ঢাকা, সোমবার, ৮ চৈত্র, ১৪৩২, ২৩ মার্চ ২০২৬

ঈদের আনন্দ পৌছে গেছে কারাগারের চার দেয়াল ভেদ করে!যেভাবে কাটে বন্দীদের ঈদ

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

২২ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

ঈদের আনন্দ পৌছে গেছে কারাগারের চার দেয়াল ভেদ করে!যেভাবে কাটে বন্দীদের ঈদ

মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |

ঈদ মানেই আনন্দ আর খুশি। সেই আনন্দ থেকে বাদ যাননি চার দেয়ালের ভেতরে থাকা কারাবন্দিরাও। মৌলভীবাজার কারাগারে ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের দিনে কারাগারে বন্দি ও তাদের সহিত সাক্ষাৎ করতে আসা আত্মীয় স্বজনদের খোঁজ খবর নিতে পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বন্দিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে বন্দিদের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, খাদ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। মৌলভীবাজার কারাগারে ৫৫৯ জন বন্দি রয়েছেন।

শনিবার ২১ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টায় কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে কারাবন্দিদের পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে দায়িত্বরত কারারক্ষীরাও অংশ নেন। নামাজ শেষে বন্দিদের মাঝে পরিবেশন করা হয় ঈদের বিশেষ খাবার। সকালের নাস্তা হিসেবে ছিল মুড়ি ও পায়েস। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কারাগারে আসেন বন্দিদের স্বজনরাও। প্রায় শতাধিক স্বজনকে ফুল, চকলেট ও মিষ্টান্ন দিয়ে বরণ করে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। দুপুরের খাবারে রাখা হয়েছে পোলাও, গরুর রেজালা, এ ছাড়া যারা গরুর মাংস খান না এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, সালাদ ও পান-সুপারি। রাতের খাবারে পরিবেশন করা হবে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম। মৌলভীবাজার জেল কারাগারে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন বন্দি ও তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসা আত্মীয় স্বজনদের খোঁজখবর নিলেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল । এ সময় তিনি কারাগারের সার্বিক পরিবেশ, বন্দিদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন। এ সময় জেল সুপার মো: তারিকুল ইসলাম ও জেলার কাজী মাজহারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপস্থিত ছিলেন।জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন,“ঈদ আনন্দের দিন। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতো বন্দিরাও যেন মানবিক পরিবেশে ঈদের আনন্দ অনুভব করতে পারে, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক কারাগারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও বন্দিদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম জানান কারা মহাপরিদর্শক মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারে অবস্থানরত বন্দিদের জন্য ঈদের নামাজ আদায়, উন্নতমানের খাবার প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সকল মানবিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুস্থ ও অসহায় বন্দিদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে ১০০ লুঙ্গি ও শাড়ী বিতরণ করা হয়েছে।আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কারাগার শুধুমাত্র শাস্তির স্থান নয় এটি সংশোধন ও পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বন্দিরা যেন নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করে সমাজে সৎ, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ফিরে যেতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বন্দিরা যাতে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্যই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। তারা নামাজ আদায় করেছেন, একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করেছেন।

<p><strong>ঈদের আনন্দ পৌছে গেছে কারাগারের চার দেয়াল ভেদ করে!যেভাবে কাটে বন্দীদের ঈদ</strong></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |</strong></span></p><p><strong>ঈদ মানেই আনন্দ আর খুশি। সেই আনন্দ থেকে বাদ যাননি চার দেয়ালের ভেতরে থাকা কারাবন্দিরাও। মৌলভীবাজার কারাগারে ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের দিনে কারাগারে বন্দি ও তাদের সহিত সাক্ষাৎ করতে আসা আত্মীয় স্বজনদের খোঁজ খবর নিতে পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বন্দিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে বন্দিদের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, খাদ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। মৌলভীবাজার কারাগারে ৫৫৯ জন বন্দি রয়েছেন।</strong></p><p>শনিবার ২১ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টায় কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে কারাবন্দিদের পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে দায়িত্বরত কারারক্ষীরাও অংশ নেন। নামাজ শেষে বন্দিদের মাঝে পরিবেশন করা হয় ঈদের বিশেষ খাবার। সকালের নাস্তা হিসেবে ছিল মুড়ি ও পায়েস। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কারাগারে আসেন বন্দিদের স্বজনরাও। প্রায় শতাধিক স্বজনকে ফুল, চকলেট ও মিষ্টান্ন দিয়ে বরণ করে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। দুপুরের খাবারে রাখা হয়েছে পোলাও, গরুর রেজালা, এ ছাড়া যারা গরুর মাংস খান না এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, সালাদ ও পান-সুপারি। রাতের খাবারে পরিবেশন করা হবে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম। মৌলভীবাজার জেল কারাগারে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন বন্দি ও তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসা আত্মীয় স্বজনদের খোঁজখবর নিলেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল । এ সময় তিনি কারাগারের সার্বিক পরিবেশ, বন্দিদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন। এ সময় জেল সুপার মো: তারিকুল ইসলাম ও জেলার কাজী মাজহারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপস্থিত ছিলেন।জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন,“ঈদ আনন্দের দিন। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতো বন্দিরাও যেন মানবিক পরিবেশে ঈদের আনন্দ অনুভব করতে পারে, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক কারাগারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও বন্দিদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম জানান কারা মহাপরিদর্শক মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারে অবস্থানরত বন্দিদের জন্য ঈদের নামাজ আদায়, উন্নতমানের খাবার প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সকল মানবিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুস্থ ও অসহায় বন্দিদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে ১০০ লুঙ্গি ও শাড়ী বিতরণ করা হয়েছে।আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কারাগার শুধুমাত্র শাস্তির স্থান নয় এটি সংশোধন ও পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বন্দিরা যেন নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করে সমাজে সৎ, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ফিরে যেতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বন্দিরা যাতে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্যই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। তারা নামাজ আদায় করেছেন, একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করেছেন।</p>

জেলার খবর

play storeapp store