ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২, ১০ মার্চ ২০২৬

আরব আমিরাতে নিহত সালেহ আহমদের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছে দিলেন মন্ত্রী আরিফুল হক

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

০৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

আরব আমিরাতে নিহত সালেহ আহমদের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছে দিলেন মন্ত্রী আরিফুল হক

মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা দাসপাড়া গ্রামের আহমদ আলী ওরফে সালেহ আহমদের বাড়িতে সকাল থেকেই ভীড় ছিল স্বজনদের। সবার প্রতিক্ষা কখন আসবেন সালেহ। শেষ পর্যন্ত তিনি এলেন। তার প্রাণহীন দেহ নিয়ে বিকেল বাড়িতে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে এলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ঘড়ির কাটায় তখন বিকেল ৩টা বেজে ২০ মিনিট। মৃতদেহের কফিনটি কাঁধে বাড়িতে ঢুকতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনরা। শেষবারের মতো বিদায় দিতে আশেপাশে ভীড় করেন পাড়া প্রতিবেশরা। সুমিষ্টভাষী সালেহ আহমদের জন্য এলাকাবাসী আবেগ সামলাতে পারলেন না।জানা যায়, আহমেদ আলী গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আরব আমিরাতের আজমান শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন তিনি। সেখানে তিনি পানি সরবরাহের গাড়ি চালাতেন। তার ছোট দুই ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদও একই শহরে থাকেন এবং তারাই পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর জানান।

দুবাইয়ে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী আহমেদ আলীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। সোমবার সকালে তার মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছায় আহমেদ আলীর মরদেহ। আহমেদ আলীর মরদেহ গ্রহণ করতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ঢাকা এয়ারপোর্টে উপস্থিত ছিলেন।সালেহ আহমদের পরিবারের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পরে সাংবাদিকদের জানান, চলমান সংঘাতে নিহতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।নিহত আহমেদ আলীর এক স্বজন বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে মরদেহ দেশে আনার অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে তাকে দেশে আনতে পেরেছি। কিন্তু যেভাবে তাকে হারাতে হয়েছে, সেই কষ্ট কখনও ভোলার নয়।স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, “আহমেদ আলী খুবই ভদ্র ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।পরিবারের আরেক সদস্য বলেন, “আহমেদ আলী পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেন। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের জন্য বড় আঘাত।বিকেল ৫টায় বৃহত্তর গাজিটেকা শাহী ইদগাহ মাঠে জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় অংশ নেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। জানাজা নামাজে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন সম্পন্ন করা হয়।যুদ্ধ মানেই জীবন-মরণ খেলা। সেই রক্তক্ষয়ী খেলায় ঠুনকো ছুতোয় মেতে উঠে বড় বড় দেশগুলো। আর প্রাণ যাচ্ছে শত শত নীরিহ মানুষের। প্রিয়জন হারাচ্ছে পরিবারগুলো। কিন্তু প্রাণহানীগুলোর দায় কে নিবে প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>আরব আমিরাতে নিহত সালেহ আহমদের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছে দিলেন মন্ত্রী আরিফুল হক </strong></span></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |</strong></span></p><p><strong>মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা দাসপাড়া গ্রামের আহমদ আলী ওরফে সালেহ আহমদের বাড়িতে সকাল থেকেই ভীড় ছিল স্বজনদের। সবার প্রতিক্ষা কখন আসবেন সালেহ। শেষ পর্যন্ত তিনি এলেন। তার প্রাণহীন দেহ নিয়ে বিকেল বাড়িতে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে এলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ঘড়ির কাটায় তখন বিকেল ৩টা বেজে ২০ মিনিট। মৃতদেহের কফিনটি কাঁধে বাড়িতে ঢুকতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনরা। শেষবারের মতো বিদায় দিতে আশেপাশে ভীড় করেন পাড়া প্রতিবেশরা। সুমিষ্টভাষী সালেহ আহমদের জন্য এলাকাবাসী আবেগ সামলাতে পারলেন না।জানা যায়, আহমেদ আলী গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আরব আমিরাতের আজমান শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন তিনি। সেখানে তিনি পানি সরবরাহের গাড়ি চালাতেন। তার ছোট দুই ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদও একই শহরে থাকেন এবং তারাই পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর জানান।</strong></p><p>দুবাইয়ে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী আহমেদ আলীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। সোমবার সকালে তার মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছায় আহমেদ আলীর মরদেহ। আহমেদ আলীর মরদেহ গ্রহণ করতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ঢাকা এয়ারপোর্টে উপস্থিত ছিলেন।সালেহ আহমদের পরিবারের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পরে সাংবাদিকদের জানান, চলমান সংঘাতে নিহতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।নিহত আহমেদ আলীর এক স্বজন বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে মরদেহ দেশে আনার অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে তাকে দেশে আনতে পেরেছি। কিন্তু যেভাবে তাকে হারাতে হয়েছে, সেই কষ্ট কখনও ভোলার নয়।স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, “আহমেদ আলী খুবই ভদ্র ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।পরিবারের আরেক সদস্য বলেন, “আহমেদ আলী পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেন। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের জন্য বড় আঘাত।বিকেল ৫টায় বৃহত্তর গাজিটেকা শাহী ইদগাহ মাঠে জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় অংশ নেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। জানাজা নামাজে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন সম্পন্ন করা হয়।যুদ্ধ মানেই জীবন-মরণ খেলা। সেই রক্তক্ষয়ী খেলায় ঠুনকো ছুতোয় মেতে উঠে বড় বড় দেশগুলো। আর প্রাণ যাচ্ছে শত শত নীরিহ মানুষের। প্রিয়জন হারাচ্ছে পরিবারগুলো। কিন্তু প্রাণহানীগুলোর দায় কে নিবে প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।</p>

জেলার খবর

play storeapp store