ঢাকা, বুধবার, ২৪ চৈত্র, ১৪৩২, ৮ এপ্রিল ২০২৬
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে হাওর রক্ষা বাঁধে পাউবো ও প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে গণ-সমাবেশ
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে হাওর রক্ষা বাঁধে পাউবো ও প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে গণ-সমাবেশ
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | শফিকুল ইসলাম শফিক |
হাওর রক্ষা বাঁধে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে গণ-সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন, মধ্যনগর উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি।কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০.০০ ঘটিকায় মধ্যনগর বাজারে শহীদ মিনারের সামনে এ গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের মধ্যনগর উপজেলার আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন হিল্লোল'এর সভাপতিত্বে ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মধ্যনগর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব খসরুজ্জামান কবীর।বক্তব্য রাখেন টগার হাওরের কৃষক-অরুন তালুকদার, সেন্টু রায়, মোজাহিদ, মোক্তার আহমদ, কাইল্যানী হাওরের কৃষক মোঃ বিল্লাল, হারিছ মিয়া, শালদীঘা হাওরের কৃষক সালাম মিয়া, মাইট্রাইন হাওরের আং হেকিম, ছাত্তার মিয়া, বোয়ালা হাওরের কৃষক হেকিম আলী, মাইশাউড়ি হাওরের কৃষক শিতু বাবু, বাইনসাপড়া হাওরের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস, রবিন মিয়া।
অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের জেলা কমিটির সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, সহ সভাপতি ওবায়দুল মুন্সী।আরো বক্তব্য রাখেন মধ্যনগর উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা কবি লেখক আতিকুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিউর রহমান চৌধুরী, সুজিত কানু, সদস্য মেহেদী হাসান মুক্ত প্রমূখ।বক্তারা বলেন, বোয়ালা হাওর, কাইল্যানী হাওর, বাইনসাপড়া হাওর, গুড়মার হাওর, শালদীঘা হাওরসহ অন্যান্য হাওরে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতায় বহু কৃষকের ধান তলিয়ে গেছে, কৃষকরা জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজ উদ্যোগে পাম্প দিয়ে পানি অপসারনের চেষ্টা করছেন, কারো সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে জানান তারা। তারা বলেন তাদের ক্ষতিপূরণ নিরুপন করে দ্রুত ক্ষতিপূণ দিতে হবে, এই উপজেলায় খাল নদী খনন দ্রুত শুরু করতে হবে, বিশেষ করে হোহানির খাল খনন জরুরি, প্রয়োজনীয় জায়গায় সুিচ গেইট নির্মাণ করতে হবে। হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পিআইসি গঠন থেকে শুরু করে কাজের প্রাথমিক পর্যায়েই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিয়মান ছিলো। অতিরিক্ত বরাদ্দ, নিম্নমানের কাজ এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে তারা বলেন, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন নিয়মিতভাবে কাজ করছে।তারা আরও জানান, বিভিন্ন পিআইসি পরিদর্শন করে অনিয়মের তথ্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে কিন্তু দৃশ্যমান কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিতে দেখিনি।পাশাপাশি বক্তারা আরো বলেন অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মানের ফলে সুনামগঞ্জে হাজার হাজার হেক্টর বোরো ফসলি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে, কৃষকরা সেই ধান আর রক্ষা করতে পারবেন কিনা শঙ্কায় আছেন। এই অপরিকল্পিত বাঁধ ও অপ্রয়োজনীয় পিআইসির কারণে কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে, যারা এই অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করতে হবে, এবং সুনামগঞ্জ থেকে তাদের অপসারণ করতে হবে।
জেলার খবর