ঢাকা, বুধবার, ১০ চৈত্র, ১৪৩২, ২৫ মার্চ ২০২৬

ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল, প্রাণ ফিরে পেল মৌলভীবাজারের পর্যটনকেন্দ্র

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

২৪ মার্চ ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল, প্রাণ ফিরে পেল মৌলভীবাজারের পর্যটনকেন্দ্র

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি | মনজু বিজয় চৌধুরী |

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে মৌলভীবাজারে পর্যটনকেন্দ্রগুলো। পর্যটকের আগমনে কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে পর্যটক-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। ঈদের দিন থেকে শুরু করে সোমবার পর্যন্ত প্রায় লাখো পর্যটক পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় ভ্রমণে এসেছেন।অনেকেই ব্যস্ত নগর জীবনের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির অপরুপ লীলাভূমির খুঁজে ছুটে এসেছেন। আবার কেউ চার দেয়ালের বন্ধিদশা থেকে বেরিয়ে আসেন প্রকৃতির ভেতর মুক্ত বাতাসে প্রাণভরে একটু দূষনমুক্ত নি:শ্বাস নিতে। প্রকৃতির চির চেনা সবুজের ভেতর কিছু সময় কাটিয়ে অনেকেই ফিরে পেয়েছেন মনোমুগ্ধকর এক নির্মল প্রশান্তি। ব্যস্ত নগর জীবনের কোলাহল থেকে দূরে নীরব প্রকৃতির মাঝে লুকিয়ে আছে ভিন্ন এক আনন্দ।প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘেরা মোড়ানো চা বাগান,ঝর্ণা,লেকসহ অর্ধশতাধিক পর্যটন স্পটে ঘুরছেন।

প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে দেশি-বিদেশি ও স্থানীয়সহ লাখো পর্যটক আসেন। জেলার সাতটি উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বধ্যভূমি, হামহাম জলপ্রপাত, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, উঁচু-নিচু সবুজ চা-বাগান, নীলকণ্ঠ টি কেবিন, হাকালুকি হাওর, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, খাসিয়া পল্লি, পাত্রখোলা েেলকসহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বসবাসস্থলসহ প্রায় শতাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে জেলার পাঁচ তারকা মানের হোটেল দুসাই রিসোর্ট, গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্ট, থ্রি-স্টার মানের প্যারাগন, লেমন গার্ডেন রিসোর্টসহ ছোট-বড় সব হোটেল, মোটেল, কটেজ এবং রিসোর্টে পর্যটকদের প্রচুর সমাগম বেড়েছে। হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে শতভাগ বুকিং সম্পন্ন হওয়ায় শত কোটি টাকার ব্যবসার প্রত্যাশা করছেন জেলার পর্যটন ব্যবসায়ীরা।চট্টগ্রাম থেকে সপরিবারে বেড়াতে এসে আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, ‘ঈদের ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। এখানকার চারপাশের পরিবেশ খুব চমৎকার। খুব ভালো লাগল।লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে আসা সুমি বেগম বলেন,‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে এসেছি। এখানকার প্রকৃতি খুবই ভালো লাগে। শুধু এই জায়গায় চা বাগানসহ মনিপুরী পাড়া দেখেছি খুব ভালো লেগেছে। মন চাচ্ছে না চলে যেতে। তারপরও যেতে হচ্ছে। আবারও যে কোনদিন ছুটি পেলে জাফলং ও সাদা পাথর অঞ্চলে ঘুতে আসব।’কুমিল্লা থেকে আসা ব্যবসায়ী কামরান হোসেন বলেন, “ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মাধবকুণ্ডে বেড়াতে এসে ভালো লেগেছে। তবে সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো হলে ভালো হতো।চামুং রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ইকো ক্যাফের স্বত্বাধিকারী তাপস দাশ বলেন, “আসন্ন পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে ‘চামুং রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ইকো ক্যাফে’-তে আমরা বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ঈদের ছুটিতে যারা শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে এসেছেন, তাদের জন্য মূলত স্থানীয় ও আদিবাসী খাবারের বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে, যাতে তারা এ অঞ্চলের স্বাদ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন।মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার, মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ সম্মিলিতভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোবাইল নাম্বার এবং ফায়ার সার্ভিসের নাম্বার সংগ্রহে রাখার জন্য। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে যেন তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে আশা করছি আমরা শান্তি শৃঙ্খলাভাবে ঈদ উৎসব উদযাপন করতে পারব।’ ‘পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে লক্ষ রয়েছে।

