ঢাকা, শুক্রবার, ১২ চৈত্র, ১৪৩২, ২৭ মার্চ ২০২৬

সরকারি বরাদ্দ ১০ কেজি, মিলছে ৭ কেজি আলীনগরে ভিজিএফ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

২৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

সরকারি বরাদ্দ ১০ কেজি, মিলছে ৭ কেজি আলীনগরে ভিজিএফ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আলীনগর ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়া, স্বজনপ্রীতি নানা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিরজনা আক্তার হেনার বিরুদ্ধে। এছাড়া মাস্টাররোলে ভুয়া সই ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ থাকলেও দেয়া হয়েছে ৭ কেজি। চাল নিতে আসা সাধারণ মানুষ জানান, বারবার প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। উল্টো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের লোকজন তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বামী স্থানীয় কৃষক দল নেতা হওয়ার সুবাদে ইউনিয়ন পরিষদে একক আধিপত্য বিস্তার করেছেন তিনি।

তার ইচ্ছামতোই সরকারি চাল বণ্টন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। প্রকৃত দুস্থদের বাদ দিয়ে চেয়ারম্যানের আত্মীয়-স্বজনদের চাল দেওয়ারও গুঞ্জন রয়েছে। মাস্টাররোলে উপকারভোগীদের অজান্তেই নিজের ইচ্ছেমতো টিপসই দিয়ে চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানান একাধিক উপকারভোগী।অভিযোগ রয়েছে,ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নিরজনা আক্তার হেনার বিরুদ্ধে টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য), খাবিটা ও ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। স্বামীর দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এসব প্রকল্পের অর্থ নয়-ছয় করছেন এবং প্রকৃত উন্নয়ন কাজ না করে বিল উত্তোলন করে করছেন ডুপ্লেক্স বাড়ি ।চাল নিতে আসা এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, "আমাদের বলা হয়েছিল ১০ কেজি চাল পাবো, কিন্তু মেপে দেখি ৭ কেজি। কথা বললে ধমক দেওয়া হয়। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা তাদের নিজেদের লোকজনকে চাল দিয়ে দিচ্ছেন, আমরা গরিবরা বঞ্চিত হচ্ছি।"কমলগঞ্জের আলীনগর ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিরজনা আক্তার হেনার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।কমলগঞ্জের আলীনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিরজনা আক্তার হেনার স্বামী আহাদ মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি চাল বিতরণে কারচুপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান।তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারচুপির সত্যতা রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হবে।ইউএনও আরও বলেন, “যারা চাল বিতরণের ক্ষেত্রে কারচুপির সঙ্গে জড়িত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নিরজনা আক্তার হেনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। অভিযোগট প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

<p><strong>সরকারি বরাদ্দ ১০ কেজি, মিলছে ৭ কেজি আলীনগরে ভিজিএফ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ</strong></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার |</strong></span></p><p><strong>মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আলীনগর ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়া, স্বজনপ্রীতি নানা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিরজনা আক্তার হেনার বিরুদ্ধে। এছাড়া মাস্টাররোলে ভুয়া সই ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ থাকলেও দেয়া হয়েছে ৭ কেজি। চাল নিতে আসা সাধারণ মানুষ জানান, বারবার প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। উল্টো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের লোকজন তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বামী স্থানীয় কৃষক দল নেতা হওয়ার সুবাদে ইউনিয়ন পরিষদে একক আধিপত্য বিস্তার করেছেন তিনি।</strong></p><p>তার ইচ্ছামতোই সরকারি চাল বণ্টন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। প্রকৃত দুস্থদের বাদ দিয়ে চেয়ারম্যানের আত্মীয়-স্বজনদের চাল দেওয়ারও গুঞ্জন রয়েছে। মাস্টাররোলে উপকারভোগীদের অজান্তেই নিজের ইচ্ছেমতো টিপসই দিয়ে চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানান একাধিক উপকারভোগী।অভিযোগ রয়েছে,ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নিরজনা আক্তার হেনার বিরুদ্ধে টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য), খাবিটা ও ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। স্বামীর দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এসব প্রকল্পের অর্থ নয়-ছয় করছেন এবং প্রকৃত উন্নয়ন কাজ না করে বিল উত্তোলন করে করছেন ডুপ্লেক্স বাড়ি ।চাল নিতে আসা এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, "আমাদের বলা হয়েছিল ১০ কেজি চাল পাবো, কিন্তু মেপে দেখি ৭ কেজি। কথা বললে ধমক দেওয়া হয়। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা তাদের নিজেদের লোকজনকে চাল দিয়ে দিচ্ছেন, আমরা গরিবরা বঞ্চিত হচ্ছি।"কমলগঞ্জের আলীনগর ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিরজনা আক্তার হেনার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।কমলগঞ্জের আলীনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিরজনা আক্তার হেনার স্বামী আহাদ মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি চাল বিতরণে কারচুপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান।তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারচুপির সত্যতা রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হবে।ইউএনও আরও বলেন, “যারা চাল বিতরণের ক্ষেত্রে কারচুপির সঙ্গে জড়িত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নিরজনা আক্তার হেনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। অভিযোগট প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”</p>

জেলার খবর

play storeapp store