ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২, ৯ মার্চ ২০২৬

এক হাতে দোকান, অন্য হাতে সংসার দুর্গাপুরের সাহসী নারী কবিতা দত্ত

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

০৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

এক হাতে দোকান, অন্য হাতে সংসার দুর্গাপুরের সাহসী নারী কবিতা দত্ত

নেত্রকোনা প্রতিনিধি |

নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের শিবগঞ্জ বাজারে একজন সংগ্রামী নারীর নাম কবিতা দত্ত (৫১)। স্বামীর মৃত্যুর পর তিন সন্তানকে নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলেও হার মানেননি তিনি। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে এক হাতে ব্যবসা এবং অন্য হাতে সংসার সামলে লড়াই করে যাচ্ছেন এই সাহসী নারী।কবিতা দত্তের স্বামী গোবিন্দ দত্ত ২০০১ সালে শিবগঞ্জ বাজারে ‘মেসার্স দত্ত ট্রেডার্স’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। কিন্তু ২০০৮ সালে হঠাৎ হৃদরোগে তার মৃত্যু হলে পরিবারে নেমে আসে গভীর অনিশ্চয়তা। সংসারের হাল ধরার মতো কেউ না থাকায় তিন সন্তানকে নিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েন কবিতা দত্ত। পরিবারের নানা বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তখন থেকেই দোকান ও সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি।

কবিতা দত্ত জানান, স্বামীর মৃত্যুর সময় তার বড় মেয়ের বয়স ছিল ১০ বছর, ছেলের ৬ বছর এবং ছোট মেয়ের মাত্র আড়াই বছর। তখন পরিবার ও সমাজের নানা বাধা-বিপত্তিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই গ্রহণ করেন তিনি। ভবিষ্যতের কথা ভেবেই শুরু করেন নতুন করে পথচলা। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ তিনি সফল। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, ছেলে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে এবং ছোট মেয়ে এখনও পড়াশোনা করছে।তিনি বলেন, শুরুতে দোকান পরিচালনা করতে ভয় লাগত। স্বজনদের কাছ থেকেও নানা কটু কথা শুনতে হয়েছে। তবুও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজেকে শক্ত করে তুলেছেন।কবিতা দত্ত প্রতিদিন ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠেন। রান্না-বান্না শেষ করে সকাল সাড়ে আটটার দিকে দোকান খুলে বসেন। বেচাকেনা, হিসাব-নিকাশসহ দোকানের প্রায় সব কাজই একাই সামলান। তাকে সহযোগিতা করার জন্য একজন আত্মীয় আছেন, তবে অনেক সময় নিজেকেই সব কাজে হাত লাগাতে হয়। দোকানের কাজের ফাঁকে আবার বাসায় গিয়ে ঘরের কাজও সামলান তিনি।কবিতা দত্তের ছোট মেয়ে জয়াবতী দত্ত বলেন, ছোটবেলাতেই আমাদের বাবা মারা যান। এরপর থেকেই পরিবারের সব দায়িত্ব মায়ের কাঁধে পড়ে। আমরা বাবার আদর আর মায়ের ভালোবাসা দুটোই মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছি।স্থানীয় ব্যবসায়ী খান সুমন জানান, গোবিন্দ দত্তের মৃত্যুর পর কবিতা দত্ত অনেক কষ্ট করে দোকান পরিচালনা করেছেন। বাজারের ব্যবসায়ীরা সব সময় তাকে সহযোগিতা করেছেন। বর্তমানে তিনি বাজারের সফল ব্যবসায়ীদের একজন।ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের কাছেও কবিতা দত্ত এখন অনুপ্রেরণার নাম। তার সাহস, পরিশ্রম ও সংগ্রামের গল্প অনেকের কাছেই উদাহরণ হয়ে আছে।

<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>এক হাতে দোকান, অন্য হাতে সংসার দুর্গাপুরের সাহসী নারী কবিতা দত্ত</strong></span></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>নেত্রকোনা প্রতিনিধি |</strong></span></p><p><strong>নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের শিবগঞ্জ বাজারে একজন সংগ্রামী নারীর নাম কবিতা দত্ত (৫১)। স্বামীর মৃত্যুর পর তিন সন্তানকে নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলেও হার মানেননি তিনি। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে এক হাতে ব্যবসা এবং অন্য হাতে সংসার সামলে লড়াই করে যাচ্ছেন এই সাহসী নারী।কবিতা দত্তের স্বামী গোবিন্দ দত্ত ২০০১ সালে শিবগঞ্জ বাজারে ‘মেসার্স দত্ত ট্রেডার্স’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। কিন্তু ২০০৮ সালে হঠাৎ হৃদরোগে তার মৃত্যু হলে পরিবারে নেমে আসে গভীর অনিশ্চয়তা। সংসারের হাল ধরার মতো কেউ না থাকায় তিন সন্তানকে নিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েন কবিতা দত্ত। পরিবারের নানা বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তখন থেকেই দোকান ও সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি।</strong></p><p>কবিতা দত্ত জানান, স্বামীর মৃত্যুর সময় তার বড় মেয়ের বয়স ছিল ১০ বছর, ছেলের ৬ বছর এবং ছোট মেয়ের মাত্র আড়াই বছর। তখন পরিবার ও সমাজের নানা বাধা-বিপত্তিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই গ্রহণ করেন তিনি। ভবিষ্যতের কথা ভেবেই শুরু করেন নতুন করে পথচলা। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ তিনি সফল। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, ছেলে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে এবং ছোট মেয়ে এখনও পড়াশোনা করছে।তিনি বলেন, শুরুতে দোকান পরিচালনা করতে ভয় লাগত। স্বজনদের কাছ থেকেও নানা কটু কথা শুনতে হয়েছে। তবুও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজেকে শক্ত করে তুলেছেন।কবিতা দত্ত প্রতিদিন ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠেন। রান্না-বান্না শেষ করে সকাল সাড়ে আটটার দিকে দোকান খুলে বসেন। বেচাকেনা, হিসাব-নিকাশসহ দোকানের প্রায় সব কাজই একাই সামলান। তাকে সহযোগিতা করার জন্য একজন আত্মীয় আছেন, তবে অনেক সময় নিজেকেই সব কাজে হাত লাগাতে হয়। দোকানের কাজের ফাঁকে আবার বাসায় গিয়ে ঘরের কাজও সামলান তিনি।কবিতা দত্তের ছোট মেয়ে জয়াবতী দত্ত বলেন, ছোটবেলাতেই আমাদের বাবা মারা যান। এরপর থেকেই পরিবারের সব দায়িত্ব মায়ের কাঁধে পড়ে। আমরা বাবার আদর আর মায়ের ভালোবাসা দুটোই মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছি।স্থানীয় ব্যবসায়ী খান সুমন জানান, গোবিন্দ দত্তের মৃত্যুর পর কবিতা দত্ত অনেক কষ্ট করে দোকান পরিচালনা করেছেন। বাজারের ব্যবসায়ীরা সব সময় তাকে সহযোগিতা করেছেন। বর্তমানে তিনি বাজারের সফল ব্যবসায়ীদের একজন।ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের কাছেও কবিতা দত্ত এখন অনুপ্রেরণার নাম। তার সাহস, পরিশ্রম ও সংগ্রামের গল্প অনেকের কাছেই উদাহরণ হয়ে আছে।</p>

জেলার খবর

play storeapp store