ঢাকা, সোমবার, ২২ চৈত্র, ১৪৩২, ৬ এপ্রিল ২০২৬

‎এসপির নজরে আসতেই থামলো প্রতারণার খেলা,অবশেষে ভূমিদস্যু প্রতারক কারাগারে

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪০ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

‎এসপির নজরে আসতেই থামলো প্রতারণার খেলা,অবশেষে ভূমিদস্যু প্রতারক কারাগারে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক |

‎ঢাকার সাভারে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, মারধর, মিথ্যা মামলা ও প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত ভূমিদস্যু মোঃ ফারুক হোসেন (৫০) নামে এক চতুর প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দুই পক্ষের শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।‎এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং পুলিশ সুপারের দৃঢ় ভূমিকার প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা।‎জানা গেছে, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ মিজানুর রহমান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার সরাসরি তদারকিতে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বনগাঁও ইউনিয়নের বলিয়ারপুর পাঁচ আনী এলাকার মোঃ মাইনুদ্দিনের ছেলে।‎মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী মোঃ আমির হামজা অভিযোগ করেন, তার ভাতিজা ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক বসতভিটা দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের পরিবারকে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। একাধিকবার হামলা ও হয়রানির শিকার হয়ে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।

‎অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ফারুক হোসেন ও তার সহযোগীরা লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে আমির হামজার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তার বড় ছেলের স্ত্রী পিংকিকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। হামলায় তার ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন, ছোট ছেলে অভি, স্ত্রী শাহনাজ বেগম এবং কোলে থাকা দুই বছর ছয় মাস বয়সী শিশু জায়ান আহত হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিলে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে তাদের আটকে রেখে আগুন দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।‎পরে পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা খুলে আহতদের উদ্ধার করে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।‎ভুক্তভোগী আমির হামজা আরও অভিযোগ করেন, ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা এবং পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে তিনি ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেন এবং ন্যায়বিচারের আবেদন জানান।‎অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আমলে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে পুলিশ দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং অভিযুক্ত ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।‎এদিকে ফারুক হোসেনের গ্রেপ্তারে ভুক্তভোগী পরিবার এলাকাবাসী ও স্থানীয় সচেতন মহল স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও ভয়ের কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছিল না। পুলিশ সুপারের দৃঢ় ও ন্যায়নিষ্ঠ ভূমিকার ফলে অবশেষে একজন প্রভাবশালী অভিযুক্ত আইনের আওতায় এসেছে।‎ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পুলিশ সুপার স্যার বিষয়টি গুরুত্ব না দিলে আমরা ন্যায়বিচার পেতাম না। এখন আমরা আশা করছি আইনের মাধ্যমে সঠিক বিচার হবে এবং আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারবো।‎এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের ভিত্তিতে ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

<p><strong>‎এসপির নজরে আসতেই থামলো প্রতারণার খেলা,অবশেষে ভূমিদস্যু প্রতারক কারাগারে</strong></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>‎নিজস্ব প্রতিবেদক |</strong></span></p><p><strong>‎ঢাকার সাভারে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, মারধর, মিথ্যা মামলা ও প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত ভূমিদস্যু মোঃ ফারুক হোসেন (৫০) নামে এক চতুর প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দুই পক্ষের শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।‎এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং পুলিশ সুপারের দৃঢ় ভূমিকার প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা।‎জানা গেছে, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ মিজানুর রহমান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার সরাসরি তদারকিতে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বনগাঁও ইউনিয়নের বলিয়ারপুর পাঁচ আনী এলাকার মোঃ মাইনুদ্দিনের ছেলে।‎মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী মোঃ আমির হামজা অভিযোগ করেন, তার ভাতিজা ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক বসতভিটা দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের পরিবারকে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। একাধিকবার হামলা ও হয়রানির শিকার হয়ে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।</strong></p><p>‎অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ফারুক হোসেন ও তার সহযোগীরা লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে আমির হামজার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তার বড় ছেলের স্ত্রী পিংকিকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। হামলায় তার ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন, ছোট ছেলে অভি, স্ত্রী শাহনাজ বেগম এবং কোলে থাকা দুই বছর ছয় মাস বয়সী শিশু জায়ান আহত হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিলে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে তাদের আটকে রেখে আগুন দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।‎পরে পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা খুলে আহতদের উদ্ধার করে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।‎ভুক্তভোগী আমির হামজা আরও অভিযোগ করেন, ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা এবং পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে তিনি ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেন এবং ন্যায়বিচারের আবেদন জানান।‎অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আমলে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে পুলিশ দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং অভিযুক্ত ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।‎এদিকে ফারুক হোসেনের গ্রেপ্তারে ভুক্তভোগী পরিবার এলাকাবাসী ও স্থানীয় সচেতন মহল স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও ভয়ের কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছিল না। পুলিশ সুপারের দৃঢ় ও ন্যায়নিষ্ঠ ভূমিকার ফলে অবশেষে একজন প্রভাবশালী অভিযুক্ত আইনের আওতায় এসেছে।‎ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পুলিশ সুপার স্যার বিষয়টি গুরুত্ব না দিলে আমরা ন্যায়বিচার পেতাম না। এখন আমরা আশা করছি আইনের মাধ্যমে সঠিক বিচার হবে এবং আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারবো।‎এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের ভিত্তিতে ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।</p>

জেলার খবর

play storeapp store