ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ চৈত্র, ১৪৩২, ১৭ মার্চ ২০২৬
ভাই হ/ত্যা/কা/ণ্ড: পলাতক আসামি হানিফকে গ্রে/ফ/তা/র করল পুলিশ
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
১৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ন
ভাই হ/ত্যা/কা/ণ্ড: পলাতক আসামি হানিফকে গ্রে/ফ/তা/র করল পুলিশ
মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ফাটাবিল এলাকায় তুচ্ছ পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় বড় ভাই হানিফ মিয়া (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা থেকে তাকে আটক করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মার্চ ২০২৬ খ্রি. বিকাল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে সদর উপজেলার ফাটাবিল এলাকায় সরকারি রাস্তার একটি ব্রিজের উপর এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পারিবারিক তুচ্ছ বিরোধের জেরে বড় ভাই হানিফ মিয়া তার ছোট ভাই তামিম মিয়া (১৮) কে ধারালো ছুরি দিয়ে গলার নিচে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত তামিম মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা শাহেদ আলীর ছেলে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হানিফ মিয়ার ছেলে সাইদুল (১০) কে শাসন করা (থাপ্পড় দেওয়া) নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলে এসে তামিম মিয়ার সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন হানিফ। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি ছুরি দিয়ে তামিমকে আঘাত করেন।ঘটনার পর হানিফ মিয়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটি ব্রিজের নিচে ফেলে দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের বোন সাথী আক্তার (২৩) বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২২/৬৩, তারিখ-১১/০৩/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩০২, পেনাল কোড ১৮৬০)।ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টার দিকে কুমিল্লা সদর কোতোয়ালী থানাধীন সংরাইশ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হানিফ মিয়া হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলের ব্রিজের নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও ঘটনার সময় পরিহিত পোশাক উদ্ধার করেছে পুলিশ।এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, “হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত কেউই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে।
জেলার খবর