বিজ্ঞাপন

AD

161×600

স্লাইড 1 / 3

জেলার খবর

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বনভূমি দখলমুক্ত-উদ্ধার প্রায় ৫ একর

মনজু বিজয়, চৌধুরী

মনজু বিজয়, চৌধুরী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | সিলেট

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

News image
ছবি/ প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জি এলাকায় প্রায় পাঁচ একর বনভূমি দখলমুক্ত করার পর সেখানে রোপণ করা হয়েছে দেশীয় প্রজাতির প্রায় ২ হাজার ৫০০ বৃক্ষের চারা।বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু অবৈধ দখল উচ্ছেদ করলেই বনভূমি রক্ষা সম্ভব নয়। উদ্ধার করা জমি দ্রুত বনায়নের আওতায় এনে এর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং পুনরায় দখলের সুযোগ বন্ধ করাও জরুরি। সেই লক্ষ্যেই কালিঞ্জি এলাকায় পরিকল্পিতভাবে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে।

সিলেট বন বিভাগের রাজকান্দি রেঞ্জের আদমপুর বিটের কালিঞ্জি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ২ দশমিক ০২ হেক্টর, অর্থাৎ আনুমানিক পাঁচ একর বনভূমি দখল করে কমলার বাগান গড়ে তোলার অভিযোগ ছিল। গত ১৬ জুলাই উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে ওই বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়। পরে জমিটি বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।দখলমুক্ত করার পর বনভূমিটি যাতে আবার দখলের কবলে না পড়ে এবং পতিত অবস্থায় পড়ে না থাকে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেখানে বনায়নের উদ্যোগ নেয় বন বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উদ্ধার করা বনভূমিতে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়।বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের পরিচালন ব্যয় খাতের আওতায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বনায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব চারা রোপণ করা হয়। রোপণ করা চারার মধ্যে রয়েছে বহেরা, চাপালিশ, কানাইডিঙ্গা, কালাউঝা, অর্জুন, চিকরাশি, রাতা ও জামসহ বিভিন্ন দেশীয় বৃক্ষপ্রজাতি।

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের আশা, এসব চারা বড় হয়ে উঠলে কালিঞ্জির উদ্ধার করা বনভূমিতে ধীরে ধীরে সবুজ আচ্ছাদন তৈরি হবে। পাশাপাশি পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল তৈরির মাধ্যমে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। গাছপালা মাটি ও পানি সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বনভূমি দখল করে কৃষিজমি, ফলের বাগান কিংবা অন্যান্য স্থাপনা গড়ে তোলা বন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এতে শুধু বনভূমির আয়তন কমে না, স্থানীয় উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে দখলমুক্ত করার পাশাপাশি উদ্ধার করা জমিতে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ রোপণকে দীর্ঘমেয়াদি বন ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজকান্দি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, “বনভূমি জবরদখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা কিংবা বাগান করার সুযোগ নেই। উদ্ধার করা বনভূমি যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়ে বন বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। জবরদখলমুক্ত ভূমিকে দ্রুত বনায়নের আওতায় এনে বনভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন,রাজকান্দি রেঞ্জের আওতাধীন বনভূমিতে জবরদখল প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। ইতোমধ্যে যেসব বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বনায়নের আওতায় আনা হবে। বন রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বনায়ন কার্যক্রমে রাজকান্দি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ, আদমপুর, কামারছড়া ও কুরমা বিটের বিট কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বনকর্মীরা অংশ নেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, বনভূমি শুধু গাছপালার সমষ্টি নয়; এর সঙ্গে মাটি, পানি, উদ্ভিদ, পাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য প্রাণীর একটি পরস্পরনির্ভরশীল বাস্তুতন্ত্র জড়িত। তাই অবৈধ দখল উচ্ছেদের পাশাপাশি উদ্ধার করা জমিতে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে বনভূমির পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনা জরুরি।কালিঞ্জিতে প্রায় পাঁচ একর বনভূমিতে ২ হাজার ৫০০ দেশীয় বৃক্ষের চারা রোপণের উদ্যোগটি সেই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ারই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এসব চারা টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা, নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগটি দীর্ঘমেয়াদে আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ULTRA

বিজ্ঞাপন

ADVERTISEMENT

331 × 238 px

স্লাইড 1 / 3

ক্যালেন্ডার
তারিখ নির্বাচন করুন

সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোম

মঙ্গল

বুধ

বৃহ

শুক্র

শনি

রবি