বিজ্ঞাপন

AD

161×600

জেলার খবর

সরকারি দামে সার মিলছে না,হ্যামি এখন কি করমু ?
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

News image
ছবি/ প্রতিনিধি

কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে জন্য সরকার ভর্তুকি দিয়ে সার বরাদ্দ দিচ্ছে, ডিলার সার উত্তোলন করছে কিন্তু ডিলারের ঘরে সার নেই। কেন সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকরা সার পাচ্ছে না এবং কোথাকার সার কোথায় যাচ্ছে সেটা নিয়ে দেখভাল ও নিয়ন্ত্রণকারী স্থানীয় কৃষি বিভাগের তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন সারের ঊর্ধমুখী বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে রাতদিন কাজ করছে।

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় সার বিতরণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নড়বড়ে অবস্থার জন্যই সারের বাজার মূল্য ঊর্ধমুখী ও সরকারি দামে সার পাচ্ছে না বলে কৃষকদের অভিযোগ।এছাড়া স্থানীয় কৃষি অফিসের দায়সারা লোক দেখানো মনিটরিংয়ের সুযোগে কৃষকদের ঘাড়ে সার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম জেঁকে বসেছে। প্রান্তিক কৃষকরা এমনটাই অভিযোগ তুলেছে।তবে কৃষক, ডিলার ও কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে দাম, সরবরাহ ও চাহিদা নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। এমন মুহূর্তেও সারের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাকিমা খাতুন কে একাধিক বার ফোন কল করলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে নওগাঁ কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, রাণীনগরে সারের কোনো ক্রাইসিস নেই। ওখানে সার ব্যবহার করার লোকই নেই। আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া আছে, কোনো অসুবিধা নেই।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে রাণীনগরে ১৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউরিয়া সারের সরকারি মূল্য ১৩৫০টাকা, টি এস পি ১৩৫০ টাকা, ডিএপি ১০৫০ টাকা এবং এম ও পি সারের মূল্য ১০০০ টাকা। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই সারের দাম কৃষকের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির ধাক্কায় উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে কৃষকদের পকেট কাটা প্রায় শেষ দিকে বলে অনেকেই দাবি করছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, উপজেলায় বিসিআইসির ১১ জন এবং বিএডিসির ১৯ জন ডিলার রয়েছেন। বিএডিসি ও বিসিআই ডিলার একযোগে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে পর্যাপ্ত পরিমাণ বরাদ্দ পেয়েছে। এছাড়া বিসিআইসি ডিলারদের জন্য পৃথকভাবে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কৃষকরা প্রশ্ন তুলেছে, ইরি-বোরো মৌসুমের পর জুন ও জুলাইয়ের বরাদ্দের সঙ্গে আগস্টের বরাদ্দও যুক্ত হয়েছে। তাহলে বাজারে সার সংকট কেন ? জুন ও জুলাই মাসের সার কোথায় গেল?

কৃষকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সার বরাদ্দের পর উত্তোলন, মজুত ও বিক্রির ওপর কার্যকর নজরদারি ও বিতরণ ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ না থাকায় শক্তিশালী অসাধু চক্রের প্রভাব তৈরি হয়েছে । সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন ১২ আগষ্ট জরিমানা করার ২৪ ঘণ্টা না হতেই ফের বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, জরিমানার পরও একই অনিয়ম কীভাবে পুনরাবৃত্তি হচ্ছে এবং মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা আসলে কতটা কার্যকর। এলাকা ভেদে বস্তা প্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা সারের দাম বেশি নেয়া হচ্ছে ।সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই দাম উঠানামা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সচেতন কৃষকদের সময়ের দাবি, জরিমানা করে কোনো সমাধান আসবে না। বরং প্রতিটি ডিলারের বরাদ্দ, উত্তোলন, মজুত, বিক্রির রেজিষ্ট্রার সংরক্ষণ করা, যার যার নির্ধারিত স্থানে সার বিক্রি, একজন ডিলারের একাধিক সাইনবোর্ড অপসারণ, সার প্রাপ্তির আগমনী বার্তা থেকে কমপক্ষে ১৫দিন পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে বিতরণ, অপেক্ষাকৃত কম চাহিদার এলাকা থেকে বেশি চাহিদা সম্পন্ন এলাকায় অফিসিয়ালি সমন্বয় করা, নিজের ডিনার নিজে পরিচালনা করা ও একজন ডিলারের অধীনে একাধিক ডিলার না থাকাসহ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে অনেকেই জানিয়েছে।গত বুধবার (১২ আগস্ট) আবাদপুকুর বাজার থেকে পাঁচ বস্তা সার কেনা এক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মেমোতে ৫ হাজার ৭৫০ টাকা লেখা হলেও তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৬ হাজার ৪০০ টাকা। অভিযান করার পরও বেশি দাম নিলো। বেশি নিলে হ্যামি এখন কী করমু ?

