ঢাকা, রবিবার, ২৯ ফাল্গুন, ১৪৩২, ১৫ মার্চ ২০২৬
বেরোবিতে গাছ কাটা ঘিরে ‘ক্রাইম সিন’ কর্মসূচি, উন্মুক্ত জবাবদিহিতা দাবি শিক্ষার্থীদের
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
১৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
বেরোবিতে গাছ কাটা ঘিরে ‘ক্রাইম সিন’ কর্মসূচি, উন্মুক্ত জবাবদিহিতা দাবি শিক্ষার্থীদের
শফিকুজ্জামান সোহেল | রংপুর প্রতিনিধি |
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে গাছ কাটার স্থান ও কাটা গাছের গুঁড়ি ঘিরে লাল ফিতা টানিয়ে ‘ক্রাইম সিন’ লিখে প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। গাছ কাটার প্রতিবাদের তৃতীয় দিনে শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।শিক্ষার্থীরা গাছ কাটার ঘটনাকে ‘গাছ হত্যা’ উল্লেখ করে ঘটনাস্থলকে ‘অপরাধস্থল’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। পরে তারা সেখানে সংবাদ সম্মেলন করে গাছ কাটার আগে ও পরে সংঘটিত অনিয়মে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতসহ দুই দফা দাবি জানান।সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী খোকন ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাস বন্ধের দিনে মসজিদ প্রাঙ্গণে ঠিকাদারের মাধ্যমে যেভাবে গাছ কাটা হয়েছে, তা নিন্দনীয় ও অপরাধমূলক। এ ঘটনার সুষ্ঠু জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে কোনো ধরনের আলামত সরাতে না দেওয়ার অংশ হিসেবেই লাল ফিতা দিয়ে এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাটি আড়াল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একের পর এক ‘মিথ্যা’ বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা নষ্ট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ভয়েসের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাকিব সরকার।বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে সামাজিক বনায়ন জোরদারের আহ্বানের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিধি-নিয়ম উপেক্ষা করে প্রহসনমূলকভাবে নির্বিচারে গাছ কেটেছে। এটি অযৌক্তিক, পরিবেশবিরোধী ও দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত। বৃক্ষ সংরক্ষণ ও কর্তনসংক্রান্ত বিধিমালার ধারা ৯(১) অনুসরণ না করেই গাছ কাটা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।শিক্ষার্থীদের দাবি, গাছ কাটার ক্ষেত্রে টেন্ডার বা নিলাম প্রক্রিয়াও নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয়নি। এ প্রক্রিয়ায় নানা অসংগতি ছিল। তাদের ভাষ্য, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত কোনো ব্যক্তি টেন্ডার বা নিলামে অংশ নিতে পারেন না। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারী মোখলেশকে গাছ কাটার কাজ দেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্টতই নিয়মবহির্ভূত।এ ছাড়া গাছ কাটার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মসজিদ কমিটির ইমামের নাম ব্যবহার করে একটি ‘মিথ্যা’ বিবৃতি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিও অসম্মানজনক।দুই দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গাছ কাটার আগে ও পরে সংঘটিত অনিয়ম এবং এতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ—মসজিদ কমিটি, ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন, স্টেট দপ্তর, জনসংযোগ ও বহিরাঙ্গন দপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে উন্মুক্ত সাধারণ বৈঠক করতে হবে। ওই বৈঠকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সব পক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়িত্বের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পদ থেকে অপসারণের দাবিও জানান তারা।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণের গাছ কাটার জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে বুধবার সকাল থেকে মসজিদের সামনে আম, মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটতে শুরু করেন ঠিকাদারের নিয়োজিত কর্মীরা।খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করেন এবং সেখানে অবস্থান নেন।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা তিনদিন ধরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
জেলার খবর