ঢাকা, বুধবার, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২, ৪ মার্চ ২০২৬

জিয়ানগর’ নামে ফিরছে ইন্দুরকানী উপজেলা এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যেই জারি হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

জিয়ানগর নামে ফিরছে ইন্দুরকানী উপজেলা এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যেই জারি হয়েছে

ইন্দুরকানী পিরোজপুর প্রতিনিধি |

জিয়ানগর নামে ফিরছে ইন্দুরকানী উপজেলা জিয়ানগর উপজেলা’ উদ্বোধন করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার নাম পুনরায় পরিবর্তন করে ‘জিয়ানগর উপজেলা’ রাখা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যেই জারি হয়েছে।স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, ২০ জানুয়ারি ২০২৫ অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১১৯তম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জনস্বার্থে এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।প্রজ্ঞাপনটি ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে উপ-সচিব হেলেনা পারভীন স্বাক্ষরিত জারি করেছেন।জানা গেছে, পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রচেষ্টায় ২০০২ সালের ২৭ মার্চ পিরোজপুর সদর উপজেলার পারেরহাট, বালিপাড়া ও পত্তাশী ইউনিয়নের ৯৪.৫৯ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ১৯৭৬ সালে গঠিত ইন্দুরকানী থানাকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এর ৮৭তম বৈঠকে ইন্দুরকানী থানাকে ‘জিয়ানগর’ উপজেলা নামে নামকরণের প্রস্তাব আনা হয়।পরে ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী স্থানীয় জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে ইন্দুরকানী সফর করে আল্লামা সাঈদীর প্রস্তাবিত নাম ‘জিয়ানগর উপজেলা’ নামে নতুন এই উপজেলা উদ্বোধন করেছিলেন।

এরপর ২০১৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকার সভায় পুনর্বিবেচনার পর উপজেলা ১৫ বছর পর ‘ইন্দুরকানী’ নামে পুনঃনামকরণ করা হয়।জিয়ানগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ আহম্মেদ বলেন,পুনরায় জিয়ানগর নাম ফিরে পাওয়ায় দলের নেতাকর্মীসহ আমরা আনন্দিত। আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নাম পরিবর্তন করে ইন্দুরকানী করেছিল।পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী তার ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি সফল গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর আমি অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মাননীয় উপদেষ্টা জনাব এ এফ হাসান আরিফের কাছে ‘ইন্দুরকানী’ নাম পরিবর্তন করে পুনরায় সাঈদীর রাখা নাম ‘জিয়ানগর উপজেলা’ করণের দাবি নিয়ে জিয়ানগরের ৩ হাজার মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি স্মারক মন্ত্রণালয়ে গিয়ে জমা প্রদান করি।আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি উপজেলার নাম পরিবর্তন করে সাঈদীর দেওয়া জিয়ানগর নাম পুনর্বহালে জনমত যাচাইয়ে উপজেলার তিন স্থানে জনসমীক্ষার জন্য একটি টিম পাঠিয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।জনমতসমীক্ষা শেষে দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও এ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।অবশেষে, চলতি বছরের (২০২৬) শুরুর দিকে আমি আবারো অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, এই জানুয়ারিতেই আমরা নিকারের মিটিং করব এবং ‘ইন্দুরকানী’কে পুনরায় ‘জিয়ানগর’ হিসেবে ঘোষণা করব।সেই কথা অনুযায়ী গত ৬ মাঘ ১৪৩২ তারিখের নিকারের সভায় ‘ইন্দুরকানী’কে পুনরায় ‘জিয়ানগর’ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যা এখন শুধু গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষায়।শুরু থেকে নিয়ে এই পর্যন্ত ‘ইন্দুরকানী উপজেলা’কে পুনরায় ‘জিয়ানগর উপজেলা’ হিসেবে ঘোষণা করার এই কাজে যে বা যারা আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন, পাশে থেকেছেন- তাদের প্রত্যেককেই আমি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তাদেরকে শুকরিয়া জানাচ্ছি। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ ১৫ বছর পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমি বিশেষভাবে জিয়ানগরের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে অশেষ ধন্যবাদ ও মুবারকবাদ জানাচ্ছি।আমি একই সঙ্গে জিয়ানগর উপজেলার সকল রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সর্বস্তরের জনগণকেও ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”

