বিশ্ব
আগামী পাঁচ বছরে স্বর্ণের দাম হতে পারে দ্বিগুণসময় বাংলার |
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন
বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায় স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। বাজার বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।বাজারসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ মার্কিন ডলার। বর্তমানে তা ৪ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি, অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম সুদের হারের কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বেশি ঝুঁকছেন। এর ফলে বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম আরও বেড়েছে।
জার্মানির ডয়চে ব্যাংকের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, চীন, রাশিয়া, ভারত ও তুরস্কসহ কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাপক হারে স্বর্ণ কিনছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বর্ণের অংশ বাড়াচ্ছে।ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৮ হাজার মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন ডলারের দুর্বলতা, সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বড় পরিসরে স্বর্ণ ক্রয়।
পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো বিকল্প সম্পদে বিনিয়োগ বাড়লেও অনেক বিনিয়োগকারী ঝুঁকি কমাতে পোর্টফোলিওতে স্বর্ণের অংশ বাড়াচ্ছেন।তবে ভবিষ্যতে স্বর্ণের দামের গতিপথ নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে একমত হওয়া যায়নি। ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা যেখানে আগামী কয়েক বছরে দাম দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন, সেখানে জার্মানির ল্যান্ডেসব্যাংক বাডেন-ভুর্টেমবার্গের অর্থনীতিবিদ ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গারের মতে, বর্তমান বাজারে এমন উল্লম্ফনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী চালিকা শক্তি এখনো তৈরি হয়নি।অন্যদিকে ডিজেড ব্যাংক মনে করছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ মাসের মধ্যেই প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে স্বর্ণ শুধু অলংকার বা বিলাসপণ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে সম্পদ সুরক্ষা ও বিনিয়োগে ঝুঁকির ভারসাম্য রক্ষায় এটি এখন অন্যতম কৌশলগত আর্থিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই বৈশ্বিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা ও দাম-দুটিই আরও বাড়তে পারে।
বিজ্ঞাপন
ADVERTISEMENT
331 × 238 px
স্লাইড 1 / 3
জুলাই ২০২৬
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র
শনি
রবি