বিজ্ঞাপন
AD
161×600
স্লাইড 1 / 3
জাতীয়
মনজু বিজয়, চৌধুরী
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | সিলেট
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন
মৌলভীবাজারে মৃত্যুর ৩৫ বছর পর মৃত ৩ ভাই কবর থেকে উঠে দলিল রেজিস্ট্রারী করে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। দলিলে ব্যবহৃত ছবিতে মিল পাওয়া যাচ্ছেনা দাতাগনের চেহেরা। বিষয়টি নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের নাতি মো: রুবেল মিয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগের ভিক্তিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নেমেছেন মাঠে তদন্তে। তাদের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
জানা যায়, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) তদন্ত রিপোর্ট ও বাদীর অভিযোগে জানাযায়, মৌলভীবাজার সদরের ঘাগটিয়া গ্রামের ফতেপুর মৌজার জে, এল, নং-৮৪, এসএ খতিয়ান নং-৫১৪, দাগ নং- ১৬২১, ১৬২২, আর,এস, খতিয়ান নং-১৩৪, দাগ নং- ১১৫০, ১১৫১ এর. ০৯ শতক মৃত মাছিম উল্লা, মৃত কাছিম উল্লা, মৃত ওয়াছির উল্লা জমির মালিক ছিলেন। এর মধ্যে. ০৪ শতক কবরস্থান।
সদরের দুর্লভপুর এলাকার মৃত আইয়ুব আলীর পুত্র আমির উদ্দিনের মৌলভীবাজার সাব রেজিস্ট্ররী অফিসে ২৪/১১/২০২১ সালে ৫৯৫৮/২১ নং একটি দলিল মৃত মাছিম উল্লা, মৃত ওয়াছির উল্লা ও মৃত কাছিম উল্লাকে দাতা হিসাবে দেখিয়ে রেজিস্ট্রারী দলিল তৈরী করেন। কিন্তু ৯ নং আমতৈল ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যুর সনদপত্রে ১৯৯০ সালে মাছিম উল্লা , ২০০৬ সালে মৃত ওয়াছির উল্লা ও বহু বছর পুর্বে কাছিম উল্লা মৃতুবরন করেন বলে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।
পরবর্তীতে আমির উদ্দিন ঔই জমি মৌলভীবাজার সদর সহকারী ভুমি অফিস থেকে ৮৯১০/২২-২৩ নং নামজারী মামলা করে ৫৯৫৮/২১ দলিল মুলে নিজ নামে নামজারি করেন। পরে তার স্ত্রী রসনা বেগমের নামে ২১/১০/২৪ ইং ৪৯০৫/২৪ নং দলিল মুলে আর,এস, খতিয়ান নং-১৩৪, দাগ নং- ১১৫১ থেকে হেবা দলিল করে দেন। পরবর্তীতে সদর সহকারী ভুমি অফিস থেকে স্ত্রী রসনা বেগমের নামে নামজারী মামলা নং- ২৪২৯ মুলে ২০২৪-২৫ ইং নামজারী করে নেন।
পরবর্তীতে এই বিষয় নিয়ে আদালতে মামলা করেন রুবেল মিয়া। এছাড়াও মৌলভীবাজার সহকারী ভুমি কমিশনার বরাবরে নামজারী বাতিলের জন্য বিবিধ মোকদ্দমা নং- ৩৯/২৫-২৬ করলে সহকারী কমিশনার( ভুমি) শুনানি শেষে ৮৭৬ নং খতিয়ানের ১১৫১ দাগের পুর্বের ১৩৪ খতিয়ানের মালিক কাছিম উল্লা, মাছিম উল্লা ও ওয়াছির উল্লার নামে পুন: বহাল করেন।
ভুক্তভোগী নাতি মো: রুবেল মিয়া বলেন, মৃত দাদাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল দলিল তৈরি করা হয়েছে। ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে জালিয়াত চক্র গোপনে জমির নামজারি বা মিউটেশন করিয়ে নিয়েছে।মৃত দাদাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল দলিল তৈরি করেছে আমির উদ্দিন। ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে জালিয়াত চক্র গোপনে জমির নামজারি বা মিউটেশন করিয়ে নিয়ে পরে তার স্ত্রীর নামে হেবা দলিল করে দেয়। এই পুরো বিষয়টির সাথে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় আইন অমান্যকারী একটি সিন্ডিকেট সরাসরি জড়িত।
