ঢাকা, শনিবার, ২০ চৈত্র, ১৪৩২, ৪ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যনগর-ধর্মপাশার হাওরে বৃষ্টির পানি তলিয়ে দিচ্ছে ফসল,কৃষকরা দুশ্চিন্তায়

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

মধ্যনগর-ধর্মপাশার হাওরে বৃষ্টির পানি তলিয়ে দিচ্ছে ফসল,কৃষকরা দুশ্চিন্তায়

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | শফিকুল ইসলাম শফিক |

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় মার্চ মাসের শেষ দিকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে হাওরাঞ্চলের প্রায় ২৯৫ হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফসল ঘরে তোলার প্রাক্কালে এই অকাল বৃষ্টি কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে।স্থানীয় কৃষকরা জানান, আকাশে এখনো মেঘের আনাগোনা থাকায় তাদের চোখ প্রায়শই আকাশের দিকে। কারণ বোরো ধানই সারা বছরের প্রধান ফসল এবং কৃষকের জীবিকার একমাত্র ভরসা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক হাওরে এখনো পানি জমে আছে। কৃষকরা মনে করছেন, সরকারি কৃষি বিভাগের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবের তুলনায় বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকলেও মাসের শেষের ভারী বৃষ্টিপাতে নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় মোট ৩১,৯১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সোনাডুবি হাওরে ৫ হেক্টর, শ্যামসাগর হাওরে ৫ হেক্টর, কাতলা বিলে ২ হেক্টর, রুই কাইলানী বিলে ১০ হেক্টর, হারগুর বিলে ৩ হেক্টর, বইন্না হাওরে ৬ হেক্টর, ধরাম হাওরে ৫ হেক্টর, জয়ধনা হাওরে ১২ হেক্টর, ধানকুনিয়া হাওরে ১৪ হেক্টর, মাইন্নার হাওরে ২ হেক্টর, মেধার হাওরে ৮ হেক্টর, শৈল চাপড়া হাওরে ৬ হেক্টর, লাউরির হাওরে ১০ হেক্টর, নয়া বিলে ১৩ হেক্টর, টগার হাওরে ৮০ হেক্টর, কাইনজা বিলে ৮ হেক্টর, হালকুমড়া হাওরে ১০ হেক্টর, বোগা বিলে ৫ হেক্টর, গুরাডোবা হাওরে ২০ হেক্টর, জাংগীয়া হাওরে ৮ হেক্টর, বোয়ালা হাওরে ৭ হেক্টর, বন্যার হাওরে ৫ হেক্টর, শালদীঘা হাওরে ৮ হেক্টর, কালেনী হাওরে ২০ হেক্টর, গুরমা হাওরে ১২ হেক্টর এবং ফাসোয়া হাওরে ১১ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।মধ্যনগর উপজেলার রংচী গ্রামের কৃষক আব্দুল হেলিম বলেন, “এত ভারী বৃষ্টি জীবনে খুব কম দেখেছি। আমাদের ফসলের জন্য পানি যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি হিসাবের তুলনায় ক্ষতি অনেক বেশি।ধর্মপাশা উপজেলার কৃষক আবুল হোসেন জানান, “আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমার ৩০ কেয়ার জমির ধানের থোড় পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি না নামলে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার বৃষ্টি হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।”ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, “অকাল বৃষ্টিতে কিছু হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আমরা নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পানি দ্রুত নেমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা কমবে। তবে আবারও ভারী বৃষ্টি হলে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।”বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে।

<p><strong>মধ্যনগর-ধর্মপাশার হাওরে বৃষ্টির পানি তলিয়ে দিচ্ছে ফসল,কৃষকরা দুশ্চিন্তায়</strong></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | শফিকুল ইসলাম শফিক |</strong></span></p><p><strong>সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় মার্চ মাসের শেষ দিকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে হাওরাঞ্চলের প্রায় ২৯৫ হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফসল ঘরে তোলার প্রাক্কালে এই অকাল বৃষ্টি কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে।স্থানীয় কৃষকরা জানান, আকাশে এখনো মেঘের আনাগোনা থাকায় তাদের চোখ প্রায়শই আকাশের দিকে। কারণ বোরো ধানই সারা বছরের প্রধান ফসল এবং কৃষকের জীবিকার একমাত্র ভরসা।</strong></p><p>সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক হাওরে এখনো পানি জমে আছে। কৃষকরা মনে করছেন, সরকারি কৃষি বিভাগের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবের তুলনায় বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকলেও মাসের শেষের ভারী বৃষ্টিপাতে নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় মোট ৩১,৯১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সোনাডুবি হাওরে ৫ হেক্টর, শ্যামসাগর হাওরে ৫ হেক্টর, কাতলা বিলে ২ হেক্টর, রুই কাইলানী বিলে ১০ হেক্টর, হারগুর বিলে ৩ হেক্টর, বইন্না হাওরে ৬ হেক্টর, ধরাম হাওরে ৫ হেক্টর, জয়ধনা হাওরে ১২ হেক্টর, ধানকুনিয়া হাওরে ১৪ হেক্টর, মাইন্নার হাওরে ২ হেক্টর, মেধার হাওরে ৮ হেক্টর, শৈল চাপড়া হাওরে ৬ হেক্টর, লাউরির হাওরে ১০ হেক্টর, নয়া বিলে ১৩ হেক্টর, টগার হাওরে ৮০ হেক্টর, কাইনজা বিলে ৮ হেক্টর, হালকুমড়া হাওরে ১০ হেক্টর, বোগা বিলে ৫ হেক্টর, গুরাডোবা হাওরে ২০ হেক্টর, জাংগীয়া হাওরে ৮ হেক্টর, বোয়ালা হাওরে ৭ হেক্টর, বন্যার হাওরে ৫ হেক্টর, শালদীঘা হাওরে ৮ হেক্টর, কালেনী হাওরে ২০ হেক্টর, গুরমা হাওরে ১২ হেক্টর এবং ফাসোয়া হাওরে ১১ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।মধ্যনগর উপজেলার রংচী গ্রামের কৃষক আব্দুল হেলিম বলেন, “এত ভারী বৃষ্টি জীবনে খুব কম দেখেছি। আমাদের ফসলের জন্য পানি যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি হিসাবের তুলনায় ক্ষতি অনেক বেশি।ধর্মপাশা উপজেলার কৃষক আবুল হোসেন জানান, “আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমার ৩০ কেয়ার জমির ধানের থোড় পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি না নামলে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার বৃষ্টি হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।”ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, “অকাল বৃষ্টিতে কিছু হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আমরা নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পানি দ্রুত নেমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা কমবে। তবে আবারও ভারী বৃষ্টি হলে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।”বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে।</p>

জেলার খবর

play storeapp store