বিজ্ঞাপন
AD
161×600
স্লাইড 1 / 3
বাণিজ্য
রুবেল ইসলাম তাহমিদ
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | সময় বাংলার |
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন
পদ্মা,মেঘনা,ধলেশ্বরী,রজত রেখা,ইছামতী নদী বেষ্টিত মুন্সীগঞ্জ জেলা। আর ভূ খন্ডটি নিচু হওয়ায় এখানকার মানুষের অন্যতম চাহিদা শত শত বছর আগে থেকেই কাঠের ঘর।যুগের পর যুগ ধরেই কাঠ ও টিনের ঘরের চাহিদার কমতি নেই, বিক্রমপুর -মুন্সীগঞ্জ বাসির। প্রাকৃতিক বিপর্যয় ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত হতাহতের পরিমান কমাতে অল্প জমিতে কম খরচে গরম ঠান্ডার প্রাকৃতিক চাহিদার জোগানদার, যা” ইট ও কংকিটের বদলে টিন কাঠের তৈরী ঘর।
তবে বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঘরের প্রচলন শুরু হয় নব্বই দশকে। আর জাপানীরা তৈরি করে আসছিলেন বহু আগে থেকেই যা সিনেমায় দৃশ্যপাট। অনেকে মনে করেন, জাপানের সাথে মিল রেখে বাংলাদেশে কাঠের ঘর তৈরি, আসলে মূলত এখানকার ধনী,গরিব সহ সব শ্রেণীর বসবাসের প্রথম চাহিদা এই কাঠের ঘর।
ঘর গুলো বাহারি নকশা হওয়ায় বাড়ির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। নান্দনিক ডিজাইন ও নকশা করা এক চলা,দো চলা,তিন চলা ও চৌচলা এক একটি ঘরের প্রকার ভেদে মূল্যও হয় কম না।বর্তমানে এক একটি ঘর এক লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাম বা তৈরিতে খরচ হয়।বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জ নদী মাত্রিক দেশ, শূত্র বলছে বসত ভিটা ৪/থেকে ৫বার অন্যত্রে শরিয়ে বসবাস করছেন এ জেলায় বহু পরিবার।
নদী ভাংগনের কবল থেকে সহজেই ঘরগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে স্থাপন করা যায় বলে এক একটি ঘরে কেটে যায় যুগের পর যুগ।নাইজেরিয়ান লোহা, শাল, সেগুন, গজারি, ইউকেলক্টার, কড়ইসহ বিভন্ন জাতের কাঠ ব্যাবহার হয় এ ঘরে। বাহারি রকমের টিন ও বিদেশী প্লেন সিট দিয়ে দৃষ্টি নন্দন ডিজাইন
তৈরি করতে অনেকটা সময় লাগলেও এটি এক যায়গা থেকে অন্য যায়গায় স্থাপন করতে সময় লাগে ১থেকে ৩দিন। ঘরের কাঠে বছর বছর মাইট্যা তেল,কাঠের তেল, রং,ও কাঁচা গাবের রস দিলে কাঠ নষ্ট হয়না যুগের পর যুগেও, ফলে চাহিদা বাড়ছে টিন-কাঠের নকশাখচিত ঘরের এ জেলায়।
২৩/১৩ ফুট একটি ঘর ২৩ বন্ধের বারান্দাসহ যার মূল্য চার থেকে সারে চার লাখ। নকশা,কাঠ, ও নান্দনিকতার কারনে ঘরের মূল্য বেরে, তিন প্রকারের দাম হয়ে থাকে প্রচলন বেশিই ২৩বন্ধর ঘরের । প্রকার ভেটে এক থেকে ৫০ লক্ষ টাকার ঘরও তৈরি হয় এ জেলায়, ঘরগুলো কয়েক বছর ব্যাবহারের পরেও বিক্র করা যায় কিছু টাকা মূল্যের ব্যাবধানে।
ঐতিহ্যবাহী টিন-কাঠের নকশাখচিত ঘর মৃৎ কিংবা তাঁতের মতো শিল্প যেখানে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই করছে এক রকম এখান কার স্থানিয়রা। নকশাখচিত ঘরের চাহিদা বাড়ছে দিনদিন, জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে চাহিদা তৈরি হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায় নদীভাঙনের হুমকিতে থাকা অঞ্চল।