<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>জিয়ানগর নামে ফিরছে ইন্দুরকানী উপজেলা এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যেই জারি হয়েছে</strong></span></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>ইন্দুরকানী পিরোজপুর প্রতিনিধি |</strong></span></p><p><strong>জিয়ানগর নামে ফিরছে ইন্দুরকানী উপজেলা জিয়ানগর উপজেলা’ উদ্বোধন করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার নাম পুনরায় পরিবর্তন করে ‘জিয়ানগর উপজেলা’ রাখা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যেই জারি হয়েছে।স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, ২০ জানুয়ারি ২০২৫ অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১১৯তম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জনস্বার্থে এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।প্রজ্ঞাপনটি ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে উপ-সচিব হেলেনা পারভীন স্বাক্ষরিত জারি করেছেন।জানা গেছে, পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রচেষ্টায় ২০০২ সালের ২৭ মার্চ পিরোজপুর সদর উপজেলার পারেরহাট, বালিপাড়া ও পত্তাশী ইউনিয়নের ৯৪.৫৯ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ১৯৭৬ সালে গঠিত ইন্দুরকানী থানাকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এর ৮৭তম বৈঠকে ইন্দুরকানী থানাকে ‘জিয়ানগর’ উপজেলা নামে নামকরণের প্রস্তাব আনা হয়।পরে ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী স্থানীয় জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে ইন্দুরকানী সফর করে আল্লামা সাঈদীর প্রস্তাবিত নাম ‘জিয়ানগর উপজেলা’ নামে নতুন এই উপজেলা উদ্বোধন করেছিলেন। </strong></p><p>এরপর ২০১৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকার সভায় পুনর্বিবেচনার পর উপজেলা ১৫ বছর পর ‘ইন্দুরকানী’ নামে পুনঃনামকরণ করা হয়।জিয়ানগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ আহম্মেদ বলেন,পুনরায় জিয়ানগর নাম ফিরে পাওয়ায় দলের নেতাকর্মীসহ আমরা আনন্দিত। আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নাম পরিবর্তন করে ইন্দুরকানী করেছিল।পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী তার ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি সফল গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর আমি অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মাননীয় উপদেষ্টা জনাব এ এফ হাসান আরিফের কাছে ‘ইন্দুরকানী’ নাম পরিবর্তন করে পুনরায় সাঈদীর রাখা নাম ‘জিয়ানগর উপজেলা’ করণের দাবি নিয়ে জিয়ানগরের ৩ হাজার মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি স্মারক মন্ত্রণালয়ে গিয়ে জমা প্রদান করি।আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি উপজেলার নাম পরিবর্তন করে সাঈদীর দেওয়া জিয়ানগর নাম পুনর্বহালে জনমত যাচাইয়ে উপজেলার তিন স্থানে জনসমীক্ষার জন্য একটি টিম পাঠিয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।জনমতসমীক্ষা শেষে দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও এ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।অবশেষে, চলতি বছরের (২০২৬) শুরুর দিকে আমি আবারো অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, এই জানুয়ারিতেই আমরা নিকারের মিটিং করব এবং ‘ইন্দুরকানী’কে পুনরায় ‘জিয়ানগর’ হিসেবে ঘোষণা করব।সেই কথা অনুযায়ী গত ৬ মাঘ ১৪৩২ তারিখের নিকারের সভায় ‘ইন্দুরকানী’কে পুনরায় ‘জিয়ানগর’ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যা এখন শুধু গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষায়।শুরু থেকে নিয়ে এই পর্যন্ত ‘ইন্দুরকানী উপজেলা’কে পুনরায় ‘জিয়ানগর উপজেলা’ হিসেবে ঘোষণা করার এই কাজে যে বা যারা আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন, পাশে থেকেছেন- তাদের প্রত্যেককেই আমি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তাদেরকে শুকরিয়া জানাচ্ছি। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ ১৫ বছর পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমি বিশেষভাবে জিয়ানগরের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে অশেষ ধন্যবাদ ও মুবারকবাদ জানাচ্ছি।আমি একই সঙ্গে জিয়ানগর উপজেলার সকল রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সর্বস্তরের জনগণকেও ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”</p>

জেলার খবর

play storeapp store