ঢাকা, সোমবার, ২২ চৈত্র, ১৪৩২, ৬ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজারের ভুয়া ফেসবুক আইডির মিথ্যা মামলা,চাঁদাবাজি ও হয়রানিতে বিপাকে সর্বস্তরের মানুষ

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

মৌলভীবাজারের ভুয়া ফেসবুক আইডির মিথ্যা মামলা,চাঁদাবাজি ও হয়রানিতে বিপাকে সর্বস্তরের মানুষ

মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার প্রতিনিধি |

মৌলভীবাজার জেলায় মৌলভীবাজার ফেইসবুক ফেইক আইডি ও বিভিন্ন অনলাইন টিভি পেজে ভিত্তিহীন, অপব্যবহার দিন দিন উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সম্মানহানিকর পোস্ট, বিকৃত মন্তব্য ও কৃত্রিম স্ক্রিনশট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। কিছু সংখ্যক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেজ খুলে নিজেদের মতো করে সংবাদ পরিবেশন করছেন। যার অধিকাংশেরই কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, প্রবাসী ও শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে নারীদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে কুৎসা রটানো হচ্ছে, যা সামাজিকভাবে মারাত্মক হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আইনি জটিলতা ও সামাজিক লজ্জার ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

সচেতন মহলের মতে, একটি টিভি সম্প্রচারে নিয়ে আসতে শতকোটি টাকা ইনভেস্ট করতে হয় এবং পত্রিকা চালাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করতে হয়। তাছাড়া টিভি ও পত্রিকায় নিউজ প্রচার করতে হলে কয়েকধাপ পেরিয়ে সেটা সম্প্রচার হয় বা ছাঁপা হয়। কিন্তু ফেইসবুকে নিজেই সব, কোনও যাচাই বাচাই করতে হয়না। ভিউ বানিজ্যের জন্য একটি এনড্রোয়েড ফোন থাকলেই যথেষ্ট। কিন্তু ফেইসবুক বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করেই যে কেউ সহজে সংবাদ প্রচার করতে পারছে। যার ফলে ভিউ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় অনেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া একজন ব্যক্তি নিজ নামে কয়েকটা সিম কিনে নামে বেনামে অনেক ফেইসবুক আইডি খোলে বিভ্রান্তি ছড়ায় ও মানসম্মান হেয় করে।স্থানীয়রা জানান, ভুয়া আইডি থেকে ইনবক্সে বা ফোনে যোগাযোগ করে প্রথমে ভয় দেখানো হয়, পরে ‘মামলা থেকে বাঁচাতে’ অর্থ দাবি করা হয়। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অনলাইনে অপপ্রচার আরও বাড়ানো হয়। এতে মানসিক চাপের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ভুক্তভোগীরা।এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমার পরিবারকে নিয়ে ফেইসবুকে একটি মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে আমরা সামাজিক ভাবে বিব্রত ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। এ ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, যাচাই বিহীন সংবাদ প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে গুজব ও অপপ্রচার অনেকাংশে কমে আসবে। তারা বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংবাদ প্রচারের জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা ও নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশনকারী অনলাইন চ্যানেল ও পেজগুলো বন্ধ করা হলে সমাজে গুজব ও বিভ্রান্তি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। অনেক সময় যে কোন ঘটনা নিয়ে ফেইসবুকে লাইভ দেওয়া হয়। যার রেশ অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এবং অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এই লাইভ বন্ধ করা উচিৎ। যারা এটা করবে তাদেরে আইনের আশ্রয় নিয়ে আসতে হবে।প্রবীন সাংবাদিক ও ছড়াকার আব্দুল হামিদ মাহবুবু বলেন, কোন সংবাদ প্রতাশের আগেই ফেইসবুকে নিউজটি ছেড়ে দেওয়া হয়। আর ফেইসবুক টকশো করা হয় তা সম্পুর্ন আইন বিরোধী। এব্যাপারে সরকারের ব্যবস্থা করা উচিৎ।নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, এই সমস্ত ফেইসবুক ও অলাইন টিভির কারনে আমরা সাংবাদিকরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যাই। ফেইক ফেইসবুক আইডি দিয়ে মানসম্মান হেয় করা হচ্ছে। এ ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ, সাইবার পুলিশিং জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: জাফর ইকবাল বলেন, এই সম্স্ত ফেইক আইডি সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানো সহ ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত তরা হয়। এছাড়া কুরুচিপুর্ন লেখে ও ছবি ছাড়া হয়। ফলে ছোট ছেলে মেয়েদের সামনে ফেইসবুক দেখতে লজ্বা লাগে। যা সমাজিক অবক্ষয় হচ্ছে। এ বিষয়ে অনেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এতে কোন প্রতিকার মেলে নি।এব্যাপারে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ভুয়া ফেইস আইডি দিয়ে বিভ্রান্তি ছাড়ানো হয়। এব্যাপারে কেহ যদি জিডি করলে, আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ অনেক সময় সাহায্য করেনা। যার কারনে সব ফেইক আইডি সনাক্ত করা যায়। ভোক্তভুগীরা সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করলে অবশ্য এর একটা প্রতিকার পাওয়া যায়।

