জেলার খবর

তিস্তার তাণ্ডবে সর্বস্ব হারিয়ে পাউবোর দ্বারে গঙ্গাচড়ার মানুষ
শফিকুজ্জামান

শফিকুজ্জামান

গংগাচড়া রংপুর প্রতিনিধি।

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন

News image
ছবি: / প্রতিনিধি

‎তিস্তার ভয়াবহ নদীভাঙনে ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ। ভাঙন রোধে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলা ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

‎রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে রংপুর নগরীর আলমনগরে অবস্থিত পাউবো কার্যালয়ের সামনে গঙ্গাচড়ার কোলকন্দ, চর মিনাবাজার, চর বাগডোহরা, চর বিনবিনাসহ বিভিন্ন এলাকার শতাধিক বাসিন্দা সমবেত হন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল শেষে কার্যালয় ঘেরাও করে নদীভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানান।

‎বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চলতি বর্ষা মৌসুমে তিস্তার কয়েক দফা ভাঙনে বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শত শত বিঘা আবাদি জমি। নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

‎‎চর মিনাবাজারের বাসিন্দা আব্দুল গোফ্ফার হোসেন বলেন, নিজেদের অর্থায়নে নির্মিত প্রতিরক্ষা বাঁধ এবারের বন্যায় ভেঙে গেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং তাদের বাড়িও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বারবার জানানো হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‎চর বিনবিনার মমিনুর রহমান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে দেওয়া কয়েকটি খালি বস্তায় এলাকাবাসী নিজেদের অর্থে বালু ভরে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। তবে তিস্তার মতো খরস্রোতা নদীর ভাঙন এভাবে রোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকারিভাবে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

‎‎কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মুনতাসীর মামুন বলেন, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে তিস্তা পাড়ের মানুষ চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। দ্রুত জিওব্যাগ না ফেললে আরও অনেক পরিবার সর্বস্ব হারাবে।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষ বছরের পর বছর একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তারা আর আশ্বাস নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এদিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তার উভয় তীরের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। চর বাগডোহরা, মিনাবাজার, বিনবিনা ও কোলকন্দ এলাকার ভাঙনের বিষয়টিও নজরদারিতে রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তার ভাঙনে সর্বস্ব হারাতে হলেও স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের অভাবে একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তাই অস্থায়ী উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিস্তা তীরবর্তী মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ULTRA

বিজ্ঞাপন

ADVERTISEMENT

331 × 238 px

স্লাইড 1 / 3

ক্যালেন্ডার
তারিখ নির্বাচন করুন

জুলাই ২০২৬

সোম

মঙ্গল

বুধ

বৃহ

শুক্র

শনি

রবি