ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ চৈত্র, ১৪৩২, ৩১ মার্চ ২০২৬

রংপুরে কমছে কৃষিজমি, বাড়ছে জনসংখ্যা: খাদ্য নিরাপত্তা শঙ্কায়

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

৩০ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

রংপুরে কমছে কৃষিজমি, বাড়ছে জনসংখ্যা: খাদ্য নিরাপত্তা শঙ্কায়

‎শফিকুজ্জামান সোহেল | ‎রংপুর প্রতিনিধি |

‎খাদ্যশস্যের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত রংপুরে দিন দিন কমছে কৃষিজমির পরিমাণ। আবাসন প্রকল্প, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ইটভাটা ও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কারণে প্রতিবছরই বিপুল পরিমাণ উর্বর জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। এতে কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের অর্থনীতি ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে জেলায় আবাদি জমি কমেছে ৩ হাজার ৪৮৪ হেক্টর। একই সময়ে জনসংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৩ জন। খাদ্যের বার্ষিক চাহিদা বেড়েছে ২৭ হাজার ৫৯৪ টন, কিন্তু খাদ্য উদ্বৃত্ত বেড়েছে মাত্র ২ হাজার ৭০৫ টন।‎কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, “উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে, তবে চাহিদার তুলনায় তা খুব বেশি নয়। একসময় রংপুরে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো। এখন স্থানীয় উৎপাদন থেকেই জেলার প্রায় ৩২ লাখ মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটানো সম্ভব। তবে আবাদি জমি ক্রমাগত কমতে থাকায় ভবিষ্যতে সক্ষমতা বজায় থাকবে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

‎পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রংপুরে কৃষক পরিবার রয়েছে ৫ লাখ ৩৩ হাজার ১২৯টি। এর মধ্যে ভূমিহীন ৯৫ হাজার ১৪০টি, প্রান্তিক ২ লাখ ৪ হাজার ৪৯০ জন, ক্ষুদ্র ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭৩ জন, মাঝারি ৫০ হাজার ৭৫৪ জন এবং বড় বা বিত্তবান ৬ হাজার ৭৪ জন।‎‎জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে আবাসনের চাহিদা। কৃষিজমি ভরাট হয়ে বসতবাড়ি, ইটভাটা, কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলো নির্মিত হচ্ছে। এতে ক্রমেই কমছে উর্বর জমি।‎আনন্দলোক কলেজ শিক্ষক সুনীল কুমার রায় বলেন,১৫-২০ বছর আগেও আমাদের এলাকায় দিগন্তজোড়া সবুজ কৃষিজমি দেখা যেত। এখন সেই জমিতে একের পর এক শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। চোখে পড়ার মতো কৃষিজমি আর তেমন নেই।‎মিঠাপুকুরের স্কুলশিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, “আগে মহাসড়কের দুই পাশে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ছিল।এখন সেই জমিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ছোট শিল্পকারখানা ও বসতবাড়ি গড়ে উঠেছে। কৃষিজমি দ্রুত কমে যাওয়াটা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।‎পাঁচ বছর আগে জেলায় খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল ১০ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৯ মেট্রিক টন। বার্ষিক চাহিদা ছিল ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯০৪ মেট্রিক টন। ফলে উদ্বৃত্ত ছিল প্রায় ৪ লাখ ১ হাজার ৫৫০ টন। বর্তমানে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৪ হাজার ৭৭৮ মেট্রিক টনে। একই সময়ে চাহিদা বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ মেট্রিক টন। ফলে উদ্বৃত্ত বেড়ে হয়েছে মাত্র ৪ লাখ ৪ হাজার ৩৩৫ টন।‎রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে দক্ষতা বাড়ার ফলে উৎপাদন এখনো চাহিদার তুলনায় বেশি। তবে তিন ফসলি জমি যেন কোনোভাবেই অকৃষি খাতে ব্যবহার না হয় তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় সুষম সার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই জমিতে বছরে দুই থেকে তিনবার চাষাবাদ হচ্ছে। অল্প জমিতে বেশি ফসল উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদই ভবিষ্যতের প্রধান পথ।

