ঢাকা, বুধবার, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২, ৪ মার্চ ২০২৬
কমলগঞ্জের আলীনগর চা বাগানে ফাগুয়া উৎসবে মাতোয়ারা চা শ্রমিকরা
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:১১ অপরাহ্ন
কমলগঞ্জের আলীনগর চা বাগানে ফাগুয়া উৎসবে মাতোয়ারা চা শ্রমিকরা
মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |
চা বাগান শ্রমিকরা বৎসরে দুর্গাপূজা ও ফাগুয়া উৎসব এই দুই অনুষ্ঠানে মাতোয়ারা হয়ে উঠেন। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর চা বাগানে সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত চা শ্রমিকদের দোল পূর্ণিমায় ফাগুয়া উৎসব উদযাপন হয়েছে। আলীনগর চা বাগান শিবমন্দিরে চা শ্রমিকদের আয়োজনে অনুষ্ঠানের শুরুতে চা শ্রমিকরা নিজেদের উৎসবের গান ও কাঠি নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১টায় আলীনগর চা বাগানের শিবমন্দির প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে ফাগুয়া উৎসবের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বেঅদন করেন বাংলাদেশের সিলেটে নিযুক্ত সহকারী ভারতীয় হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস।বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরীর সভাপতিত্বে ও সজল কৈরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আউয়াল, আলীনগর চা বাগান ব্যাবস্থাপক এজেএম রফিকুল আলম, সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রাজেশ ভাটিয়া, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল চন্দ্র দাস, মাধবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু। আলোচনা সভা শেষে চা বাগানের ছাত্র-যুবকরা ও প্রধান অতিথি একে উপরের গায়ে আবির রঙ মেখে র ফাগুয়া উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কবি ও শিল্পী রোহিত কৈরী জীবন নিজের রচিত একটি গান পরিবেশন করেন। এরপর চা শ্রমিকদের ঐতিহ্যবাহী ঝুমুর নাচ ও কাটি নাচ পরিবেশিত হয়। প্রাণবন্ত এসব পরিবেশনায় উপস্থিত অতিথিরা মুগ্ধ হন।সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনার শ্রী অনুরুদ্ধ দাস উৎসবস্থলে পৌঁছালে চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে উত্তরীয় পরিয়ে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়। পরে তিনি শিব মন্দিরে পূজা অর্চনা শেষে মূল অনুষ্ঠান মঞ্চে যোগ দেন।জানা যায়,প্রাচীনকাল থেকে চা বাগানগুলোতে ফাগুয়ার উৎসব পালন করা হয়। লাল আবির রঙসহ নানা রঙ মাখামাখি করে একে অন্যের গায়ে ছিটিয়ে দেয়। বসন্তের রঙ লেগেছে কমলগঞ্জের সবুজ সমারোহের বিভিন্ন চা-বাগানে। বসন্তের রঙ-রূপে নতুন হয়ে উঠেছে প্রকৃতি। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চা গাছগুলোর ধূসর বর্ণ হলেও চা-বাগানের মানুষের জীবন দোলের রঙে ভরে উঠেছে। চিরসবুজ চা-বাগানগুলোর সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত চা শ্রমিকদের শারদীয় দুর্গোৎসবের পর সবচেয়ে বড় উৎসব হলো দোল পূর্ণিমা। তবে চা শ্রমিকদের ভাষায় এটি রঙের পরব বা ফাগুয়া। চা শ্রমিকরা কাঁদা ও রঙ খেলার মাধ্যমে ফাগুয়া উৎসব উদযাপন করে থাকেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনার শ্রী অনুরুদ্ধ দাস বলেন, ‘সিলেটে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তার প্রথম ফাগুয়া উৎসবে অংশগ্রহণ। তিনি জানান, ‘এই উৎসবে এসে মনে হচ্ছে যেন নিজের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করছি।’ চা শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে তিনি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি শ্রমিকদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রয়োজনে এসব শিল্পীদের সিলেটের ডেপুটি হাই কমিশনে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও বলেন। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতেও চা শ্রমিকদের মাঝে আসবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বসন্তের আবির রঙে রাঙানো আলীনগর চা বাগান যেন মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে উৎসব, ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির বন্ধনে একাত্ম হন সবাই।এটি চা শ্রমিকদের একটি প্রাণের উৎসব। ফাগুয়া উৎসবে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ চা শ্রমিকদের সাধারণ ছুটি দিয়ে থাকেন। সবকিছু ভুলে সকল চা শ্রমিক পরিবার এক হয়ে চা-বাগানে উৎসবটি পালন করেন। উৎসব চলবে ৫ দিনব্যাপী।
জেলার খবর