মতামত
এফিডেভিটে বিয়ের দাবি ঘিরে বিতর্ক:পীরগাছায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে তরুণীর লড়াই
০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
রংপুরের পীরগাছায় এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে বিয়ের পর স্ত্রীর স্বীকৃতি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নারীর দাবি, বিয়ের পর দীর্ঘদিন একসঙ্গে সংসার করলেও এখন অতিরিক্ত যৌতুক না পেয়ে বিয়েই অস্বীকার করছেন ওই ব্যক্তি। ব্যবসার কথা বলে ইতিমধ্যে তাঁর কাছ থেকে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রহিম বাদশা মিয়া। তিনি উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের মকরপুর গ্রামের মৃত রোস্তম আলীর ছেলে। ভুক্তভোগী নারী আফরোজা বেগম একই উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের পশ্চিম পাঠকশিকড় এলাকার বাসিন্দা।
আফরোজা বেগম জানান, প্রায় এক বছর আগে প্রবাসে থাকাকালীন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রহিম বাদশার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের আশ্বাসে তিনি দেশে ফিরে আসার পর রহিম বাদশা তাঁকে রংপুরে নিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে বিয়ে করেন। এরপর তাঁরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছিলেন।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের পর ব্যবসার অজুহাতে রহিম বাদশা তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন দফায় প্রায় চার লাখ টাকা নেন। সম্প্রতি তিনি আরও টাকার দাবি করেন। অতিরিক্ত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করতেই রহিম বাদশা তাঁকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করতে শুরু করেন এবং টাকা না দিলে সংসার করবেন না বলে জানিয়ে দেন।আফরোজা বলেন, "টাকা না পেয়ে সে আমাকে মারধরও করেছে। অধিকার আদায়ের জন্য আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। মামলা করার পর সে কাবিন রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা সম্পন্ন করেনি, উল্টো আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে রহিম বাদশা মিয়া বলেন, "আফরোজা বেগমের সঙ্গে আমার কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক হয়নি। তাঁর সব দাবি মিথ্যা। প্রকৃত সত্য আদালতেই প্রমাণ হবে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুন রাতে আফরোজা বেগমের বাড়িতে রহিম বাদশাকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে আটকে রেখে স্ত্রীর স্বীকৃতির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। খবর পেয়ে পীরগাছা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম বলেন, "ঘটনাটি আমরা অবগত আছি। তবে ভুক্তভোগী নারীর পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালত ও পুলিশের তদন্তাধীন থাকায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঘটনার চূড়ান্ত সত্যতা উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
Asia Post is one of the most popular Bangla online news portals in Bangladesh. We deliver reliable, timely, and in-depth coverage of current affairs, national and international news, special reports, and trending events. With a commitment to accuracy and neutrality, Asia Post aims to keep readers informed with credible journalism and insightful analysis around the clock.
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
Developed by SoftStation71