ঢাকা, বুধবার, ২৫ ফাল্গুন, ১৪৩২, ১১ মার্চ ২০২৬

মুকুলে সেজেছে রংপুরের হাড়িভাঙ্গা আমবাগান,বাম্পার ফলনের আভাস

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

১০ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

মুকুলে সেজেছে রংপুরের হাড়িভাঙ্গা আমবাগান,বাম্পার ফলনের আভাস

শফিকুজ্জামান সোহেল | রংপুর প্রতিনিধি |

রংপুর অঞ্চলের হাড়িভাঙ্গা আমগাছে এ বছর প্রচুর মুকুল এসেছে। অনেক গাছে ইতোমধ্যে গুটি দেখা যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় ভালো ফলনের আশা করছেন আমচাষিরা। থোকায় থোকায় মুকুলে সেজেছে আমবাগান। এমন দৃশ্য দেখে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা। কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।তবে কৃষি বিভাগের পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক চাষি।রংপুরের সুস্বাদু হাড়িভাঙ্গা আম ইতোমধ্যে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ফলে রংপুরের পাশাপাশি নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলাতেও এ আমের চাষ বেড়েছে। এ ছাড়া দিনাজপুরের পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও বিরামপুর উপজেলাতেও বাণিজ্যিকভাবে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হচ্ছে।তবে রংপুরের মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলাকে কেন্দ্র করেই সবচেয়ে বেশি হাড়িভাঙ্গা আম উৎপাদন হয়।

বিভিন্ন আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় প্রায় প্রতিটি গাছেই মুকুলে ভরপুর। হাড়িভাঙ্গার পাশাপাশি আম্রপালি, মিশ্রীভোগ, গোপালভোগ ও সূর্যপুরীসহ বিভিন্ন জাতের আমগাছেও গুটি দেখা যাচ্ছে। অনেক গাছে মুকুলের ভারে ডাল নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও ডাল ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় খুঁটি দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে।মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি আব্দুল জব্বার বলেন, তাঁর বাগানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে সাত হাজার আমগাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে এবার মুকুল এসেছে এবং অনেক গাছে গুটি দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ ফলন হতে পারে। সব খরচ বাদ দিয়েও প্রায় ৫০ লাখ টাকা আয় হওয়ার আশা করছেন তিনি।বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানিপাড়ার আমচাষি জাহিদুল হক বলেন, তাঁর সাড়ে ছয় একর জমিতে হাড়িভাঙ্গাসহ ১১ প্রজাতির আমগাছ রয়েছে। এবার প্রতিটি গাছে গত বছরের তুলনায় বেশি মুকুল এসেছে। তবে কৃষি বিভাগের তেমন সহায়তা পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সব ঠিক থাকলে এ বছর ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা আয় হতে পারে বলে আশা করছেন।ওসমানপুর এলাকার আমচাষি আলমগীর হোসেন বলেন, তাঁর চার হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান রয়েছে। গত বছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় গাছে মুকুল এলেও গুটি কম হয়েছিল। তবে এ বছর প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় মুকুল এসেছে এবং গুটি ধরা শুরু হয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা মুনাফা হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর রংপুর অঞ্চলে প্রায় এক লাখ হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। গাছে প্রচুর মুকুল আসায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, সঠিক পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা ভালো মুনাফা পাবেন।

<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>মুকুলে সেজেছে রংপুরের হাড়িভাঙ্গা আমবাগান,বাম্পার ফলনের আভাস</strong></span></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>শফিকুজ্জামান সোহেল | রংপুর প্রতিনিধি |</strong></span></p><p><strong>রংপুর অঞ্চলের হাড়িভাঙ্গা আমগাছে এ বছর প্রচুর মুকুল এসেছে। অনেক গাছে ইতোমধ্যে গুটি দেখা যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় ভালো ফলনের আশা করছেন আমচাষিরা। থোকায় থোকায় মুকুলে সেজেছে আমবাগান। এমন দৃশ্য দেখে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা। কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।তবে কৃষি বিভাগের পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক চাষি।রংপুরের সুস্বাদু হাড়িভাঙ্গা আম ইতোমধ্যে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ফলে রংপুরের পাশাপাশি নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলাতেও এ আমের চাষ বেড়েছে। এ ছাড়া দিনাজপুরের পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও বিরামপুর উপজেলাতেও বাণিজ্যিকভাবে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হচ্ছে।তবে রংপুরের মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলাকে কেন্দ্র করেই সবচেয়ে বেশি হাড়িভাঙ্গা আম উৎপাদন হয়।</strong></p><p>বিভিন্ন আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় প্রায় প্রতিটি গাছেই মুকুলে ভরপুর। হাড়িভাঙ্গার পাশাপাশি আম্রপালি, মিশ্রীভোগ, গোপালভোগ ও সূর্যপুরীসহ বিভিন্ন জাতের আমগাছেও গুটি দেখা যাচ্ছে। অনেক গাছে মুকুলের ভারে ডাল নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও ডাল ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় খুঁটি দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে।মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি আব্দুল জব্বার বলেন, তাঁর বাগানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে সাত হাজার আমগাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে এবার মুকুল এসেছে এবং অনেক গাছে গুটি দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ ফলন হতে পারে। সব খরচ বাদ দিয়েও প্রায় ৫০ লাখ টাকা আয় হওয়ার আশা করছেন তিনি।বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানিপাড়ার আমচাষি জাহিদুল হক বলেন, তাঁর সাড়ে ছয় একর জমিতে হাড়িভাঙ্গাসহ ১১ প্রজাতির আমগাছ রয়েছে। এবার প্রতিটি গাছে গত বছরের তুলনায় বেশি মুকুল এসেছে। তবে কৃষি বিভাগের তেমন সহায়তা পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সব ঠিক থাকলে এ বছর ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা আয় হতে পারে বলে আশা করছেন।ওসমানপুর এলাকার আমচাষি আলমগীর হোসেন বলেন, তাঁর চার হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান রয়েছে। গত বছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় গাছে মুকুল এলেও গুটি কম হয়েছিল। তবে এ বছর প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় মুকুল এসেছে এবং গুটি ধরা শুরু হয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা মুনাফা হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর রংপুর অঞ্চলে প্রায় এক লাখ হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। গাছে প্রচুর মুকুল আসায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, সঠিক পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা ভালো মুনাফা পাবেন।</p>

জেলার খবর

play storeapp store