<p><strong>মৌলভীবাজারের ভুয়া ফেসবুক আইডির মিথ্যা মামলা,চাঁদাবাজি ও হয়রানিতে বিপাকে সর্বস্তরের মানুষ</strong></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>মনজু বিজয় চৌধুরী | মৌলভীবাজার প্রতিনিধি |</strong></span></p><p><strong>মৌলভীবাজার জেলায় মৌলভীবাজার ফেইসবুক ফেইক আইডি ও বিভিন্ন অনলাইন টিভি পেজে ভিত্তিহীন, অপব্যবহার দিন দিন উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সম্মানহানিকর পোস্ট, বিকৃত মন্তব্য ও কৃত্রিম স্ক্রিনশট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। কিছু সংখ্যক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেজ খুলে নিজেদের মতো করে সংবাদ পরিবেশন করছেন। যার অধিকাংশেরই কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, প্রবাসী ও শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে নারীদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে কুৎসা রটানো হচ্ছে, যা সামাজিকভাবে মারাত্মক হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আইনি জটিলতা ও সামাজিক লজ্জার ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।</strong></p><p>সচেতন মহলের মতে, একটি টিভি সম্প্রচারে নিয়ে আসতে শতকোটি টাকা ইনভেস্ট করতে হয় এবং পত্রিকা চালাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করতে হয়। তাছাড়া টিভি ও পত্রিকায় নিউজ প্রচার করতে হলে কয়েকধাপ পেরিয়ে সেটা সম্প্রচার হয় বা ছাঁপা হয়। কিন্তু ফেইসবুকে নিজেই সব, কোনও যাচাই বাচাই করতে হয়না। ভিউ বানিজ্যের জন্য একটি এনড্রোয়েড ফোন থাকলেই যথেষ্ট। কিন্তু ফেইসবুক বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করেই যে কেউ সহজে সংবাদ প্রচার করতে পারছে। যার ফলে ভিউ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় অনেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া একজন ব্যক্তি নিজ নামে কয়েকটা সিম কিনে নামে বেনামে অনেক ফেইসবুক আইডি খোলে বিভ্রান্তি ছড়ায় ও মানসম্মান হেয় করে।স্থানীয়রা জানান, ভুয়া আইডি থেকে ইনবক্সে বা ফোনে যোগাযোগ করে প্রথমে ভয় দেখানো হয়, পরে ‘মামলা থেকে বাঁচাতে’ অর্থ দাবি করা হয়। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অনলাইনে অপপ্রচার আরও বাড়ানো হয়। এতে মানসিক চাপের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ভুক্তভোগীরা।এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমার পরিবারকে নিয়ে ফেইসবুকে একটি মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে আমরা সামাজিক ভাবে বিব্রত ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। এ ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”</p><p>সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, যাচাই বিহীন সংবাদ প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে গুজব ও অপপ্রচার অনেকাংশে কমে আসবে। তারা বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংবাদ প্রচারের জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা ও নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশনকারী অনলাইন চ্যানেল ও পেজগুলো বন্ধ করা হলে সমাজে গুজব ও বিভ্রান্তি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। অনেক সময় যে কোন ঘটনা নিয়ে ফেইসবুকে লাইভ দেওয়া হয়। যার রেশ অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এবং অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এই লাইভ বন্ধ করা উচিৎ। যারা এটা করবে তাদেরে আইনের আশ্রয় নিয়ে আসতে হবে।প্রবীন সাংবাদিক ও ছড়াকার আব্দুল হামিদ মাহবুবু বলেন, কোন সংবাদ প্রতাশের আগেই ফেইসবুকে নিউজটি ছেড়ে দেওয়া হয়। আর ফেইসবুক টকশো করা হয় তা সম্পুর্ন আইন বিরোধী। এব্যাপারে সরকারের ব্যবস্থা করা উচিৎ।নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, এই সমস্ত ফেইসবুক ও অলাইন টিভির কারনে আমরা সাংবাদিকরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যাই। ফেইক ফেইসবুক আইডি দিয়ে মানসম্মান হেয় করা হচ্ছে। এ ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ, সাইবার পুলিশিং জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: জাফর ইকবাল বলেন, এই সম্স্ত ফেইক আইডি সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানো সহ ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত তরা হয়। এছাড়া কুরুচিপুর্ন লেখে ও ছবি ছাড়া হয়। ফলে ছোট ছেলে মেয়েদের সামনে ফেইসবুক দেখতে লজ্বা লাগে। যা সমাজিক অবক্ষয় হচ্ছে। এ বিষয়ে অনেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এতে কোন প্রতিকার মেলে নি।এব্যাপারে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ভুয়া ফেইস আইডি দিয়ে বিভ্রান্তি ছাড়ানো হয়। এব্যাপারে কেহ যদি জিডি করলে, আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ অনেক সময় সাহায্য করেনা। যার কারনে সব ফেইক আইডি সনাক্ত করা যায়। ভোক্তভুগীরা সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করলে অবশ্য এর একটা প্রতিকার পাওয়া যায়।</p>

জেলার খবর

play storeapp store