এ বিষয়ে স্থানীয়বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একটি মৃত মানুষের জায়গায় কীভাবে রেজিস্ট্রি হয় এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।রুবেল মিয়া নামের এক ব্যক্তির দাদা অনেক আগেই মারা গেছেন। সাব রেজিস্ট্রারী অফিস ও ভুমি অফিসের এই ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরোদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কান্নাভরা কণ্ঠে ন্যায় বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী রুবেলের মা বেদানা বেগম বলেন, মাসিম উল্লা, ওয়াছির উল্লা ও কাছিম উল্লা তিনজন শ্বশুর জীবিত থাকা অবস্থাতেই তারা যেভাবে জমি জরিপ করিয়ে দিয়ে গেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি তার সম্পূর্ণ বিপরীত। "চাচা শ্বশুর, আমার শ্বশুর—তারা মারা গেলেও এখন জীবিত দেখানো হয়েছে! তিনি দুনিয়ার কারও কাছে আর বিচার চান না। কেবল আল্লাহর দরবারে এবং আইনের কাছেই এই অসহায়ত্বের বিচার ও না পাওয়ার বেদনা তুলে ধরছেন।
অভিযুক্ত আমির উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা রয়েছে। তবে সৃষ্ট জাল দলিল সংক্রান্ত বিষয় আমি কিছু জানিনা। এই সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়েছিল। আমি আদালত থেকে জামিন নিয়েছি। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন।মৌলভীবাজার সদর সাব রেজিস্ট্রার ইয়াসমিন সিকদার এর সাথে দেখা করে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, বিষয়টি জেনে বলবেন বলে ২ দিনের সময় নেন। পরবর্তীতে ২ দিন পর বক্তব্যের জন্য গেলে তিনি রাজনগর সাব রেজিস্ট্রারী অফিসে দায়ীত্ব পালনে থাকায় মোবাইল নম্বর ০১৭১৮- ৪৩১২৭১ এর যোগাযোগ করলে রিসিভ করেননি।
মৌলভীবাজার সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার শারমীন বলেন, শুনানির সময়ে দাতার নামের সাথে সংযুক্ত ছবির মিল না থাকার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। তবে যতদূর মনেপড়ে, দাতার আসল চেহারার সাথে দলিলের সংযুক্ত ছবির মিল না পেয়ে পরবর্তীতে ফাইন্যান্সিয়াল জাজমেন্ট বা রায়ের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।দলিল সঠিক ভাবে রেজিস্ট্রি হয়ে থাকলে এবং রেকর্ডিয় মালিকের সাথে দাতার নামের মিল থাকলে সাধারণত নামজারি প্রদান করা হয়ে থাকে।দলিল সম্পাদিত হওয়ার সময় দাতা জীবিত ছিলেন কি না পরবর্তীতে কেউ এমন আপত্তি বা ক্লেম করলে তখন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রয়োজনে এ সংক্রান্ত (মিসকেস) বা মামলা রজু করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
বিজ্ঞাপন
ADVERTISEMENT
331 × 238 px
স্লাইড 1 / 3
সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র
শনি
রবি
ইউপি চেয়ারম্যান সুফি আলম সোহেলের বক্তব্য বিকৃত করে অপপ্রচারের অভিযোগ
মৃ/ত দাদাদের জীবিত দেখিয়ে ভুয়া দলিল ও নামজারির অ'ভি'যো'গ
মধ্যনগরে ২০০ পিস ই/য়া/বা সহ যুবক গ্রে/প্তা/র
নীলফামারীতে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের পুরস্কার বিতরণ
নান্দাইলে পাঁচ বোনের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত ও মা/র/ধ/রে/র অ'ভি''যোগ
তারাগঞ্জে মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি চ্যানেল এস-এর নাজিম
মনপুরায় পল্লী চিকিৎসককে বাসায় ডেকে মা/র/ধ/রে/র অ'ভি'যো'গ!
মাভাবিপ্রবির নতুন ওয়েব পোর্টাল উদ্বোধন ও স্মার্ট কার্ড বিতরণ
ইউপি চেয়ারম্যান সুফি আলম সোহেলের বক্তব্য বিকৃত করে অপপ্রচারের অভিযোগ
মধ্যনগরে ২০০ পিস ই/য়া/বা সহ যুবক গ্রে/প্তা/র
নান্দাইলে পাঁচ বোনের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত ও মা/র/ধ/রে/র অ'ভি''যোগ
মনপুরায় পল্লী চিকিৎসককে বাসায় ডেকে মা/র/ধ/রে/র অ'ভি'যো'গ!
রাঙামাটিতে কোতয়ালী পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮ আ'সা'মি গ্রে/প্তা/র
পীরগাছায় পূর্ববিরোধের জেরে পুকুরে বি/ষা/ক্ত ট্যা'ব'লে'ট,থানায় লিখিত অ'ভি'যো'গ
১২০ পিস ই/য়া/বা সহ আন্তঃজেলা মা/দ/ক কারবারি চক্রের তিন সদস্য গ্রে/ফ/তা/র
শেরপুরে মা/দ/কা/স/ক্ত ভাতিজার দা/য়ে/র কো/পে চাচি নি/হ/ত,আ/ট/ক এক