ঢাকা, রবিবার, ২৯ ফাল্গুন, ১৪৩২, ১৫ মার্চ ২০২৬
তেঁতুলিয়ায় চেয়ার বাঁচাতে ইউএনওকে জড়িয়ে বিভ্রান্তি:এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৬ চেয়ারম্যানের প্রতিবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
১৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন
তেঁতুলিয়ায় চেয়ার বাঁচাতে ইউএনওকে জড়িয়ে বিভ্রান্তি:এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৬ চেয়ারম্যানের প্রতিবাদ
পঞ্চগড় প্রতিনিধি |
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ইউপি চেয়ারম্যানের বহিষ্কার আদেশ ঠেকাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিরুদ্ধের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে আশরাফুল ইসলাম নামে এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।এদিকে নিজের চেয়ার বাঁচাতে উদ্দেশ্যে প্রনোদিতভাবে ওই চেয়ারম্যানের কার্যক্রলাপের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলার অন্য ৬টি ইউনিয়ন পরিষদেরের চেয়ারম্যানরা। প্রচারিত ভিডিও ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।আজ শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে তেঁতুলিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তারা৷জানা যায়,অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক৷ প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে উপজেলার ৪নং শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি লাইভ করেন। সেখানে তিনি কমিশন ছাড়া কোনো বিল পাশ হয় না বলে মন্তব্য করেন। তবে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানরা মনে করেন, এটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সামঞ্জস্য নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ শতভাগ সম্পন্ন করার পরই বিল উত্তোলন করে থাকেন। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাজ সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে কোনো বিল অনুমোদন করা হবে না। তিনি ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) সকল প্রকল্পের কাজ পুনরায় যাচাই-বাছাই করার নির্দেশনাও দিয়েছেন।এছাড়া চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের আইডি থেকে যে টাকা লেনদেনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়ে ইউএনও অবগত ছিলেন না বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। ওই সময় ইউএনও অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযানে ব্যস্ত ছিলেন। ভিডিওতে যে ব্যক্তিকে দেখা যায় তিনি উপজেলা প্রশাসনের কেউ নন৷একইসঙ্গে অভিযোগ করা হয়, শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে অন্য চেয়ারম্যানদের কাছে সুপারিশ করেছেন এবং অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তারা।এছাড়া গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদের নিবাচনে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মুঠোফোন নিয়ে ব্যালটে সিল মেরে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে সমালোচনা, একাধিক তার বিরুদ্ধে মামল ও ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে অবহেলা,ক্ষমতার অপব্যবহার ও সেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন সন্মানী ব্যক্তিদের ফেসবুকে লাইভ করে ফায়দা হাসিলের অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান৷এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি এমনটা শুরু করেছেন।
তিনি কমিশন বাণিজ্য বা অন্যান্য কিছু বিষয় অবতারণার মাধ্যমে শুধু উপজেলা প্রশাসন নয় তাদের ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। এমনকি এসকল বিষয়ে তার ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য পুরুষ মেম্বারগণের নিকট জানার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগের বিষয়ে মেম্বারগণ অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ দিয়ে আসছেন । এছাড়া ইতোপূর্বে অন্যান্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণের সময়েও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠেছিল। যখনি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয় তখনি তিনি তদন্ত কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ এবং তার বিরুদ্ধে যেন কোন ব্যবস্থা না নেয়া হয় সেজন্য তার অপরাধকে আড়াল করতে জনগণের সহানুভুতি নেয়ার জন্য এভাবে ফেসবুক লাইভে এসে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন বিশেদগার করেন।এবিষয়ে তেঁতুলিয়ার উপজলার-ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন বলেন, আশরাফুল চেয়ারম্যান যেটা করেছে সেটা ঠিক করেননি৷ সে যেটা করছে সেটা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে৷ তেঁতুলিয়ার সম্মানহানী হলো।তার সমস্যা হয়েছে বলতে পারতো,সবাই বসে সমাধান করা যেতো৷ ইউএনও মহাদয় ভাল মানুষ৷ আমরা শতভাগ কাজ করি,তদন্ত করে পরে আমরা বিল উত্তোলন করি।একই কথা বলেন,উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক হোসেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে তার এমন অভিযোগের সঠিকতা নেই৷ ওনার এমন অভিযোগ থাকলে আমাদের চেয়ারম্যানদের বলতে পারতেন,আমরা সবাই বলে সমাধানের ব্যবস্থা করতাৃ। তিনি যেটা করছে ঠিক করেননি৷এদিকে অভিযুক্ত শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি৷এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, আশরাফুল ইসলাম নামে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তার ফেসবুক আইডিতে যে ভিডিও বা লাইভ করেছেন তার সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই,সেটি ভিত্তিহীন।তিনি আরও বলেন,তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক ওই চেয়ারম্যান গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার জন্য আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে চলমান ৪টি ফৌজদারী মামলার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখিতভাবে জানোনা হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মসহ ইউনিয়ন পরিষদ ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থি অভিযোগ রয়েছে।
জেলার খবর