ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ চৈত্র, ১৪৩২, ১৭ মার্চ ২০২৬
জিয়ানগরের তরুণীর ম/র/দে/হ মিলল ভারতের রেললাইনে,পরিবারের দাবি হ/ত্যা
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
১৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন
জিয়ানগরের তরুণীর ম/র/দে/হ মিলল ভারতের রেললাইনে,পরিবারের দাবি হ/ত্যা
জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিবেদক |
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার এক তরুণীর বিকৃত মরদেহ ভারতের একটি রেললাইনে উদ্ধার হয়েছে। নিহত অদিতি সরকার ওরফে তিথি (২৫) উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের প্রদীপ রায় ও আরতী রায় দম্পতির মেয়ে। পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখা হয়েছে।নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে অরিন্দম সরকারের বাংলাদেশের এক আত্মীয় কল্যাণের মাধ্যমে অদিতির সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাকদা পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা অরিন্দম সরকারের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ছয় বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে, নাম দিব্য সরকার।
প্রায় ১১ বছর আগে অরিন্দমের পরিবার বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করে।পরিবারের দাবি, গত ৩ মার্চ সকালে অদিতির সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয় তার মা আরতী রায়ের। তখন তিনি স্বাভাবিক ছিলেন। তবে ওই দিন বিকেলে একাধিকবার ফোন করেও আর যোগাযোগ করা যায়নি। পরে ভারতে থাকা এক আত্মীয় অদিতির শ্বশুরবাড়িতে খোঁজ নিলে তারা জানায়, অদিতি নাকি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে গেছে। কিন্তু পরদিন ৪ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাকদা পালপাড়া রেললাইনে অদিতির বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।অদিতির মা আরতী রায় অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। শাশুড়ি তপতী সরকার ও স্বামী অরিন্দম সরকারসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে মরদেহ রেললাইনে ফেলে রেখেছে।তিনি আরও জানান, অরিন্দম সরকারের আগেও একটি বিয়ে ছিল, যা তাদের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। এছাড়া বাংলাদেশে বাগেরহাটের ফকিরহাট এলাকায় থাকার সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হলে তিনি ভারতে চলে যান।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতে অদিতির সঙ্গে প্রতিবেশীদের সুসম্পর্ক ছিল। তাই তার মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে সেখানে অদিতির কোনো নিকট আত্মীয় না থাকায় পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ পরিবারের।এ ঘটনায় অদিতির পরিবার তার মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এ জন্য কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের সহায়তাও চেয়েছেন তারা।
জেলার খবর