ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ চৈত্র, ১৪৩২, ১০ এপ্রিল ২০২৬
পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছর কে বরণে খাগড়াছড়িতে চলছে বৈসাবি উৎসব-
বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ন
পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছর কে বরণে খাগড়াছড়িতে চলছে বৈসাবি উৎসব-
জীতেন বড়–য়া | খাগড়াছড়ি |
ত্রিপুরা সম্প্রদায় আয়োজন করেছে বৈসু শোভাযাত্রা।পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণে খাগড়াছড়িতে চলছে বৈসাবি উৎসব। এই উপলক্ষে ত্রিপুরা সম্প্রদায় আয়োজন করেছে বৈসু শোভাযাত্রা ও ঐতিহ্যবাহি গড়িয়া নৃত্যের।আজ বৃহঃষ্প্রতিবার সকালে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যান সংসদের আয়োজনে ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের সহযোগিতায় গড়িয়া নৃত্যের মাধ্যমে এই উৎসবের সূচনা করা হয়।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন পাহাড়ের মানুষের জনজীবন, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ধরে রাখতে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করে কাজ করছেন। তিনি সকলে মিলে সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও শান্তির ধারা রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।
পরে বেলুন উড়িয়ে বৈসু’র র্যালির উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা । র্যালিটি টাউন হল মাঠ থেকে শুরু শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সরকারী কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। শোাভা যাত্রায় অংশ নিয়েছে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নানান পেশাজীবির মানুষজন। এ ছাড়া খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরাদের বৈসু ও চৈত্র সংক্রান্তিকে স্বাগত জানিয়ে ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী গরায়া নৃত্য ও বিভিন্ন ডিসপ্লে প্রদর্শন করেছে ত্রিপুরার্ সম্প্রদায়ের লোকজন। বর্ণিল এ সব আয়োজনে সামিল হয় বিভিন্ন বয়সী মানুষ।। দীর্ঘ এক বছরের অপেক্ষা শেষে বৈসু র্যালিতে যোগ দেয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বয়সী মানুষ। এ সময় নিজেদেরঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে শোভাযাত্রকে আরো রঙিন করে তোলে তরুণ-তরুণী ও শিশুরা।অনুষ্টানে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমল বিকাশ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এম এন আবছার,জেলা পরিষদ সদস্য জয়া ত্রিপুরা, সাংবাদিক তরুন কুমার ভট্টাচার্য্য ও এইচ এম প্রফুল-প্রমূখ।এ সময় আয়োজক কমিটির আহবায়ক এডভোকেট শুব্র দেব ত্রিপুরা জানান উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ে বসবাস রত মানুষের মাঝে ঐক্যেও বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে । ত্রিপুরাদের হাজার বছরের নিজস্ব সংস্কৃতি,ভাষা ,সংগীত ,নৃত্যসহ হারানো সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য এমন আয়োজন বলছে আয়োজ করা।তিনি আরো জানান সংস্কৃতির মাধ্যমে ঐক্যের বন্ধন রচিত হওয়ার পাশা পাশি পাহাড়ে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে।চাকমাদের বিজু,মারমাদের সাংগ্রাই ও ত্রিপুরা দের বৈসু উৎসবের সম্মিলিত রূপকে বলা হয় বৈসাবি’।এ উৎসব শুরু হবে আগামী ১২ এপ্রিল চাকমা সম্প্রদায়ের নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে।অন্যান্য জাতিগোষ্ঠির সাথে ত্রিপুরারা বৈসুমা, হারি বৈসু ও বিসিকাতাল নামে তিন দিনব্যাপি বৈসু উৎসব পালন করবে।
জেলার খবর