ঢাকা, সোমবার, ১৫ চৈত্র, ১৪৩২, ৩০ মার্চ ২০২৬

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: নিহত ২২ জনের মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: নিহত ২২ জনের মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | শফিকুল ইসলাম শফিক |

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকায় পথ হারিয়ে মারা যাওয়া ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ।সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, এখন পর্যন্ত নিহত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন রয়েছেন।জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, মানবপাচারকারী দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।জানা গেছে, লিবিয়া থেকে ছোট নৌকায় করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের গ্রিসে নেওয়ার সময় নৌকাটি পথ হারিয়ে ফেলে এবং টানা ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে।

এ সময় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। এতে অসুস্থ হয়ে একে একে মারা যান অনেকে। পরে মৃতদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।গ্রিসে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি যুবক জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেশটির একটি শরণার্থী ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসাধীন আছেন।পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে নিহত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন—দিরাই উপজেলার নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫), মুজিবুর রহমান (৩৮), তায়েক মিয়া ও সোহাস;দোয়ারাবাজার উপজেলার আবু ফাহিম;জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়েক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী।এদিকে নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাঁও গ্রামে শায়েক আহমদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। তাঁর বাবা আখলুছ মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে না খাইয়ে মেরে ফেলেছে। আমি দালালের বিচার চাই।”পরিবারের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তাদের লিবিয়া হয়ে গ্রিসে পাঠানো হচ্ছিল। গত মাসে বাড়ি ছাড়ার পর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে একই নৌকায় থাকা এক আত্মীয় ফোনে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও একাধিক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দিরাই উপজেলার একাধিক পরিবারে একই সঙ্গে শোক নেমে এসেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিরাপদ ও অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

<p><strong>ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: নিহত ২২ জনের মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের</strong></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | শফিকুল ইসলাম শফিক |</strong></span></p><p><strong>লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকায় পথ হারিয়ে মারা যাওয়া ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ।সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, এখন পর্যন্ত নিহত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন রয়েছেন।জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, মানবপাচারকারী দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।জানা গেছে, লিবিয়া থেকে ছোট নৌকায় করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের গ্রিসে নেওয়ার সময় নৌকাটি পথ হারিয়ে ফেলে এবং টানা ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে।</strong></p><p>এ সময় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। এতে অসুস্থ হয়ে একে একে মারা যান অনেকে। পরে মৃতদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।গ্রিসে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি যুবক জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেশটির একটি শরণার্থী ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসাধীন আছেন।পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে নিহত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন—দিরাই উপজেলার নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫), মুজিবুর রহমান (৩৮), তায়েক মিয়া ও সোহাস;দোয়ারাবাজার উপজেলার আবু ফাহিম;জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়েক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী।এদিকে নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাঁও গ্রামে শায়েক আহমদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। তাঁর বাবা আখলুছ মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে না খাইয়ে মেরে ফেলেছে। আমি দালালের বিচার চাই।”পরিবারের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তাদের লিবিয়া হয়ে গ্রিসে পাঠানো হচ্ছিল। গত মাসে বাড়ি ছাড়ার পর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে একই নৌকায় থাকা এক আত্মীয় ফোনে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও একাধিক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দিরাই উপজেলার একাধিক পরিবারে একই সঙ্গে শোক নেমে এসেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিরাপদ ও অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।</p>

জেলার খবর

play storeapp store