ঢাকা, রবিবার, ২৯ ফাল্গুন, ১৪৩২, ১৫ মার্চ ২০২৬

ঝিনাইদহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত কৃষকদল নেতার মৃত্যু

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

১৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

ঝিনাইদহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত কৃষকদল নেতার মৃত্যু

নাজমুস সাকিব | ঝিনাইদহ |

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে গুরুতর আহত কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি (৪৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তরু মুন্সি সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের মৃত মুনসুর আলী মুন্সির ছেলে।এদিকে আহত কৃষকদল নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা শহরসহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন কৃষকদল নেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শুক্রবার সকালে মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীরা তালিম শুরু করেন। তালিম শেষে সেখানে ইফতার মাহফিল করার কথা ছিল। বেলা ১১টার দিকে জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিমের খবর পেয়ে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলীসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তালিম বন্ধ করতে বলেন।এ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।আহতদের মধ্যে তরু মুন্সির অবস্থা গুরুতর হলে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।জেলা বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক সাকিব আহমেদ বাপ্পী বলেন, কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা যান। এ ঘটনার পর নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এর আগে শুক্রবার মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের মহিলা কর্মীরা তালিম করার জন্য জড়ো হন। তাদের জড়ো হওয়া দেখে প্রতিবেশী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সেখানে গিয়ে তালিম করার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতরা ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এদিকে সংঘর্ষের পর জামায়াতের কর্মীরা গান্না ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গান্না বাজারে জামায়াতের কর্মীদের দোকানপাট ও পার্শ্ববর্তী বাড়িঘরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে।এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান জানান, জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিম প্রোগ্রামে কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দলীয়ভাবে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি জামায়াতের নারী কর্মীরা বিএনপি পরিবারের নারীদের জোরপূর্বক তালিমে ডেকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মী তালিমে যেতে বাধ্য করার বিষয়ে জানতে চাইলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ওই সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা জামায়াতের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত আমাদের কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি মারা গেছেন। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি দাবি করছি।এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত একজন মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ টিম মোতায়েন রয়েছে। এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>ঝিনাইদহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত কৃষকদল নেতার মৃত্যু</strong></span></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>নাজমুস সাকিব | ঝিনাইদহ |</strong></span></p><p><strong>ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে গুরুতর আহত কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি (৪৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তরু মুন্সি সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের মৃত মুনসুর আলী মুন্সির ছেলে।এদিকে আহত কৃষকদল নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা শহরসহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন কৃষকদল নেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।</strong></p><p>এর আগে শুক্রবার সকালে মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীরা তালিম শুরু করেন। তালিম শেষে সেখানে ইফতার মাহফিল করার কথা ছিল। বেলা ১১টার দিকে জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিমের খবর পেয়ে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলীসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তালিম বন্ধ করতে বলেন।এ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।আহতদের মধ্যে তরু মুন্সির অবস্থা গুরুতর হলে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।জেলা বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক সাকিব আহমেদ বাপ্পী বলেন, কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা যান। এ ঘটনার পর নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।</p><p>এর আগে শুক্রবার মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের মহিলা কর্মীরা তালিম করার জন্য জড়ো হন। তাদের জড়ো হওয়া দেখে প্রতিবেশী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সেখানে গিয়ে তালিম করার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতরা ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এদিকে সংঘর্ষের পর জামায়াতের কর্মীরা গান্না ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গান্না বাজারে জামায়াতের কর্মীদের দোকানপাট ও পার্শ্ববর্তী বাড়িঘরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে।এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান জানান, জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিম প্রোগ্রামে কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দলীয়ভাবে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি জামায়াতের নারী কর্মীরা বিএনপি পরিবারের নারীদের জোরপূর্বক তালিমে ডেকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মী তালিমে যেতে বাধ্য করার বিষয়ে জানতে চাইলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ওই সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা জামায়াতের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত আমাদের কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি মারা গেছেন। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি দাবি করছি।এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত একজন মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ টিম মোতায়েন রয়েছে। এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।</p>

জেলার খবর

play storeapp store