<p><strong>রংপুরে কমছে কৃষিজমি, বাড়ছে জনসংখ্যা: খাদ্য নিরাপত্তা শঙ্কায়</strong></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>‎শফিকুজ্জামান সোহেল | ‎রংপুর প্রতিনিধি |</strong></span></p><p><strong>‎খাদ্যশস্যের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত রংপুরে দিন দিন কমছে কৃষিজমির পরিমাণ। আবাসন প্রকল্প, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ইটভাটা ও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কারণে প্রতিবছরই বিপুল পরিমাণ উর্বর জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। এতে কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের অর্থনীতি ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে জেলায় আবাদি জমি কমেছে ৩ হাজার ৪৮৪ হেক্টর। একই সময়ে জনসংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৩ জন। খাদ্যের বার্ষিক চাহিদা বেড়েছে ২৭ হাজার ৫৯৪ টন, কিন্তু খাদ্য উদ্বৃত্ত বেড়েছে মাত্র ২ হাজার ৭০৫ টন।‎কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, “উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে, তবে চাহিদার তুলনায় তা খুব বেশি নয়। একসময় রংপুরে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো। এখন স্থানীয় উৎপাদন থেকেই জেলার প্রায় ৩২ লাখ মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটানো সম্ভব। তবে আবাদি জমি ক্রমাগত কমতে থাকায় ভবিষ্যতে সক্ষমতা বজায় থাকবে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।</strong></p><p>‎পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রংপুরে কৃষক পরিবার রয়েছে ৫ লাখ ৩৩ হাজার ১২৯টি। এর মধ্যে ভূমিহীন ৯৫ হাজার ১৪০টি, প্রান্তিক ২ লাখ ৪ হাজার ৪৯০ জন, ক্ষুদ্র ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭৩ জন, মাঝারি ৫০ হাজার ৭৫৪ জন এবং বড় বা বিত্তবান ৬ হাজার ৭৪ জন।‎‎জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে আবাসনের চাহিদা। কৃষিজমি ভরাট হয়ে বসতবাড়ি, ইটভাটা, কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলো নির্মিত হচ্ছে। এতে ক্রমেই কমছে উর্বর জমি।‎আনন্দলোক কলেজ শিক্ষক সুনীল কুমার রায় বলেন,১৫-২০ বছর আগেও আমাদের এলাকায় দিগন্তজোড়া সবুজ কৃষিজমি দেখা যেত। এখন সেই জমিতে একের পর এক শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। চোখে পড়ার মতো কৃষিজমি আর তেমন নেই।‎মিঠাপুকুরের স্কুলশিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, “আগে মহাসড়কের দুই পাশে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ছিল।এখন সেই জমিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ছোট শিল্পকারখানা ও বসতবাড়ি গড়ে উঠেছে। কৃষিজমি দ্রুত কমে যাওয়াটা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।‎পাঁচ বছর আগে জেলায় খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল ১০ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৯ মেট্রিক টন। বার্ষিক চাহিদা ছিল ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯০৪ মেট্রিক টন। ফলে উদ্বৃত্ত ছিল প্রায় ৪ লাখ ১ হাজার ৫৫০ টন। বর্তমানে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৪ হাজার ৭৭৮ মেট্রিক টনে। একই সময়ে চাহিদা বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ মেট্রিক টন। ফলে উদ্বৃত্ত বেড়ে হয়েছে মাত্র ৪ লাখ ৪ হাজার ৩৩৫ টন।‎রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে দক্ষতা বাড়ার ফলে উৎপাদন এখনো চাহিদার তুলনায় বেশি। তবে তিন ফসলি জমি যেন কোনোভাবেই অকৃষি খাতে ব্যবহার না হয় তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় সুষম সার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই জমিতে বছরে দুই থেকে তিনবার চাষাবাদ হচ্ছে। অল্প জমিতে বেশি ফসল উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদই ভবিষ্যতের প্রধান পথ।</p>

জেলার খবর

play storeapp store