logo

ধর্ম

পতেঙ্গায় লাখো ভক্তের অশ্রুসিক্ত বিদায়,প্রতিমা বিসর্জনে সমাপ্ত হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

০৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন

News image

পতেঙ্গায় লাখো ভক্তের অশ্রুসিক্ত বিদায়,প্রতিমা বিসর্জনে সমাপ্ত হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

চোখের জলে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাল চট্টগ্রামের ভক্তরা। গতকাল বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিকেলে বিজয়া দশমীতে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।দুপুরের পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ থেকে ট্রাকবাহী প্রতিমা নিয়ে ভক্ত-অনুরাগীরা ভিড় করতে শুরু করেন সৈকতে। ঢাক-ঢোলের বাজনা, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পতেঙ্গার আকাশ-বাতাস। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের মিলনমেলায় রূপ নেয় সৈকত এলাকা।

দেবী বিসর্জনের আগে ভক্তরা তেল-সিঁদুর পরিয়ে, পান-মিষ্টি মুখে দিয়ে বিদায় জানান দেবী দুর্গাকে। পূজারীরা একে অপরকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সিঁদুর খেলায় রঙিন হয়ে ওঠে চারপাশ। আবেগে আপ্লুত হয়ে অনেকে অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি।বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোথাও কোথাও বিসর্জনকাজে কিছুটা বেগ পেতে হলেও বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। সৈকতের আশপাশে নিরাপত্তা বলয়ের কারণে শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে বিসর্জন সম্পন্ন হয়।হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবছর দেবী দুর্গা এসেছিলেন গজে (হাতি) চড়ে এবং কৈলাসে ফিরেছেন দোলায় (পালকীতে)। বিশ্বাস করা হয়, গজে আগমন মানে সুখ-সমৃদ্ধি ও শস্যশ্যামলা পৃথিবী। তবে এর সাথে অতি বর্ষণের শঙ্কাও থাকে। আর দোলায় বিদায় ভক্তদের জন্য মহাবিপর্যয় বা মহামারীর পূর্বাভাস হিসেবে ধরা হয়। ভক্তরা এই বিশ্বাস নিয়েই অশ্রুসিক্ত মনে বিদায় জানিয়েছেন দেবীকে।পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. সুলতান আহসান উদ্দীন বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে সাগরে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। সৈকত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। ভক্তরা নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জন দিতে পেরেছেন।”আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি কোস্টগার্ড ও স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করেছেন।চট্টগ্রাম জেলায় এবছর মোট ২ হাজার ২০২টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিমা পূজামণ্ডপ ছিল ১ হাজার ৫৮৫টি এবং ঘট পূজা ৬১৭টি। নগরীতে প্রধান পূজামণ্ডপ জেএম সেন হলসহ ১৬ থানায় মোট ২৯২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি মণ্ডপেই উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা-অর্চনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে।

শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, সামাজিক সম্প্রীতির উৎসবও বটে। পূজা উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরাও অংশ নেন নানা আনুষ্ঠানিকতায়। পূজা মণ্ডপে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের অনন্য নজির স্থাপন করেছে।ভক্ত-অনুরাগীরা জানিয়েছেন, দুর্গোৎসবের এ আনন্দ বছরের অন্য সময়গুলোতেও সমাজে বজায় থাকুক। ভক্তদের ভাষায়—“মা শুধু সুখ নয়, ন্যায়ের বার্তাও দিয়ে গেছেন। আমরা চাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সমাজ ঐক্যবদ্ধ হোক।”পতেঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনের পর সবারই চোখেমুখে ছিল বিষাদের ছাপ। তবে প্রতিশ্রুতি একটাই—“আবার আসিবো মা।”

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ADVERTISEMENT

336 × 400 px

স্লাইড 1 / 3

ক্যালেন্ডার
তারিখ নির্বাচন করুন

জুলাই ২০২৬

সোম

মঙ্গল

বুধ

বৃহ

শুক্র

শনি

রবি


সম্পাদক: প্রকাশক / রুবেল ইসলাম তাহমিদ

ফোন : 01711144421 / 01671112000

ই-মেইল: somoyrubel@gmail.com


somoybanglar  is one of the most popular Bangla online news portals in Bangladesh. We deliver reliable, timely, and in-depth coverage of current affairs, national and international news, special reports, and trending events. With a commitment to accuracy and neutrality, somoybanglar aims to keep readers informed with credible journalism and insightful analysis around the clock.

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

Developed by SoftStation71