জাতীয়
থানা মা/ম/লা,আমতলীতে পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হ/ত্যাএইচ এম কাওসার মাদবর
আমতলী উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৯ অপরাহ্ন
বরগুনার আমতলীতে স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর হাসপাতালে মরদেহ রেখে স্বামী ও তাঁর স্বজনরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় স্বামীকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।ঘটনাটি বৃহস্পতিবার রাতে আমতলী উপজেলার হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামে ঘটে।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে গাজীপুর বন্দরের বাসিন্দা বিমল বেপারীর মেয়ে সুপ্রিয়া রানীর সঙ্গে একই গ্রামের গোপাল চন্দ্র হাওলাদারের ছেলে অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সুপ্রিয়ার ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।নিহতের পরিবারের দাবি, গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে অজয় চন্দ্র তাঁর ছোট ভাই উত্তর হাওলাদারের স্ত্রী স্বরনিকার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ বিষয়ে সুপ্রিয়া প্রতিবাদ করলে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো।
অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে স্বামী—স্ত্রীর মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে অজয় চন্দ্র সুপ্রিয়াকে মারধর করেন। মারধরের বিষয়টি সুপ্রিয়া মুঠোফোনে তাঁর মা দেপালী রানীকে জানান। কিছুক্ষণ পর অজয় চন্দ্র শাশুড়িকে ফোন করে জানান, সুপ্রিয়া গলায় ফাঁস দিয়েছেন।পরে স্বামী ও স্বজনরা তাঁকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মোঃ নাজমুল হাসান রাহাত তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর স্বামী ও তাঁর স্বজনরা হাসপাতালেই মরদেহ রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।এ ঘটনায় নিহতের মা দেপালী রানী বাদী হয়ে অজয় চন্দ্র হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার দুপুরে মামলার এক আসামি, অজয় চন্দ্রের বড় বোন রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।নিহত সুপ্রিয়ার ১১ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান ও ১১ মাস বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে।নিহতের মেয়ে মিথিলা অভিযোগ করে বলে, বাবার পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় বাবা আমার মাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।নিহতের মা দেপালী রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার জামাতা তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিল। আমার মেয়ে এর প্রতিবাদ করায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ নাজমুল হাসান রাহাত বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই সুপ্রিয়া মারা গেছেন।আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ADVERTISEMENT
331 × 238 px
স্লাইড 1 / 3
জুলাই ২০২৬
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র
শনি
রবি