জেলার খবর

পীরগাছায় প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল: অবাধে চলছে অবৈধ ড্রেজার
সময় বাংলার |

সময় বাংলার |

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

News image
ছবি: // প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ৮ নম্বর কান্দি ইউনিয়নের মাঝিপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে গড়ে উঠেছে এক বেপরোয়া অবৈধ বালু উত্তোলন সিন্ডিকেট। অনুমোদনহীন ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু তোলার ফলে আশপাশের গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কৃষিজমি এবং একটি প্রাচীন কবরস্থান খালের পেটে তলিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা বাধা দিলেও থামানো যাচ্ছে না এই বালুখেকোদের। উল্টো যেকোনো সময় সেখানে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পীরগাছার বিভিন্ন এলাকায় নদীর পাশাপাশি ফসলি জমি ও পুকুর খননের নামে শ্যালো ও বড় বড় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিনরাত তোলা হচ্ছে বালু। বিশেষ করে তিস্তা নদী সংলগ্ন এলাকা, ছাওলা অন্নদানগর ইউনিয়ন এবং কৈকুড়ী এলাকার বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলার উৎসব চলছে। ফলে হুহু করে ভেঙে পড়ছে যোগাযোগের একমাত্র গ্রামীণ মেঠোপথটি এবং বিলীন হচ্ছে পাশের প্রাচীন কবরস্থানটি।

​এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা ড্রেজার চালকদের একাধিকবার বাধা দিলে সাময়িকভাবে বালু তোলা বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পরেই আবারও দ্বিগুণ উদ্যামে চালানো হয় ড্রেজার। স্থানীয় প্রভাবশালী এ বালু সিন্ডিকেটকে কোনো বাধাই থামাতে পারছে না।

​নাম প্রকাশ না করার শর্তে কান্দি এলাকার এক প্রবীণ কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রাস্তার কোল ঘেঁষে পুকুর ও খাল থেকে বড় বড় ড্রেজার দিয়ে দিনরাত বালু তোলা হচ্ছে। চোখের সামনে পাকা ও কাঁচা রাস্তা ধসে যাচ্ছে, কবরস্থানের অংশও ভেঙে পড়ছে। আমরা সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো হুমকির মুখে পড়তে হয়।"

​স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নজরদারির অভাবেই এই সিন্ডিকেট এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবাধে বালু তোলায় শুধু বসতবাড়ি ও ফসলি জমিই নষ্ট হচ্ছে না, সরকারের কোটি টাকার অবকাঠামোও চরম ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

​এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার তারেক তাহসিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন এবং তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে অবৈধ ড্রেজার ও বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু তদন্তের আশ্বাস নয়—অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নিলে পুরো এলাকা নদী ও খালের পেটে তলিয়ে যাবে।

S23 ULTRA

বিজ্ঞাপন

ADVERTISEMENT

331 × 238 px

স্লাইড 1 / 3

ক্যালেন্ডার
তারিখ নির্বাচন করুন

জুলাই ২০২৬

সোম

মঙ্গল

বুধ

বৃহ

শুক্র

শনি

রবি