষয়ে মো. মনিরুল হক ডাবলু, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), টঙ্গীবাড়ী থানা বলেন, চুরির ঘটনার পর চোরের সন্ধান পেলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে দ্রুত পুলিশকে জানানো উচিত ছিল। তাহলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক এবং চুরি হওয়া সম্পূর্ণ স্বর্ণালংকার উদ্ধারের ব্যবস্থা নিতে পারত।এখন পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি উঠেছে সর্বমহলে।স্থানীয়দের দাবি উদ্ধারকৃত স্বর্ণের সঠিক জব্দ তালিকা প্রকাশ করতে হবে,বাকি ২১ ভরি স্বর্ণ ও নগদ অর্থের উৎস-গন্তব্য খতিয়ে দেখতে হবে,সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে,ঘটনাটি বর্তমানে টঙ্গীবাড়ীজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।সত্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে ৩০ ভরি স্বর্ণের বাকি ২১ ভরি কোথায়?

<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>দীর্ঘ ৬ মাস পর বালিগাঁও বাজারের ৩০ ভরি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় নতুন মোড়,উদ্ধার মাত্র ৯ ভরি ৮ আনা ৫ রতি,বাকি ২১ ভরি কোথায়?</strong></span></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>লৌহজং প্রতিনিধি |</strong></span></p><p><strong>মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও বাজারে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় ছয় মাস পর নতুন মোড় নিয়েছে আলোচিত এই ঘটনা। ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী রাজন মন্ডলের দাবি চুরি হওয়া স্বর্ণের মধ্যে মাত্র ৯ ভরি ৮ আনা ৫ রতি উদ্ধার করা হয়েছে।বাকি প্রায় ২১ ভরি স্বর্ণের এখনো কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে প্রতিদিনের মতো দোকান থেকে স্বর্ণালংকার এনে নিজ বসতঘরে রাখেন তিনি। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, স্বর্ণভর্তি ব্যাগ উধাও।পরে তিনি টঙ্গীবাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ রাজন মন্ডল ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মন্তব্য করে বাইরের কেউ নয়, পরিবারের কেউ জড়িত থাকতে পারে। এ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেন।পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) কে সরাসরি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীর।ছয় মাস পর নতুন তথ্য ২১ তারিখ রাজন মন্ডল জানতে পারেন, তার ভাগ্নি শ্রাবণতী পাশের বাড়ির এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করে সোনারং এলাকায় ভাড়া বাসায় উঠেছেন।</strong></p><p>স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ওই বাসায় গেলে যুবকের ব্যাগ থেকে কিছু স্বর্ণালংকার উদ্ধার হয় বলে দাবি করা হয়।রাজেন মন্ডলের ভাগ্নি এবং ওই তরঙ্গ সিকদার নামের ছেলেটি তারা স্বর্ণ নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।তবে রাজন মন্ডলের দাবি, তরঙ্গ শিকদার প্রলোভন দেখিয়ে তার ভাগ্নিকে স্বর্ণ চুরিতে জড়ায় এবং তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়।তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বর্ণ উদ্ধারের সময় চুরি হওয়া সব স্বর্ণ ফেরত দেওয়া হয়নি।তার ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়েটি তার মাকে মেসেজে জানিয়েছিল ব্যাগে ৩০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ এক লক্ষ টাকা ছিল। অথচ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৯ ভরি ৮ আনা ৫ রতি।আরও যেসব প্রশ্ন উঠছে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।এ ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে তাহলো,কেন রাজন মন্ডলের অনুপস্থিতিতে ব্যাগ খোলা হলো?কেন মাত্র ৯ ভরি ৮ আনা ৫ রতি স্বর্ণ বুঝিয়ে দেওয়া হলো? বাকি প্রায় ২১ ভরি স্বর্ণ কোথায়?নগদ এক লক্ষ টাকার কী হলো?মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আংশিক স্বর্ণ উদ্ধারের বিষয়টি প্রশাসনকে কেন জানানো হয়নি?রাজন মন্ডলের অভিযোগ, তরঙ্গ শিকদারের চাচা কামরুল শিকদার ও সুজন শিকদার সম্পূর্ণ স্বর্ণ বুঝিয়ে দেননি এবং বাকি স্বর্ণ ফেরত দিতে বিলম্ব করছেন।এ বিষয়ে মো. মনিরুল হক ডাবলু, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), টঙ্গীবাড়ী থানা বলেন, চুরির ঘটনার পর চোরের সন্ধান পেলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে দ্রুত পুলিশকে জানানো উচিত ছিল। তাহলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক এবং চুরি হওয়া সম্পূর্ণ স্বর্ণালংকার উদ্ধারের ব্যবস্থা নিতে পারত।এখন পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি উঠেছে সর্বমহলে।স্থানীয়দের দাবি উদ্ধারকৃত স্বর্ণের সঠিক জব্দ তালিকা প্রকাশ করতে হবে,বাকি ২১ ভরি স্বর্ণ ও নগদ অর্থের উৎস-গন্তব্য খতিয়ে দেখতে হবে,সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে,ঘটনাটি বর্তমানে টঙ্গীবাড়ীজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।সত্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে ৩০ ভরি স্বর্ণের বাকি ২১ ভরি কোথায়?</p>

জেলার খবর

play storeapp store