<p><strong>ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল, প্রাণ ফিরে পেল মৌলভীবাজারের পর্যটনকেন্দ্র</strong></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>মৌলভীবাজার প্রতিনিধি | মনজু বিজয় চৌধুরী |</strong></span></p><p><strong>পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে মৌলভীবাজারে পর্যটনকেন্দ্রগুলো। পর্যটকের আগমনে কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে পর্যটক-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। ঈদের দিন থেকে শুরু করে সোমবার পর্যন্ত প্রায় লাখো পর্যটক পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় ভ্রমণে এসেছেন।অনেকেই ব্যস্ত নগর জীবনের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির অপরুপ লীলাভূমির খুঁজে ছুটে এসেছেন। আবার কেউ চার দেয়ালের বন্ধিদশা থেকে বেরিয়ে আসেন প্রকৃতির ভেতর মুক্ত বাতাসে প্রাণভরে একটু দূষনমুক্ত নি:শ্বাস নিতে। প্রকৃতির চির চেনা সবুজের ভেতর কিছু সময় কাটিয়ে অনেকেই ফিরে পেয়েছেন মনোমুগ্ধকর এক নির্মল প্রশান্তি। ব্যস্ত নগর জীবনের কোলাহল থেকে দূরে নীরব প্রকৃতির মাঝে লুকিয়ে আছে ভিন্ন এক আনন্দ।প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘেরা মোড়ানো চা বাগান,ঝর্ণা,লেকসহ অর্ধশতাধিক পর্যটন স্পটে ঘুরছেন।</strong></p><p>প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে দেশি-বিদেশি ও স্থানীয়সহ লাখো পর্যটক আসেন। জেলার সাতটি উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বধ্যভূমি, হামহাম জলপ্রপাত, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, উঁচু-নিচু সবুজ চা-বাগান, নীলকণ্ঠ টি কেবিন, হাকালুকি হাওর, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, খাসিয়া পল্লি, পাত্রখোলা েেলকসহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বসবাসস্থলসহ প্রায় শতাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে জেলার পাঁচ তারকা মানের হোটেল দুসাই রিসোর্ট, গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্ট, থ্রি-স্টার মানের প্যারাগন, লেমন গার্ডেন রিসোর্টসহ ছোট-বড় সব হোটেল, মোটেল, কটেজ এবং রিসোর্টে পর্যটকদের প্রচুর সমাগম বেড়েছে। হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে শতভাগ বুকিং সম্পন্ন হওয়ায় শত কোটি টাকার ব্যবসার প্রত্যাশা করছেন জেলার পর্যটন ব্যবসায়ীরা।চট্টগ্রাম থেকে সপরিবারে বেড়াতে এসে আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, ‘ঈদের ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। এখানকার চারপাশের পরিবেশ খুব চমৎকার। খুব ভালো লাগল।লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে আসা সুমি বেগম বলেন,‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে এসেছি। এখানকার প্রকৃতি খুবই ভালো লাগে। শুধু এই জায়গায় চা বাগানসহ মনিপুরী পাড়া দেখেছি খুব ভালো লেগেছে। মন চাচ্ছে না চলে যেতে। তারপরও যেতে হচ্ছে। আবারও যে কোনদিন ছুটি পেলে জাফলং ও সাদা পাথর অঞ্চলে ঘুতে আসব।’কুমিল্লা থেকে আসা ব্যবসায়ী কামরান হোসেন বলেন, “ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মাধবকুণ্ডে বেড়াতে এসে ভালো লেগেছে। তবে সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো হলে ভালো হতো।চামুং রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ইকো ক্যাফের স্বত্বাধিকারী তাপস দাশ বলেন, “আসন্ন পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে ‘চামুং রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ইকো ক্যাফে’-তে আমরা বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ঈদের ছুটিতে যারা শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে এসেছেন, তাদের জন্য মূলত স্থানীয় ও আদিবাসী খাবারের বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে, যাতে তারা এ অঞ্চলের স্বাদ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন।মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার, মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ সম্মিলিতভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোবাইল নাম্বার এবং ফায়ার সার্ভিসের নাম্বার সংগ্রহে রাখার জন্য। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে যেন তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে আশা করছি আমরা শান্তি শৃঙ্খলাভাবে ঈদ উৎসব উদযাপন করতে পারব।’ ‘পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে লক্ষ রয়েছে।</p>

জেলার খবর

play storeapp store