ঢাকা, সোমবার, ২২ চৈত্র, ১৪৩২, ৬ এপ্রিল ২০২৬
রাজনৈতিক ভোলবদল, ক্ষমতার অপব্যবহার ও হুমকির অভিযোগে বিতর্কে রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও তার পরিবার
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
রাজনৈতিক ভোলবদল, ক্ষমতার অপব্যবহার ও হুমকির অভিযোগে বিতর্কে রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও তার পরিবার
সাভার প্রতিনিধি |
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার এক সময় বাউফল উপজেলার ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপির এমপি শহীদুল ইসলাম তালুকদারের আত্মীয় পরিচয়ে তার ছায়াতলে আসেন এবং মদনপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।পরবর্তীতে নানা অনিয়ম, চাল আত্মসাৎ ও লুটপাটের অভিযোগে যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে আবারও রাজনৈতিক ভোল পাল্টে বাউফল পৌর আওয়ামী লীগের কমিটির সদস্য হন। আওয়ামী লীগের এমপি ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের সঙ্গে দীর্ঘ ১৭ বছর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার সঙ্গী হিসেবে অংশ নেন।
গত ৫ আগস্টের পর আবারও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে নিজেকে বিএনপির শহীদুল ইসলাম তালুকদারের আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। পাশাপাশি নিজেকে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও বিআরডিবির সভাপতি দাবি করেন।এ বিষয়ে গত ১৮ মার্চ ‘বাউফল টুডে’-তে ছবি ও কমিটির কাগজসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে, দুটি ফেসবুক আইডি থেকে রফিকুল ইসলাম তালুকদারের পক্ষে অশ্রাব্য ভাষায় ২০টিরও বেশি মন্তব্য করা হয়। এসব মন্তব্যে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক এবং তাদের পরিবারকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দেওয়া হয়।পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই দুটি ফেসবুক আইডি রফিকুল ইসলাম তালুকদারের বড় মেয়ে সানজিদা ইসলাম জেসমিনের। তিনি বাউফল পরিবার পরিকল্পনা অফিসে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে আইরিশ স্ক্যানের মাধ্যমে ডিজিটাল হাজিরা জালিয়াতির অভিযোগে ধরা পড়লে বিষয়টি বিভিন্ন টিভি চ্যানেল, সংবাদপত্র ও অনলাইনে প্রকাশিত হয় এবং তাকে সেখান থেকে বদলি করা হয়।
তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে ভুক্তভোগীরা প্রথমে ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ৭৭ জনের স্বাক্ষরসহ এবং পরবর্তীতে ২২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে তার অধীনস্থ ১২ জন কর্মচারীর স্বাক্ষরে তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত চলাকালে তার কথিত এক যুগ্মসচিব ‘চাচা’র প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগকারীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনও করা হয়। সানজিদা ইসলাম জেসমিন প্রকাশ্যে দাবি করেন, ওই প্রভাব ব্যবহার করে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন নিজের পক্ষে নিয়ে আসবেন এবং আরও ভালো স্থানে পদায়ন নিশ্চিত করবেন। পরবর্তীতে তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে পদায়ন করা হয়।অভিযোগকারীরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে বাবা-মেয়ে দুজনই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি, হুমকি ও মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি, এমন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং যারা প্রভাব খাটিয়ে এসব কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।
জেলার খবর