দ্রুত স্থানান্তরযোগ্য এবং টেকসই হওয়ায় ক্রেতারা বেশি কিনছেন ঘরগুলো। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে লাভের পরিমান এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে অনেকের। স্থানান্তরযোগ্য এসব ঘরের দেখা মেলে জেলার প্রায় সব জায়গায়। সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী এবং লৌহজংয়ের কাঠপট্টি, শ্রীনগরের গাজের হাটিতে, ঘর তৈরির যতো কর্মযজ্ঞ। আকৃতি ভেদে একেকটি ঘর তৈরিতে ৬ থেকে ৮ জন শ্রমিকের সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ দিন। কারিগর লিমন বলেন, এসব ঘরের স্থায়ীত্ব ৩০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত।
তবে ইট বালু সিমেন্ট এর দাম চড়া হওয়ায়, তিন/ চার বছর ধরে ঘরের চাহিদা বেড়েছে, আগে মাসে চার থেকে পাঁচটি ঘর বিক্রি হতো। বর্তমানে ১০থেকে ১২টি ঘর বিক্রি হচ্ছে প্রতি মাসে। ঘর তৈরির কারখানায় তৈরির করে রাখা যাচ্ছে না ক্রেতার ভিরে, ভাদ্র,আশ্বিন মাসে চাহিদা থাকে দিগুনে ঘর গুলো বাহারি নকশা হওয়ায় বাড়ির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে।ঘর ব্যবসায়ী রমিজ মিয়া বলেন, চাহিদা বাড়ায় লাভের অংকও বাড়ছে, পাশাপাশি অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। মূলত ঘরের নকশা, নান্দনিকতার জন্য কদর বেশি শুভা পাচ্ছে। সাধারণ থেকে বিত্তবান ও শৌখিন মানুষেরা প্রতিদিন ঘর কিনতে আসেন দুর দূরান্ত থেকে।
দৃষ্টিনন্দন এ ঘরের বেশিরভাগ ক্রেতা ঢাকার পার্ষপত্রি জেলা নারায়নগঞ্জ,কুমিল্লা, চাঁদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর ও কক্সবাজারের। লৌহজং, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ফারজানা ববি মিতু বলেন, ভবিষ্যতে এই খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা ভাবছে প্রশাসন।
জিআই পন্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হউক জেলার কাঠের ঘর এমনটাই প্রত্যাশা মুন্সীগঞ্জ- জেলাবাসীর। সে বিষয় বিবেচনা করে,জি আই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির লক্ষে আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কম বেশি গড়ে উঠেছে ঘরের হাট। লৌহজংয়ের কাটপট্রি,কলাবাগান,নওপাড়াসহ বেশ কিছু এলাকায় রয়েছে ঘরের হাট। এখানে দেশের ভিবিন্ন জেলার পাইকার ও লোকজন আসছে ঘর কিনতে। নিয়ে যাচ্ছে পছন্দের ঘরগুলো। কাঠের ঘর তৈরির জন্য বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা দেশজুড়ে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করছে। বিশেষ করে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কাঠপট্টি ও ঘোড়দৌড় বাজার এলাকা এখন দেশের সবচেয়ে বড় রেডিমেড কাঠের ঘরের হাট হিসেবে পরিচিত।
বিজ্ঞাপন
ADVERTISEMENT
331 × 238 px
স্লাইড 1 / 3
অক্টোবর ২০২৬
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র
শনি
রবি
ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ
প্রথম স্ত্রীর বোনকে বিয়ে,সমালোচনার মুখে তালাকের ঘোষণা মাসুদের
নওগাঁয় শিবলিঙ্গ মূর্তি উদ্ধার গ্রে/প্তা/র ১
পীরগাছায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
খাগড়াছড়িতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত
চৌদ্দগ্রামে আ’লীগের তান্ডবের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল
দক্ষিণাঞ্চলের সাড়াজাগানো তারুণ্যের কবি-রবি ডাকুয়ার কবিতা
কুখ্যাত ই/য়া/বা ব্যবসায়ী ট্রাক থেকে ৬৫০০ পিজ ই/য়া/বা সহ আ/ট/ক