করজগ্রাম এলাকার কৃষক ওয়ারিসুল ইসলাম বলেন, সারের দরের জন্য এক বিঘার বেশি জমি চাষ করি না। শুধু খাওয়ার জন্য এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করি।শহিদুল ইসলাম, আব্দুর রহিমসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, গতবার বিঘা প্রতি প্রায় ৪ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। তাদের অভিযোগ টিএসপি ১৬৮০টাকা, ঝুরা পটাশ ১১২০টাকা এবং ডিএপি ১৪০০থেকে ১৫০০টাকা। কোথাও কোথাও টিএসপি এক বস্তার দাম ১৮০০টাকা নেয়া হচ্ছে।খাঁনপুকুর বাজারের মেসার্স সোনার বাংলা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সবুজ হোসেন বলেন, চায়না ডিএপি ১ হাজার ৪৪০, দেশি ডিএপি ১ হাজার ৩৮০, পটাশ ১ হাজার ১৩০ এবং তিউনেশিয়ার টিএসপি ১ হাজার ৯০০ টাকায় কিনতে হয়। তিনি নিজেকে সাব-ডিলার দাবি করে বলেন, বাইরে থেকে সার কিনতে হওয়ায় দাম বাড়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাশিমপুর ইউনিয়নের এক খুচরা সার ব্যবসায়ী জানান , ডিলারদের কাছ থেকে আমাদের ১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকায় দেশী ডিএপি কিনতে হচ্ছে। চায়না ডিএপি ১৪০০ থেকে সাড়ে ১৪৫০টাকা। পটাশ কিনতে হচ্ছে ১১০০টাকায়, টিএসপি ১৬০০টাকায় এবং ইউরিয়া সার কিনতে হচ্ছে ১৩৫০টাকায়।আবাদপুকুর বাজারের ফকির ট্রেডার্সের মালিক শহিদুল ইসলাম ফটিক বলেন, সারের সংকট নেই। বাইরে থেকে সার কেনার কারণে একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।ডিএপি ও টিএসপি সারের দামই বেশি। ডিএপি ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রির কথা স্বীকার করেন।উপজেলা বিএনপি যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নয়ন খান লুলু বলেন, বিএনপি সরকার কৃষি ও কৃষক বান্ধব সরকার। কৃষক যাতে নায্য মূল্যে সার পায়। আর যদি এর কোনো বাত্যয় ঘটে, তাহলে তার কোনো ছাড় নেই।রাণীনগর উপজেলা বিএডিসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি রেজাউল ইসলাম বলেন, বেশি দামে সার বিক্রির সুযোগ নেই। সবাইকে সরকারি মূল্যে বিক্রি করতে বলেছি।রাণীনগর উপজেলা বিসিআইসি সার ডিলারের সভাপতি আব্দুস ছাত্তার শাহ্ কোনো মন্তব্য করতে চান না। তিনি সরাসরি দেখা করে কথা বলতে চান|

ULTRA

বিজ্ঞাপন

ADVERTISEMENT

331 × 238 px

স্লাইড 1 / 3

ক্যালেন্ডার
তারিখ নির্বাচন করুন

আগস্ট ২০২৬

সোম

মঙ্গল

বুধ

বৃহ

শুক্র

শনি

রবি