ঢাকা, বুধবার, ২৪ চৈত্র, ১৪৩২, ৮ এপ্রিল ২০২৬
টেন্ডার ছাড়াই সড়কের ইট অপসারণের চেষ্টা,গঙ্গাচড়ায় ট্রাক আটক
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন
টেন্ডার ছাড়াই সড়কের ইট অপসারণের চেষ্টা,গঙ্গাচড়ায় ট্রাক আটক
শাফিকুজ্জামান সোহেল | রংপুর প্রতিনিধি |
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা বাজারে একটি সরকারি সড়কের ইট খুলে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো প্রকাশ্য টেন্ডার ছাড়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল হুদার নির্দেশে সড়কের ইট অপসারণের চেষ্টা করা হয়। তবে চেয়ারম্যান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, সকালে কয়েকজন শ্রমিক ট্রাকে ইট তুলছিলেন। এ সময় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে শ্রমিকরা জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশেই ইটগুলো নেওয়া হচ্ছে এবং ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হবে।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ফোন দেন। ইউএনও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানালে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী মিলে ট্রাকটি আটক করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা ট্রাক থেকে ইট নামিয়ে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।মন্থনা হাটের ইজারাদার রুবেল মিয়া বলেন, “চেয়ারম্যান আগের দিন বাজারে এসে ইট তোলার কথা বলেন। তবে কোথায় নেওয়া হবে, সে বিষয়ে একেক সময় একেক কথা বলেছেন—কখনো বলেছেন উপজেলায় যাবে, আবার কখনো বলেছেন মসজিদে দেওয়া হবে।মন্থনা বাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মারুফ মিয়া বলেন, শ্রমিকরা টেন্ডারের কথা বললেও কারা টেন্ডার পেয়েছে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। পরে চেয়ারম্যান একটি কাগজ পাঠালেও সেটি তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।এলজিইডির একটি হিসাবপত্রে দেখা গেছে, ওই সড়ক থেকে উদ্ধারযোগ্য পুরোনো ইটের আনুমানিক মূল্য ৩৩ হাজার ৯০৭ টাকা। এতে হাজারের বেশি ইট থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে।অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান সামসুল হুদা বলেন, “সরকারি নিয়ম মেনে তিন মাস আগে নোটিশ টাঙিয়ে নিলাম দেওয়া হয়েছে এবং টাকার জমাও হয়েছে। কিছু ব্যক্তি আমার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেছিল, না দেওয়ায় তারা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। টেন্ডার যারা পেয়েছে, তারাই তাদের লোকজন দিয়ে ইট তুলছিল।” পরে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে কিছু কাগজপত্র দেখান, যাতে ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশ ও একটি ব্যাংক রশিদ রয়েছে।তবে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শাহ মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, “আমাদের দপ্তর থেকে ওই সড়কের ইট বিক্রির জন্য কোনো টেন্ডার দেওয়া হয়নি। তবে সেখানে নতুন করে সিসি ঢালাই কাজের টেন্ডার হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলার খবর