ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ চৈত্র, ১৪৩২, ১০ এপ্রিল ২০২৬

অকটেন সংকটের মাঝেই চট্টগ্রাম বন্দরে ২৬ হাজার টন অকটেনবাহী জাহাজ

বিশেষ প্রতিবেদন || Special Report

০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন


FacebookLinkedIn
WhatsAppMessenger
News image

অকটেন সংকটের মাঝেই চট্টগ্রাম বন্দরে ২৬ হাজার টন অকটেনবাহী জাহাজ

এনামুল হক রাশেদী | চট্টগ্রাম |

দেশে অকটেন সংকট ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে দুটি জ্বালানিবাহী জাহাজ। এর মধ্যে একটি জাহাজে রয়েছে ২৬ হাজার টন অকটেন এবং অন্যটিতে ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল।বন্দর সূত্র জানায়, মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে আসা অয়েল ট্যাংকার ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের ব্রাভো অ্যাংকরেজে পৌঁছেছে। জাহাজটি বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে ভেড়ার কথা রয়েছে। সেখানে অকটেন খালাস করা হবে।জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ম্যানেজিং পার্টনার মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার ইতোমধ্যে বন্দরের আউটার অ্যাংকরেজে পৌঁছেছে। জাহাজটিতে ২৬ হাজার টন অকটেন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার এটি বার্থিং করার কথা রয়েছে।একই সময়ে ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের আরেকটি জাহাজও চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের চার্লি অ্যাংকরেজে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, দেশে বছরে গড়ে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করা হয়। বাকি জ্বালানি তেল আসে পরিশোধিত অবস্থায় সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে।বিপিসির তথ্যমতে, চলতি এপ্রিল মাসে দেশে প্রায় ৪ লাখ টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা মেটাতে আমদানি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং এ মাসে আরও সোয়া ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে বন্দরে জ্বালানি তেল ও গ্যাস নিয়ে মোট ৩৩টি জাহাজ ভিড়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি জাহাজ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল, আটটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) এবং নয়টি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিয়ে আসে। এদিকে চলতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আরও পাঁচটি জাহাজ বিভিন্ন দেশ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান বন্দর সচিব।বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানিবাহী জাহাজের বার্থিংকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ থেকে তেল ও গ্যাস খালাস করা হয়েছে এবং আরও বেশ কিছু জাহাজ পাইপলাইনে রয়েছে।জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বহুমুখী করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

<p><strong>অকটেন সংকটের মাঝেই চট্টগ্রাম বন্দরে ২৬ হাজার টন অকটেনবাহী জাহাজ</strong></p><p><span style="color: rgb(229, 57, 53);"><strong>এনামুল হক রাশেদী | চট্টগ্রাম |</strong></span></p><p><strong>দেশে অকটেন সংকট ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে দুটি জ্বালানিবাহী জাহাজ। এর মধ্যে একটি জাহাজে রয়েছে ২৬ হাজার টন অকটেন এবং অন্যটিতে ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল।বন্দর সূত্র জানায়, মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে আসা অয়েল ট্যাংকার ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের ব্রাভো অ্যাংকরেজে পৌঁছেছে। জাহাজটি বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে ভেড়ার কথা রয়েছে। সেখানে অকটেন খালাস করা হবে।জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ম্যানেজিং পার্টনার মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার ইতোমধ্যে বন্দরের আউটার অ্যাংকরেজে পৌঁছেছে। জাহাজটিতে ২৬ হাজার টন অকটেন রয়েছে।</strong></p><p>বৃহস্পতিবার এটি বার্থিং করার কথা রয়েছে।একই সময়ে ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের আরেকটি জাহাজও চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের চার্লি অ্যাংকরেজে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, দেশে বছরে গড়ে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করা হয়। বাকি জ্বালানি তেল আসে পরিশোধিত অবস্থায় সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে।বিপিসির তথ্যমতে, চলতি এপ্রিল মাসে দেশে প্রায় ৪ লাখ টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা মেটাতে আমদানি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং এ মাসে আরও সোয়া ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে বন্দরে জ্বালানি তেল ও গ্যাস নিয়ে মোট ৩৩টি জাহাজ ভিড়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি জাহাজ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল, আটটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) এবং নয়টি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিয়ে আসে। এদিকে চলতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আরও পাঁচটি জাহাজ বিভিন্ন দেশ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান বন্দর সচিব।বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানিবাহী জাহাজের বার্থিংকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ থেকে তেল ও গ্যাস খালাস করা হয়েছে এবং আরও বেশ কিছু জাহাজ পাইপলাইনে রয়েছে।জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বহুমুখী করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।</p>

জেলার খবর

play storeapp store