ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ চৈত্র, ১৪৩২, ৭ এপ্রিল ২০২৬
সরকারি সামাজিক বনায়নের গাছের গোড়ায় কংক্রিট ঢালাই দিয়ে নষ্ট করার অভিযোগে থানায় এজাহার
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
সরকারি সামাজিক বনায়নের গাছের গোড়ায় কংক্রিট ঢালাই দিয়ে নষ্ট করার অভিযোগে থানায় এজাহার
মোহাম্মদ মাসুদ রানা | স্টাফ রিপোর্টার |
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় সরকারি সামাজিক বনায়নের গাছের গোড়ায় কংক্রিট ঢালাই দিয়ে গাছ নষ্ট করার পাঁয়তারা চালানোর অভিযোগে আনোয়ার হোসেন এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে খানসামা থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ২ নং ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া (পূর্ব মৌলভী পাড়া) এলাকার বাসিন্দা মোঃ আনিছুর রহমান খানসামা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এতে একই এলাকার বাসিন্দা ও রয়েল স্টার স্কুলের পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, খানসামা উপজেলা এলজিইডি’র অধীনে টংগুয়া আহলে হাদিস মসজিদ থেকে পুলহাট বাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কের পাশে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়।
এসব গাছ টংগুয়া মৌজার মৌলভী পাড়ার পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে এবং খুদু পাড়ার উত্তর দিকে সড়কের পাশে অবস্থিত। সরকারি এই বৃক্ষগুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং এলাকার পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন তার প্রতিষ্ঠানের নতুন শাখার সামনে সড়কের পাশে থাকা প্রায় ১৬টি আকাশমনি গাছের গোড়ায় কংক্রিট ঢালাই দিয়ে গাছগুলো নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এতে গাছগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং গাছগুলোর জীবনচক্র ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে গাছের গোড়ায় ঢালাই দেওয়ার ফলে গাছের শিকড় পর্যাপ্ত পানি ও বাতাস পাচ্ছে না, যা ভবিষ্যতে গাছগুলো শুকিয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে।ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় দুইজনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—মোঃ সিকান্দার আলী (৫৫) ও মোঃ জিয়াউর রহমান (৪৭)।বাদী আনিছুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একাধিকবার অবগত করা হলে তিনি বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে স্থানীয়ভাবে পরামর্শক্রমে তিনি বাধ্য হয়ে খানসামা থানায় এজাহার দায়ের করেন।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সামাজিক বনায়নের গাছ নষ্ট করা বা ক্ষতিসাধন করা গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ বাংলাদেশ বন আইন, ১৯২৭ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। ওই আইনের বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী সরকারি বনজ সম্পদ ক্ষতিসাধন, গাছ কাটার চেষ্টা বা নষ্ট করার ঘটনায় জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের অভিযোগে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪২৫ ও ৪২৭ ধারায় ‘মিসচিফ’ বা ক্ষতিসাধনের অপরাধে মামলা হতে পারে, যেখানে দোষী প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।পাশাপাশি সরকারি রাস্তার পাশের গাছ বা স্থাপনা নষ্ট করার অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।এ বিষয়ে খানসামা থানা সূত্রে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলার খবর